মার্ক্সের চোখে পুঁজিবাদ

কার্ল মার্ক্স যে পুঁজিবাদের ব্যাখ্যা করেছেন তাতে দেখা যায় রাষ্ট্র এবং ধর্মের যে রক্ষণশীল ব্যবহারিক চরিত্র, তার ভেতরে রয়েছে মানুষকে দাস বানিয়ে রেখে প্রভাবশালীদের উন্নতির এক নীলনকশা। যা মানুষকে অন্ধ করে রেখেছে ধর্মিয় অন্ধবিশ্বাস ও মানষিক দাসত্বের দ্বারা। মানুষের মনোজগতে প্রত্যেকটি ধর্মের ধারণা বংশপরম্পরায় ছোট থেকে প্রতিটি পরিবার তাদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই তা ঢুকিয়ে দেয় এবং ক্রমান্বয়ে শিশু থেকে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তারা শিখে নেয় ধর্ম অনেকগুলো অবধারিত মৌলিক নীতিমালার সমষ্টি যা অবশ্যই তাদের ব্যক্তি জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই অন্ধত্ব তাদের মানষিকভাবে বিকলাঙ্গ করে ও স্বাভাবিক ভাবেই অভ্যস্ত করে দাসত্বে। যেখানে থাকে না তার ব্যক্তিস্বাধীনতা। শিখিয়ে দেওয়া বুলি মুখস্ত করেই আজীবন পার করে দেয় স্বর্গের লোভে। নেই কোন আগ্রহ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ও গ্রহন-বর্জনের প্রয়োজনীয়তা। এই দাসত্বের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে উঠতে তারা যে পারিবারিক ধর্মিয় শিক্ষা কাঁধে বয়ে নিয়ে আসে, একটি সময় দেখা যায় সেখান থেকে বেড়িয়ে আসার মতো মানষিক দৃঢ়তা বা মানষিক সুস্থতা তারা হারিয়ে ফেলে এবং এক একজন হয়ে ওঠে যার যার সম্প্রদায়ের মুখপাত্র এবং অবচেতনেই লালন করে ধর্মিয় মৌলবাদের। ঠিক তখনই মনে জন্ম নেয় অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি হিংসা ও প্রতিপক্ষ ভাবার মতো প্রবণতা। সেখান থেকেই সৃষ্টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হানাহানি, হত্যা ও একের পর এক ধ্বংস। শুরু হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রবল ভয়াল আক্রমণ সংখ্যালঘুর উপর। নিপিড়িত হতে থাকে কোটি অসহায় ও সাধারণ সাদা সিধে মানুষ। এর সাথে রয়েছে রাষ্ট্রীয় পূঁজিবাদের সম্পর্ক। ধর্ম হতে আসে কোটি কোটি ফায়দা, কারন মানুষ খেয়ে হোক বা না খেয়ে দান দিতে সে বাধ্য। ধর্মের নামে কোন কঠিন সত্য শুনতে সে নারাজ। দানের পর দান আর অর্থের প্রাচুর্য সচল রাখছে দুর্নিতির চাকা। মানুষকে ঠকিয়ে একটি পয়সা গ্রহন করা দুর্নিতি, মিথ্যা বলে একটি পয়সা গ্রহন করাও দুর্নিতি, লোভ ও ভয় দেখিয়ে একটি পয়সা গ্রহন করা দুর্নিতি। এই দুর্নিতির দায় কার? রাষ্ট্র এবং ধর্মের। তারাই নাকে দড়ি লাগিয়ে এই অসহাস মানুষগুলোর মাথা বেঁচে খায়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

75 + = 78