প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প Vs. মহিলা জিহাদি !

ডোনাল্ড জন ট্রাম্প । একজন সাধারন আমেরিকান নাগরিক এবং ব্যবসায়ী থেকে এখন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট । খুবই হতাশ করেছেন মিডিয়াকে , মুসলমানকে , মুসলমানের আল্লাহ কে । দেখিয়ে দিয়েছেন যে, কে কার চেয়ে বেশী শক্তিশালী । কার নৈতিক জোর বেশী ছিল এবং আছে । প্রায় পুরো আমেরিকান এবং মুসলিম দেশগুলোর মিডিয়া যাকে গোনায় ধরেই নি বরং পাগল বলে উপহাস করেছে সেই পাগলই এখন “প্রেসিডেন্ট অব দি ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা” !!

••••• প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতদিন ছিলেন শুধুই আমেরিকান নাগরিক ও ব্যবসায়ী । এখন তিনি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট । নিজ দেশ আমেরিকার প্রতি তার দরদ কিংবা ভক্তি অবশ্যই বাংলাদেশি বোমাবাজ নাফিস এর চাইতে হাজার গুন বেশি এবং এটাই স্বাভাবিক । যতই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি থাকুক না কেন এর কোনটিই বাস্তবতা কে এড়িয়ে যায় নি ।

•••• “শান্তিপ্রিয়” মুসলমানদের দুই চক্ষের শত্রু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ! কেন ?? কারন , ট্রাম্প বলেছেন যে উনি মুসলিমদের আমেরিকাতে প্রবেশ আটকাবেন এবং সেই ঘোষনা মোতাবেক রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশ ইতিমধ্যে সাক্ষরিত হয়ে গেছে । প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়-সাতটি মুসলিম দেশ থেকে মুসলিমদের (গ্রিন কার্ড হোল্ডারদেরও) বিমান বন্দরে আটকে দেয়া হচ্ছে ।

••••• ট্রাম্প যেহেতু আমেরিকার রাষ্ট্রপতি সেহেতু উনি উনার দেশে কি করবেন, কাকে ঢুকতে দেবেন কাকে দেবেন না এটা সম্পূর্নই উনার নিজস্ব ব্যপার। কারন আমেরিকা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং এর ক্ষমতাশালী পররাষ্ট্রনীতি পৃথিবীকে উলট পালট করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে । আমেরিকার অভ্যন্তরীন ব্যপার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যারা “হায় হায় বাঁশ কেন দিচ্ছে” রব তুলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করছে তারা ভুলেই যাচ্ছে যে কতটা নির্লজ্জ আর বেশরম হলে পরে “আমারে কেন তার বিয়েতে নিমন্ত্রন করে নি” এটা নিয়ে আলোচনা করে !! হাউ কাম ??

••••• নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির উর্ধে উঠে বাস্তবতা মেনেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছে এবং করে দেখাচ্ছে “হাউ টাফ ইট ইজ গোয়িং টু বি ফর মুসলিমস” । কে চাইবে নাইটক্লাবে বেঘোরে কোন মুসলমানের গুলি খেয়ে মরতে ?? কে চাইবে কুড়ালের কোপ খেয়ে মরতে ট্রেনে ভ্রমনের সময় কোন মুসলমানের হাতে ?? কে চাইবে ? কারা চাইবে ? কেন চাইবে ?? যাদের ইসলামি জোশে মেরে ফেলা হয়েছে প্যারিসে, ফ্লোরিডায়, জার্মানিতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট করে তাদের জীবনের কি কোন মূল্য নাই ?? তাদের মৃত্যুর কারনে কি তাদের মা বাবা কিংবা স্বজনরা কি এখনো দু:খ পাচ্ছে না ??

••••• মুসলমান ঢুকতে দেয়া হবে না আমেরিকায় এটা আমেরিকার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যপার এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য এটা করতে কোনো আপোষ করাটা বোকামি মাত্র । তবে তাজ্জব হয়ে দেখি যে ইরানি কোন অভিনেত্রির অস্কার বয়কটের কথা খবরের কাগজে দেখে !! হাউ ফানি !! এই অভিনেত্রি কি পাজতা খাওয়ায় ব্যস্ত ছিল যেদিন নিশে ট্রাক হামলা চালিয়ে নীরিহ মানুষের রক্তে লাল করা হল নিশের পথ ?? কোথায় ছিল এই শান্তিবেশী সন্ত্রাসী ?? কোন আওয়াজের কথা তো আসে নি , ভাসে নি বাতাসে !!

••••• প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলিমদের আশ্রয় দেয়ার বিপদ আঁচ করতে পেরেই এদের আমেরিকায় প্রবেশ আটকে দিচ্ছেন । কোন খ্রিষ্টান উগ্রবাদি সংগঠন (যেমন, হেফাজত এ খ্রিষ্টানকে) উনি উস্কে দেন নি যেন তারা খ্রিষ্টানদের ধর্মিয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এই গুজব ছড়িয়ে চাপাতির কোপে মগজ বের করে ফেলবে/ফেলছে কোন মুসলিমের ।

••••• কেউ একজন ফেসবুকে লিখে দিল যে আমেরিকার মানুষজন নাকি অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত !! স্মার্ট অবজারভেশন !! পুরাই স্পিকার হইয়া গেলাম !! কিন্তু যে ফেসবুক ব্যবহার করে নিজের কথাগুলো মানুষজনকে জানাচ্ছে সেটা নিশ্চয় “মেইড ইন সৌদি আরবের” কোন প্রোডাক্ট নয়। আমেরিকারই ,আমেরিকানরাই বানিয়েছে । তুমি নির্লজ্জ ব্যবহারকারী মাত্র ।

••••• বাংলাদেশে মহিলা জিহাদির এজিস্টে হেফাজতের আল্ট্রা মডার্ন ইসলামের সৈনিকেরা প্রায় সাড়ে তিন বছর চাপাতির কোপে মানুষ হত্যা করেছে । যার সর্বোচ্চ রুপটা দেখা গেছে ২০১৬ সনে । তবে , এ নিয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করলে পরে খুনিদের পক্ষ নিয়ে প্রকাশ্যে দম্ভ করেছে মহিলা জিহাদি । ইসলাম শান্তির ধর্ম , ইসলাম নিয়ে কটুক্তি বরদাশত করবো না , এই সেই কত কি !! আমেরিকা কেন, কেউ ঐসময় নাক গলানোর কিংবা প্রতিবাদ বিরোধীতার কথা ভাবে নি । অনুষ্ঠান বয়কট করে নি কারন ইসলাম শান্তির ধর্ম !! যা হচ্ছে তা ভালোই হচ্ছে !! চাপাতির কোপে অমুসলিম মেরে ফেলা মুসলমানের জন্য ফরজ কাজ !!

••••• প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকান জাতীয়তাবাদ উস্কে দিয়েছেন এবং এটা অনেকটা “হি মেড ইট ইন স্টাইল” এবং ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষ অবশ্যই মিথ্যা কোন কারনে নয় । ওবামা সাপ পুষতে চেয়েছেন কিন্তু ট্রাম্প শান্তির সাপ পুষতে নারাজ ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প Vs. মহিলা জিহাদি !

  1. আমার মনে হয় না এতটা খুশী হয়ে
    আমার মনে হয় না এতটা খুশী হয়ে ট্রাম্পের জুতা পালিশ করার কিছু আছে। বরং ট্রাম্প সারা পৃথিবীতে সমালচিত হচ্ছে বিবেকবান মানুষদের কাছে। অবশ্য এদেশের কথিত মুক্তচিন্তার মানুষরা খুশী হবেই। সুস্থ্য চিন্তা-ভাবনার করার মত মস্তিষ্ক তাদের নাই।

  2. জুতা পালিশ করার কোন লক্ষন
    জুতা পালিশ করার কোন লক্ষন এখানে নেই । উপরন্তু কাউকে শান্তির ধর্মের দোহাই দিয়ে চাপাতির কোপে মেরে ফেলার চাইতে ট্রাম্পের প্রশংসা হাজার গুন ভালো !! আর এই “নয়া বিবেকবান” যারা এখন এবং নির্বাচনের পূর্বে এবং নির্বাচিত হওয়ার পরও ট্রাম্পের সমালোচনা করছে এবং করেছে তারা শান্তির ধর্মের অনুসারী মাত্র । আগামী পোষ্টে নিমপাতার চাইতেও তিতা নিয়ে আসবো অপেক্ষা করুন আপনি ।

    1. আগামী পোষ্টে নিমপাতার চাইতেও

      আগামী পোষ্টে নিমপাতার চাইতেও তিতা নিয়ে আসবো অপেক্ষা করুন আপনি ।

      অপেক্ষা লাগবে না। আমারা ভালভাবেই সেই তিতাটা জানি। সেটা হচ্ছে—
      ওহে ট্রাম্প তুমি সব মুসলমানকে লাত্থি মেরে বের করে দাও। খুব ভাল হয় যদি ক্লাস্টার বোমা মেরে সব মুসলমান মেরে ফেলতে পার। আরো ভাল হয় যদি পারমানবিক বোমা মেরে ২ বিলিয়ন মুসলমান মেরে ফেলতে পার। তোমার পায়ে ধরি। তাহলে শান্তির ধর্মের দোহাই দিয়ে আর কাউকে ওরা মারতে পারবে না।আমরা শান্তিকামী মানুষরা ভাল থাকতে পারব।

  3. তাহলে বলতে চাইছেন যে ট্রাম্প
    তাহলে বলতে চাইছেন যে ট্রাম্প যা করছে তা ভুল , মানবাধিকারের বিরুদ্ধে ?? আর যেভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হিন্দুদের দুই টুকরা করা হচ্ছিল সেটা খুব ভালো কাজ ছিলো ?? ভুয়া পোষ্টের উপর ভিত্তি করে মন্দিরে হামলা লুটপাট প্রতিমার ভাঙচুর এগুলোও ভালো ছিল ??

    তর্ক আমার সাথে না করে যদি ক্ষমতা থকে তবে ট্রাম্পকে মারতে চাপাতি নিয়ে আমেরিকা যান । দুই বিলিয়ন মুসলমানের দুই বিলিয়ন চাপাতি অবশ্যই ক্লাস্টার বোমার চেয়ে শক্তিশালী !

  4. আর হ্যাঁ, ঘর যেহেতু ট্রাম্পের
    আর হ্যাঁ, ঘর যেহেতু ট্রাম্পের সেহেতু ট্রাম্প কাকে রাখবে কাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে, লাথি দিয়ে ঘর থেকে বের করবে এটা ট্রাম্পের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যপার । আপনার লজ্জা নাই দেখে এসব বলতে পারেন । যদিও চাপাতিতে ধার দেয়ার সময় আবার এসব মনে থাকে না ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 − 13 =