বাংলাদেশের তথ্যকল্যাণী প্রকল্প জিতলো ‘দ্য বব্স’ অ্যাওয়ার্ড


বাংলাদেশের তথ্যকল্যাণী প্রকল্প ডয়চে ভেলের সেরা অনলাইন অ্যাক্টিভিজম অ্যাওয়ার্ড ‘দ্য বব্স’-এর গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম বিভাগে জুরি অ্যাওয়ার্ড জয় করেছে৷ অন্যদিকে, প্রতিযোগিতার সেরা ব্লগ বিভাগে পুরস্কার জয় করেছেন চীনের বিশিষ্ট ব্লগার লি চেনপেং৷

২০১৩ সালে ডয়চে ভেলে আয়োজিত গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামের বিষয় হলো ‘বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ’৷ ১৭ থেকে ১৯শে জুন বন শহরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে৷ বব্স প্রতিযোগিতায়ও বিষয়টিকে আলাদা বিভাগের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে৷ বাংলাদেশের তথ্যকল্যাণী নামের একটি সামাজিক প্রকল্প এবার এই বিভাগে পুরস্কার জয় করেছে৷

তথ্যকল্যাণী একজন নারী এবং মূলত তথ্যসেবা প্রদান করেন তিনি৷ একজন তথ্যকল্যাণী উপযুক্ত প্রশিক্ষণের পর তাঁর নিজের এলাকায় কাজ করেন৷ তাঁর বাহন হিসেবে থাকে একটি বাইসাইকেল আর তথ্য সুবিধা প্রদানের জন্য ল্যাপটপ এবং বিভিন্ন ছোটখাট চিকিৎসা উপকরণ৷ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডি.নেট-এর নির্বাহী পরিচালক অনন্য রায়হান বলেন, ‘‘বর্তমানে ৭৯ জন তথ্যকল্যাণী বাংলাদেশের ৭টি অঞ্চলে কর্মরত আছেন৷ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরো ২৫০ জন তথ্যকল্যাণীকে নির্বাচন করে মাঠে নামানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে৷’’


গত সপ্তাহে বার্লিনে অনুষ্ঠিত জুরিমণ্ডলীর বৈঠকে বিপুল সমর্থন অর্জন করে তথ্যকল্যাণী প্রকল্পটি৷ জুরিমণ্ডলী মনে করেন, এটি একটি ‘‘বৈপ্লবিক প্রকল্প যার মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাংলাদেশের অতি দরিদ্র মানুষের নাগালে চলে আসছে৷’’

অন্যদিকে, চীনা লেখক ও সাংবাদিক লি চেনপেং দ্য বব্স-এর সেরা ব্লগ পুরস্কার জয় করেছেন৷ চীনের সেন্সরশিপ-বিরোধী আন্দোলনের প্রথম সারিতে তাঁর অবস্থান৷ ‘গোটা বিশ্ব জানে’ নামের বই লিখে কর্তৃপক্ষের রোষের মুখে পড়েছেন তিনি৷ বইয়ের প্রচারের সময় মুখ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল তাঁকে৷ প্রতিবাদে তিনি নিজের লেখা থেকে অংশবিশেষ পাঠের সময়ে পরে নিলেন একটি অক্সিজেন মুখোশ৷ ‘নীরব পাঠ’-এর সেই অনুষ্ঠানে তাঁর পরনে ছিল একটি টি-শার্ট, যাতে লেখা ‘আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি’৷ চীনে সেই অক্সিজেন মুখোশ ও টি-শার্ট হয়ে উঠেছে প্রতিরোধের প্রতীক৷ হাজার হাজার মানুষ বেছে নিয়েছেন সেই পথ৷

পুরস্কারের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জুরিমণ্ডলীর সদস্য ও ব্লগার হু ইয়ং জানালেন, ‘‘লি চেনপেং তরুণ প্রজন্মের কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছেন৷ সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি তাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছেন৷’’

উল্লেখ্য, সেরা অনলাইন অ্যাক্টিভিজম অ্যাওয়ার্ডের ছয়টি মিশ্র বিভাগে জুরি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়৷ এবছর অন্য চারটি জুরি অ্যাওয়ার্ড জয়ী ব্লগ হচ্ছে সেরা সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজম বিভাগে মরক্কোর তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগ ‘৪৭৫’, সেরা উদ্ভাবন বিভাগে চীনের ‘ফ্রিওয়াইবো ডট কম’, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বিভাগে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো-র মানবাধিকার কর্মী ফাবি কুয়াসি এবং সবচেয়ে সৃজনশীল ও মৌলিক উদ্যোগ বিভাগে ইংরেজি ব্লগ ‘মি অ্যান্ড মাই শ্যাডো’৷ দ্য বব্স-এর ১৫ সদস্যের বিচারকমণ্ডলী বার্লিনে বৈঠকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে বিজয়ীদের নির্ধারণ করেছেন৷ প্রতিযোগিতায় বাংলা ভাষার পক্ষে বিচারক ছিলেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী এবং ব্লগার ড. শহীদুল আলম৷

পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ভোটে সেরা উদ্ভাবন বিভাগে ইউজার প্রাইজ জয় করেছে শিক্ষক ডটকম প্রকল্প৷ সেরা বাংলা ব্লগ বিভাগে ইউজার প্রাইজ বিজয়ী শৈলী৷ ‘বাংলা: সেরা অনুসরণযোগ্য’ বিভাগে ইউজার বিজয়ী সাইফ সামির৷ চলতি বছর এই প্রতিযোগিতায় ভোট পড়েছে চুরানব্বই হাজারের বেশি৷

আগামী ১৭ থেকে ১৯ জুন জার্মানির বন শহরে ‍অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে দ্য বব্স এর জুরি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে৷ দ্য বব্স প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: WWW.THEBOBS.COM/BENGALI


যোগাযোগ:
www.thebobs.com/bengali
dw.de/presse
যে কোনো জিজ্ঞাসা: গাব্রিয়েল গনসালেস
ফোন: +49228 429 2684
ই-মেল: [email protected]
facebook.com/dw.thebobs
twitter.com/DW_thebobs

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “বাংলাদেশের তথ্যকল্যাণী প্রকল্প জিতলো ‘দ্য বব্স’ অ্যাওয়ার্ড

  1. বিজয়ীদের শুভেচ্ছা।
    বাংলাদেশের

    বিজয়ীদের শুভেচ্ছা।
    বাংলাদেশের ‘তথ্যকল্যানী প্রকণ্প’ পুরুস্কার পাওয়ায় ‘ডি-নেট’কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 3