প্রসঙ্গ : ধাক্কাধাক্কি


শব্দ ধাক্কা। একটি পক্ষ থেকে যা বাস্তবায়ন হয়। ধাক্কাদানকারীকে/দের পাল্টা ধাক্কা দেয়া হয় তখনই বলা হয় ধাক্কাধাক্কি।
একইভাবে মারামারি, হাতাহাতি ইত্যাদি। যদিও এতো বিশ্লেষণ করে কথাগুলো বলা হয় না। ক্ষেত্র বিশেষ বিশ্লেষণ করাটা জরুরি বলে মনে করি।
এবার আসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রসঙ্গে। তিনি আছেন- এমন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে, যেটি দেশের হৃদপিণ্ড। সেটি কী উনি অনুধাবন করেন? করেন হয়তো। নয়তো পূর্বেকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীদের মতন তুমুল বিতর্কিত, সমালোচিত হয়ে যেতেন। যে ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিককে মারছে, পোশাক ছিরে ফেলেছে, সেটাকে তিনি কীভাবে ধাক্কাধাক্কি হিসেবে বলেন, আমি জানি না কী তার যৌক্তিকতা।

উনি বলার আগে কী একটু ভাবলেন না? কারও সঙ্গে পরামর্শও তো করতে পারতেন। কোথায় সেই জটলায় তো সাংবাদিক পাল্টা কোনো কিছু পুলিশকে করেনি।

যাই হোক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভুল বুঝতে পেরেছেন, সেটা গর্বের বিষয়। তিনি না জেনে অমন মন্তব্য করেছেন বলে সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ভাল কথা। কিন্তু এটা আরও ভয়ংকর। এটা ভয়ংকর সরলতা।

কেন ভয়ংকর? শাহবাগের ঘটনা বৃহস্পতিবার দুপুরের। মন্ত্রী মহোদয় মন্তব্য করলেন শুক্রবার বিকালে। বৃহস্পতিবার ঘটনা ঘটার পরপরই এটি নিয়ে সবদিকে হুলুস্থুল বেঁধে যায়। কী সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, কী গণমাধ্যম। সবদিক গরম হয়ে উঠে। অনলাইন ও টেলিভিশন গণমাধ্যমগুলোয় তাৎক্ষণিক সংবাদ, ফলোআপ সংবাদ প্রচারিত হয় ঘটনার দিনই। প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশ হয় শুক্রবার।

কথা হচ্ছে- বৃহস্পতিবার কী তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেননি? তিনি না হয় মন্ত্রী। তার অনেক অফিসিয়াল সহযোগী আছেন, তারা কী এটি মন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছিলেন? না জানালে কেন জানাননি? জানালে কেন ধাক্কাধাক্কিওয়ালা বাক্য উচ্চারিত হল।

শুক্রবার তো প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, সকাল থেকে পত্রিকা পাঠকের হাতে যেতে থাকে। কথা হচ্ছে- শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে মৌলভীবাজারের শমশেরনগর সিংরাউলী মাঠে দুদিনব্যাপী ‘শমশেরনগর প্রাক্তন ছাত্র পুনর্মিলনী ও পিঠামেলা-২০১৭’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা প্রদানের আগে তিনি কী তিনি অন্ততঃ একটা পত্রিকা নিজ চোখে দেখেননি? ছবিটা দেখেননি? না দেখে কেন এমন মন্তব্য? পত্রিকা পড়ার/দেখার সুযোগ কী ছিল না? দেখে থাকলেও তো এমন মন্তব্য করার যৌক্তিকতা আসে না।

ওই যে, প্রথমদিকে বললাম- ক্ষেত্র বিশেষ বিশ্লেষণ করা জরুরি। উনি একজন মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এটা কোনো রম্য বা ফেলনা চরিত্র নয় যে, যা খুশি, যেখানে খুশি বলে দিলাম আর ল্যাঠা চুকে গেল। কথার কথা হিসেবে কিছু বলাও ভেজাল।
উনি যদি একটু সতর্ক হতেন আজকে ধাক্কাধাক্কি শব্দ নিয়ে হুলুস্থুল হত না সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয়। উনি হাসির পাত্রে পরিণত হতেন না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে একটু সতর্ক হয়ে কথা বললে কী এমন ক্ষতি হত, আমি জানি না, বুঝিও না।

এখন রাস্তা কী? সবকিছু চুকে যাবে। পুলিশ বিভাগের মর্যাদায় কোনো নেতিবাচক ছাপ পড়বে না। পুলিশ-সাংবাদিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজিয়ে থাকবে তিক্ততা ছাড়াই। যদি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়। দৃষ্টান্ত বাদ দিলাম, আইন অনুযায়ী-ই একটা ব্যবস্থা, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আর কিছু বলার নেই।

কিন্তু দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে বাস্তবচিত্র, তাতে ভরসা পাই না। আজকে পুলিশের হাতে সাংবাদিক মার খেয়েছে। যদি দোষীর উপযুক্ত বিচার না হয়, কাল সাংবাদিককে মারবে অন্য পুলিশ বা অন্য পেশার, শ্রেণীর মানুষ। প্রতিষ্ঠিত হবে- সাংবাদিক মারলে কিছু হয় না। এই দায়িত্ব থেকে কে বা কারা নেবেন সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে?

সাংবাদিক ঝুঁকিঝাকি নিয়েই কাজ করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দিয়ে সাংবাদিক কখনও সম্মানের শিখরে আরোহন করেন, কখনও অসম্মানের শূলে চড়েন। এটা ব্যাপার নাহ্। তাই বলে যখন-তখন, যে যেভাবে পারবে, অযৌক্তিক কারণে- এটা তো মেনে নেয়া যায় না। এমন ঝুঁকিও কী সাংবাদিককে নিতে হবে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

55 − = 52