কুকুরের জন্য নাকি নতুন আন্দোলন চলছে? সত্যি?

একটি অনলাইন পত্রিকা হতে জানলাম যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রতিদিন বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করছে, যার প্রতিবাদে ফেসবুক এখন উত্তাল! ইত্যাদি !!

যারা বেওয়ারিশ কুকুর হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন করছেন, তাদের অনুরোধ করছি, হয়ঃ

অ. মালিকানাবিহীন এই ‘নেড়ি’ কুকুরগুলোকে নিজের বাসায় আশ্রয় দিন,
আ. অথবা, অনুগ্রহপূর্বক কুকুরগুলোকে বলবেন যেন পাবলিকের বাড়ির আশেপাশে বা চলাচলের পথে এসে যেন ল্যাট্রিন না করে,
ই. যদি শেষ পর্যন্ত ল্যাট্রিন সেরেই ফেলে, আপনারা এসে তা যেন নিজ দায়িত্বে তা পরিষ্কার করে দিয়ে যান।

পৃথিবীতে সব’চে বেশি কুকুরপ্রীতি সম্ভবত আমেরিকাতে, কিন্তু সেখানে সব পোষা কুকুর। কোন কুকুর নিয়ে কোন আমেরিকান নাগরিক রাস্তায় হাঁটতে বেরুলে যদি সেই কুকুর বেরসিকের মত রাস্তায় ল্যাট্রিন সেরে ফেলে, তবে মালিক-কে তা তাৎক্ষনিক ভাবে নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করতে হয়। নয়তো মোটা অঙ্কের জরিমানা! এমনকি বেওয়ারিশ কুকুরের জন্য কিছু প্রাণী আশ্রম আছে।

আমি নিজেও পশু-পাখির প্রতি খুব ভালবাসা অনুভব করি, তবে যদি মানুষের স্বার্থ লঙ্ঘিত হয়, তবে আগে মানুষের স্বার্থ-ই প্রাধান্য দিবো। আমি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে আহবান জানাবো যেন এই কার্যক্রম অতিদ্রুত ঢাকাতে চালু করে। কুকুরের বিষ্ঠার উপর মাছি বসতেছে, এবং তা উড়ে উড়ে জীবাণু ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধ বাদ দিলাম। আমি জানি না, হাই কোর্ট কোন যুক্তিতে কুকুর নিধনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর আগে মেয়র সাদেক হোসেন খোকার আমলে একজন ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে ঢাকার রাজপথে কুকুর নিধনের প্রতিবাদে মিছিল করেছিলো, এবং তৎকালীন সরকার সেই রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেনি। কেউ কি আছেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে যেতে পারেন? বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র “জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন”। তাই, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী কুকুর রাস্তাঘাটে ঘুরলে তা জনস্বাস্থ্যের বারোটা বাজাবে। এমনকি অনেক কুকুর অনেক সময় মানুষকে কামড়াচ্ছে, এবং যেহেতু বেওয়ারিশ, তাই কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না!

আমার বিকল্প প্রস্তাব হল
ক. কুকুরগুলোকে বন্ধ্যা বানানোর ইনজেকশন দেয়া হোক (সাথে গায়ে ট্যাটু একে দেয়া হোক, যাতে একই মূল্যবান ইনজেকশন দ্বিতীয়বার না পড়ে)
খ. বাংলাদেশ বহুদিন হতে কুমির রপ্তানি করছে। ঠিক তেমনি, কুকুর রপ্তানি শুরু করা যেতে পারে। বাংলাদেশের মানুষ যেরকম মুরগির মাংস আগ্রহ নিয়ে খায় – চিকেন বার্গার, চিকেন রোল, চিকেন ফ্রাই, চিকেন সমুচা – তেমনি পৃথিবীর বেশ কিছু সংস্কৃতিতে কুকুর খুব প্রিয় খাবার। রপ্তানি তালিকায় নতুন আইটেম যুক্ত হবে, কিছু বেকারের চাকরি হবে, কিছু উদ্যোক্তার নতুন সফল বিজনেস শুরু হবে।

আবার-ও বলছি, আমি পোষা কুকুরের বিরুদ্ধে বলছি না, রাস্তাঘাটের বেওয়ারিশ কুকুরের বিরুদ্ধে বলছি।

কার কি মতামত

ধন্যবাদ,
তাওহীদুর রহমান ডিয়ার

সূত্র
১. কুকুরের মাংস খাবার হিসেবে ( https://en.wikipedia.org/wiki/Dog_meat )
২. কুমির রপ্তানি শুরু ( গুগলে যেয়ে “কুমির রপ্তানি শুরু” লিখে সার্চ দিলে প্রচুর লিঙ্ক পাবেন )
৩. অনলাইন পত্রিকা, যার নিউজ পড়ে এই লেখা লিখলাম ( https://goo.gl/N7dVk4 , https://goo.gl/VbN6RB )

* আমার এই লেখাটি ফেসবুকেঃ https://www.facebook.com/tawhidurrahmandear/posts/10211288514146095

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1