দোয়া করি তুমি বড়সড় কুলাঙ্গার হইয়া তোমার পিতার মুখ উজ্জ্বল করিও

/ALTERNATES/w300/Untitled-1.jpg” width=”500″ />

এই দেশে বাণিজ্যমেলা, বইমেলা, বস্ত্রমেলা ইত্যাদি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আরও কত মেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। কিন্তু একটি মেলা বাকী আছে। আর সেটি হলো পাগলের মেলা। এই দেশে যে-ভাবে পাগলছাগলের সংখ্যা বাড়ছে—তাতে মনে হয়: দেশে নিয়মিত পাগলের মেলা হওয়া উচিত। পাগল এখন এই দেশের আনাচেকানাচে। এমনকি দেশের সরকারের মন্ত্রী-পাতিমন্ত্রী আর হোমরাচোমরাদের মধ্যেও অনেক বড়-বড় পাগল রয়েছে। আর এরা সরকারি-পাগল! এদের অনেক দাম!

1/ALTERNATES/w640/safi.jpg” width=”500″ />

এই দেশে বাণিজ্যমেলা, বইমেলা, বস্ত্রমেলা ইত্যাদি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আরও কত মেলা চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। কিন্তু একটি মেলা বাকী আছে। আর সেটি হলো পাগলের মেলা। এই দেশে যে-ভাবে পাগলছাগলের সংখ্যা বাড়ছে—তাতে মনে হয়: দেশে নিয়মিত পাগলের মেলা হওয়া উচিত। পাগল এখন এই দেশের আনাচেকানাচে। এমনকি দেশের সরকারের মন্ত্রী-পাতিমন্ত্রী আর হোমরাচোমরাদের মধ্যেও অনেক বড়-বড় পাগল রয়েছে। আর এরা সরকারি-পাগল! এদের অনেক দাম!

আমরা সবার পাগলামি দেখতে পাই না। আর দেখলেও চোখবুজে তা না দেখার ভান করে অন্ধ হয়ে বসে থাকি। এই দেশে এখন অন্ধ হয়ে বসে থাকলেই বেশি সুবিধা। তাইলে, চারপাশের পাগলদের পাগলামি দেখেও হাসি-ঠাট্টা করে জীবনটা কাটিয়ে দেওয়া যায়। আমাদের মনে রাখতে হবে: এই দেশে পাগলছাগলের সংখ্যা অনেক। মাঝে-মাঝে দুই-চারটা ধরা পড়লে তখন সবার দৃষ্টিগোচর হয়। আসলে, দেশে যে কত পাগল! কেউ কি এর হিসাব রেখেছে?

দেশে এখন নামপরিচয়গোত্রহীন ব্যক্তিবর্গ রাজনীতির সুবাদে মন্ত্রী-এমপি হয়ে জাতির বারোটা বাজানোর অপকর্মে নিয়োজিত। পাগলছাগল এখন মন্ত্রী পর্যন্ত হচ্ছে! পাগল-আধাপাগল-মন্ত্রী এখন যেকোনোসময় হাতের কাছেই পাওয়া যায়। আর কতকগুলো ‘অরিজিন্যাল-পাগল’ এমপি পর্যন্ত হয়েছে!

সাম্প্রতিককালে একটি ঘটনা সবার মনে বিরক্তির উদ্রেক করেছে। আর তা হলো: আমাদের বর্তমান স্বরাষ্ট্র-পাতিমন্ত্রীর পুত্র বিশিষ্ট পরহেজগার, আলহাজ্জ, পীরে কামেল (আর শয়তানের মুরীদ) সাফি মোদ্দাসের খান (জ্যোতি-হুজুর) আমাদের নবীজী সা.-কে কটূক্তি করার অভিযোগ এনে এক ব্লগারের ফাঁসি দাবি করেছে। কে কোথায়, কবে, কুরআন-অবমাননা করেছে, নবীজী সা.-কে কী বলেছে, তার নাই ঠিক-ঠিকানা! আর এই বান্দর নওমুসলিম সেজে একজন মানুষের ফাঁসি দাবি করেছে। এতোদিন দেশবাসী—হেফাজতীদের মুখে এইসব কথা শুনেছে। দেশের সাধারণ শিক্ষিত কোনো যুবককে এই নিয়ে কোনো কথা বলতে শুনিনি। কিন্তু দেশের একজন স্বরাষ্ট্র-পাতিমন্ত্রীর পুত্র কীভাবে অন্ধ-গোঁড়া, গোমরাহ, আর ধর্মান্ধদের মতো কথাবার্তা বলে? এদের এতো স্পর্ধা হয় কীভাবে? আর এদের এসব শয়তানীকথাবার্তা বলার কী-ই-বা অধিকার আছে? আর কী-এমন যোগ্যতা এদের? দেশবাসীর সামনে এইসব শয়তানীকথাবার্তা বলে থাকে হেফাজতীশয়তানরা। আর সেই একইকথা বলছে হেফাজতীর অনুসারী সাফি মোদ্দাসের! কী রহস্য? সে কি হেফাজতীদের নাতি নাকি? নইলে, সে কীসের ভিত্তিতে হেফাজতীদের মতো যখন-তখন একজন মানুষকে ‘নাস্তিক’ বলে অভিহিত করে? আবার তার ফাঁসি দাবি করছে! রাষ্ট্র এখন কোথায়? আর দেশের সরকার কি একেবারে অন্ধ-বধির হয়ে গেছে নাকি? এইসব পাগলছাগলকে সরকার চোখে দেখে না? আসলে, এই পাগলগুলো বংশানুক্রমে আমাদের জ্বালিয়ে খাচ্ছে। আসুন, জেনে নেই আমাদের স্বরাষ্ট্র-পাতিমন্ত্রীর ছেলে সাফি মোদ্দাসেরের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত:

পিতার পরিচয়ে সে বর্তমানে একটা বড়সড় ব্যবসায়ী হওয়ার চেষ্টা করছে। সে বংশের বাতি। কারণ, সে স্বরাষ্ট্র-পাতিমন্ত্রীর একমাত্র পুত্রধন। আর এই ধন এখন ইসলামের সেবা করে রাজনীতিতে নামতে চাইছে। আর তাই, সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য একজন ব্লগারের ফাঁসি দাবি করে সে নিজের সস্তা-ঈমানকে এই দেশের সাধারণ গোরুখোর মুসলমানের কাছে বিরাটকিছু হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে।

ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে নাস্তিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে (আসলে, চান্স পায় নাই) বিধায় সে বিএনপি-জামায়েতের পতাকাবাহী ‘ব্রাক’ ও ‘ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটিতে’ পড়ালেখা করেছে! আদর্শ ছেলে বটে! তার বন্ধু-বান্ধবদের অধিকাংশই স্বাধীনতাবিরোধী। এরা বোঝে ব্যবসা আর টাকা আর রাজনীতির নামে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা। সে কার স্বার্থে যেন তার ফেসবুকে একজন ব্লগারের ফাঁসি চায়।

কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের ভার রাষ্ট্রের উপর আর দেশের সরকারের উপর বর্তায়। আর আদালতই প্রমাণ করবে কে অপরাধী। এখানে, একজন স্বরাষ্ট্র-পাতিমন্ত্রীর পুত্র ‘হেফাজতীশয়তানে’ যোগ দিয়ে নিজের খেয়াল-খুশিমতো যা-খুশি তা-ই বলতে পারে না। আর বিষয়টিকে এতো ছোট করে দেখাও ঠিক নয়। এর পিছনে রয়েছে গভীর রহস্য। এরা হেফাজতীদের সঙ্গে মিলেমিশে বাংলাদেশটাকে কী বানাতে চায়?

দেশের স্বরাষ্ট্র-পাতিমন্ত্রীর পুত্র সাফি মোদ্দাসেরের এতো স্পর্ধা কেন? মিডিয়ায় নানাসমালোচনার পর স্বরাষ্ট্র-পাতিমন্ত্রীসাহেব তার ছেলের ফেসবুকের অপপ্রচারসমূহ সরিয়ে ফেলে পরে এটিকে ধামাচাপা দিয়েছে। কিন্তু এর উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিত। আর খতিয়ে দেখতে হবে এরা কারা?

শয়তান কখনও ভালো হয় না—আর ভালো হবেও না। এরা চিরদিন নিজের শয়তানী বহাল রাখবে। এরা আরও শয়তানী করবে তা করুক। কিন্তু আমাদের এইজাতীয় শয়তানদের বিরুদ্ধে জেগে থাকতে হবে। এই শয়তানগুলো মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তির সাইনবোর্ডের আড়ালে নিজেদের শয়তানী চালিয়ে যাচ্ছে, যাবে। তাই, এই শয়তানের উদ্দেশ্যে বলছি: দোয়া করি তুমি বড়সড় কুলাঙ্গার হইয়া তোমার পিতার মুখ উজ্জ্বল করিও।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৬/০১/২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 − 1 =