মুহাম্মদ কি জড় পুজারি ছিল ? ইসলাম কি জড় পুজা ?

মুহাম্মদ তার প্রাথমিক যুগে মক্কায় ইসলাম প্রচারে সুবিধা করতে না পেরে , মদিনায় চলে যায় তার দলবল সহ। পরে ৬ হিজরীতে মক্কায় হজ্জ করার জন্যে দলবল সহ রওনা দিলে, হুদায়বিয়া নামক স্থানে মক্কাবাসীরা তাকে আটকায় সেখানে হুদায়বিয়ার চুক্তি সম্পাদিত হয়। উক্ত চুক্তির আওতায় মুহাম্মদ নবী হিসাবে নয়, বরং সাধারন মানুষ হিসাবে হজ্জ করতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এর পরের বছর ৭ হিজরীতেই মুহাম্মদ মক্কায় হজ্জ করতে যায়, তখন কাবা ঘরের মধ্যে ছিল কাল পাথর সহ ৩৬০টা মুর্তি। ৯ হিজরীতে মুহাম্মদ মক্কা দখল করে কাবা ঘর থেকে সেই ৩৬০টা মুর্তি সরায়।

মুহাম্মদ তার প্রাথমিক যুগে মক্কায় ইসলাম প্রচারে সুবিধা করতে না পেরে , মদিনায় চলে যায় তার দলবল সহ। পরে ৬ হিজরীতে মক্কায় হজ্জ করার জন্যে দলবল সহ রওনা দিলে, হুদায়বিয়া নামক স্থানে মক্কাবাসীরা তাকে আটকায় সেখানে হুদায়বিয়ার চুক্তি সম্পাদিত হয়। উক্ত চুক্তির আওতায় মুহাম্মদ নবী হিসাবে নয়, বরং সাধারন মানুষ হিসাবে হজ্জ করতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এর পরের বছর ৭ হিজরীতেই মুহাম্মদ মক্কায় হজ্জ করতে যায়, তখন কাবা ঘরের মধ্যে ছিল কাল পাথর সহ ৩৬০টা মুর্তি। ৯ হিজরীতে মুহাম্মদ মক্কা দখল করে কাবা ঘর থেকে সেই ৩৬০টা মুর্তি সরায়।

উক্ত হজ্জের বিষয়টা জানা যায় নিচের সহিহ হাদিস থেকে —-
———————————————————————————————
ওমরা হজ্ব অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৩ :: অধ্যায় ২৭ :: হাদিস ৬
হাসসান ইব্ন হাস্‌সান (র)… কাতাদা (র) থেকে বর্ণিত যে, আমি আনাস (রা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কতবার ‘উমরা আদায় করেছেন? তিনি বললেন, চারবার। তন্মধ্যে হুদায়বিয়ার ‘উমরা যু-কা’দা মাসে মুশরিকরা তাঁকে মক্কা প্রবেশ করতে বাঁধা দিয়ছিল। পরবর্তী বছরের যুল-কা’দা মাসের ‘উমরা, যখন মুশরিকদের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল জী’রানার ‘উমরা, যেখানে নবী (সাঃ) গনীমতের মাল, সম্ভবতঃ হুনায়নের যুদ্ধে বন্টন করেন। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কতবার হজ্জ করেছেন? তিনি বললেন, একবার।
—————————————————————————————–
তার মানে মুহাম্মদ যখন হজ্জ করে , তখন কাবা ঘর কুরাইশদের দখলে ছিল , আর তার মধ্যে ৩৬০ টা মূর্তিসহ কাল পাথর ছিল। মুহাম্মদ সেই মূর্তি ও কাল পাথর ভর্তি কাবা ঘরের চারপাশে ৭ বার তাওয়াফ করে , ও সেই ঘরের সামনে সিজদা দেয়। তার মানে হচ্ছে মুহাম্মদ বস্তুত: সেই কাল পাথর ও ৩৬০ টা মূর্তির সামনেই সিজদা দেয়। পরে ৯ হিজরীতে যখন মুহাম্মদ মক্কা দখল করে , তখন সে কাবা ঘর থেকে উক্ত মূর্তি গুলো অপসারন করলেও কাল পাথরকে অপসারন করে নি ,বরং সেটাকে মহা সম্মানে যথা স্থানে রেখে নিয়মিত তাকে চুম্বন বা স্পর্শ করে নিজের পাপ মোচন করত। তার দেখা দেখি তার অনুসারীরাও সেটা করত। প্রশ্ন হলো – কাল পাথরের কি পাপ মোচনের ক্ষমতা আছে ? সেটা দেখা যাক সহিহ হাদিসে —–
—————————————————————————————
তিরমিজি , হাদিস -৮৭৭: ইবনে আব্বাস বর্নিত, নবী বলেছেন , কাল পাথর যখন বেহেস্ত থেকে পতিত হয় তখন তা দুধের চাইতেও সাদা ছিল। মানুষের পাপ মোচনের ফলে সে কাল হয়ে গেছে।
তিরমিজি, হাদিস -৯৫৯: ওমর বর্নিত , আমি নবীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন , কাল পাথর ও রুক ইয়ামানী উভয়কে স্পর্শ করলে মানুষের পাপ মোচন হয়।
—————————————————————————————
অর্থাৎ মুহাম্মদ নিজেই স্বীকার ও দাবী করছে কাল পাথরের পাপ মোচন করার ক্ষমতা বিদ্যমান। আর তাই মুহাম্মদের দেখান পথেই সারা দুনিয়ার মুসলমান হজ্জ করতে গিয়ে কাল পাথরকে স্পর্শ করার জন্যে উন্মাদ হয়ে যায়, অনেক সময় পদপিষ্ট হয়ে বহু মানুষ মারাও যায়। কিন্তু তাতেও কুছ পরোয়া নেই। কাল পাথর স্পর্শ করে পাপ মোচন করতেই হবে।
কিন্তু আসলে মানুষের পাপ মোচন করার ক্ষমতা একমাত্র কার আছে ? সৃষ্টিকর্তারই সেই পাপ মোচনের ক্ষমতা বিদ্যমান। মুহাম্মদ বলছে কাল পাথরেরও সেই ক্ষমতা আছে। তার মানে মুহাম্মদের কাছে কাল পাথরটাই হলো তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ।

মুসলিমরাই যুক্তি দেয় যে – হিন্দুরা তাদের দেব দেবীর মূর্তি গড়ে তাদের সামনে সিজদা দেয় বা খৃষ্টানরা তাদের যীশুর মূর্তি গড়ে গীর্জায় রেখে তার কাছে মাথা নত করে, সেটা আসলে মূর্তি পুজা ছাড়া আর কিছুই না। যদিও হিন্দু বা খৃষ্টানরা দাবী করে তারা তাদের স্রষ্টার কাছেই মাথা নত করে , কিন্তু মুসলমানরা সেই যুক্তি গ্রহন করতে রাজী না। তাই যদি হয় , সেই একই যুক্তিতে মুহাম্মদ যে ৩৬০ টা মূর্তি সহ কাল পাথর ভর্তি কাবার সামনে সিজদা দিয়ে মাথা নত করল , সেটা কেন মূর্তি ও কাল পাথর পুজা হবে না ?

মুহাম্মদ যেহেতু দাবী করেছিল যে আব্রাহামিক ধর্মের অনুযায়ী সে হলো শেষ নবী , আর পূর্বেকার ধর্ম ইহুদি ও খৃষ্টান, এরা কোন মূর্তি পুজা করত না , তাই মুহাম্মদ যখন কাবা ঘর দখল করে , ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে নিজেকে নবী প্রমানের জন্যে কাবা থেকে ৩৬০ টা মূর্তি ঠিকই সরিয়ে ফেলে কিন্তু সেই কালপাথরটা সরায় নি , বরং সেটা যে পাপ মোচন করে , সেই বিধান দিয়ে গেছে ও তাকে স্পর্শ করে পাপ মোচনের কায়দাও মুহাম্মদ বলে গেছে, নিজেও সেটা করেছে , যা সুন্নাহ হিসাবে প্রতিটা মুসলমানদের জন্যে পরে পালন করা আবশ্যক হয়ে গেছে। অর্থাৎ মুহাম্মদ আব্রাহামিক ধর্মের ধারায় নিজেকে নবী দাবী করে প্রকারান্তরে মুহাম্মদ কাল পাথর পুজার প্রচলন করে গেছে। কিন্তু মুসলমানরা কখনই এসব নিয়ে চিন্তা না করার কারনে এসব বুঝতে অক্ষম। এখনই কিছু লোক এসে বলবে , কাল পাথরের কোনই ক্ষমতা নেই। এর পক্ষে তারা নিচের হাদিসটা তুলে ধরে —
———————————————————————————–
হজ্ব অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৬ :: হাদিস ৬৬৭
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর (র)… ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বললেন, আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে কখনো আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।

হজ্ব অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৬ :: হাদিস ৬৮০
মুসাদ্দাদ (র)… যুবাইর ইবন ‘আরাবী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হজরে আসওয়াদ সম্পর্কে ইবন ‘উমর (রা)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। সে ব্যক্তি বলল, যদি ভীড়ে আটকে যাই বা অপারগ হই তাহলে (চুম্বন করা, না করা সম্পর্কে) আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, আপনার অভিমত কি? এ কথাটি ইয়ামনে রেখে দাও। আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ফেরেবরী (র) বলেন, আমি আবূ জা’ফর (র)-এর কিতাবে পেয়েছি তিনি বললেন, আবূ ‘আবদুল্লাহ যুবাইর ইবন ‘আদী (র) তিনি হলেন কূফী আর যুবাইর ইবন ‘আরাবী (র) তিনি হলেন বসরী।
———————————————————————————
ওমর বলছে কাল পাথরের নাকি কোন ক্ষমতাই নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো – কার কথা ইসলাম ? মুহাম্মদের কথা , নাকি ওমরের কথা ? কে ইসলামের নবী ? মুহাম্মদ , নাকি ওমর ? যে বিষয়ে মুহাম্মদ বিধান দিয়ে গেছে , সেই বিধান কি আর কেউ বাতিল করতে পারে ? বা সেই বিষয়ে কি কেউ ভিন্ন মত পোষন করতে পারে ? যদি ভিন্ন মত পোষন করে , তাহলে সে কি আর মুসলমান থাকে ? নাকি মুনাফিক বা মুর্তাদ হয়ে যায় ? সুতরাং দেখা যাচ্ছে , মুহাম্মদের বিধানের সাথে ভিন্নমত পোষন করে ওমর বস্তুত: একজন মুনাফিক বা মুর্তাদ হয়ে গেছে। কিন্তু অন্ধ মুমিনরা সেসব কিছুই না বুঝে ওমরের হাদিস তুলে ধরে মুহাম্মদের বিধান রদ করার ঔদ্ধত্য দেখায় ও নিজেরাও মুনাফিক বা মুর্তাাদে পরিনত হয়। কিন্তু সেটা বোঝার মত বোধ তাদের নেই।

ইসলামের মাত্র ২০% এর মত আসছে কোরান থেকে আর বাকী ৮০% ই আসছে সুন্নাহ তথা মুহাম্মদের আদেশ নিষেধ আচার আচরন থেকে। সুন্নাহ জানা যায় সহিহ হাদিস থেকে। সেই সহিহ হাদিসেই মুহাম্মদ স্বয়ং বলেছে কাল পাথরের পাপ মোচনের ক্ষমতা বিদ্যমান তথা সেই কাল পাথরই হলো মুহাম্মদের আল্লাহ। আর ঠিক সেই কারনেই কাল পাথরকে কাবা ঘরের সাথে আটকে রাখা হয়েছে যাতে মুমিনরা সেটা স্পর্শ করে পাপ মোচন করতে পারে ও সবাই কাবা ঘরের কাছে সিজদা দিয়ে কাল পাথরকেই সিজদা দিতে পারে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে – মুহাম্মদ নিজেকে আব্রাহামিক ধর্মের একজন নবী দাবী করে প্রকারান্তরে কাল পাথর পুজা প্রতিষ্ঠা করে গেছে আর সেই কারনেই মুহাম্মদ হলো ১০০% পাথর পুজারি ও ইসলাম হলো ১০০% পাথর পুজা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 − = 16