ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ: অঘোষিত তাই আপনি উচ্ছ্বসিত নন!


ঠিক কতখানি ইসলামীকরণ করা হলে আপনি শেখ হাসিনাকে ইসলামী দেশ বানানোর ক্রেডিট দিবেন? এদেশে ইসলামী রাজনীতি যারা করেন তারা অকৃতজ্ঞ মুনাফেক। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে শেখ হাসিনার মত আর কেউ বাংলাদেশকে একটু একটু করে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসতে পারেনি। বাংলাদেশকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় একটু সমস্যা আছে। এতে করে বহির্বিশ্বে নানা রকম প্রতিক্রিয়ার সম্মুখিন হতে পারে। কাজেই যে সংবিধান আর পতাকা রয়েছে তার মধ্যে থেকেই দেশটা পুরোপুরি ইসলামী ভাবধারায় নিতে যেতে পারা একটা বড় ধরণের সাফল্য। একদিন না একদিন বাংলাদেশের ইসলাম পাগল তৌহিদী জনতা এই মহান মুসলিম নারীর শাসনকে স্বীকার করে নিতে হবে এই বলে যে, বাংলাদেশকে সাচ্চা ইসলামী দেশের কাতারে নিয়ে যেতে তিনি আমৃত্যু কাজ করে গেছেন…।

প্রফেসর অজয় রায় স্যার বড় ধরণের একটা মিসটেক করেছেন। তিনি হুশিয়ারি করে বলেছেন, একদিন শেখ হাসিনাকেও মোল্লারা বোরখা পরতে বাধ্য করবে। শ্রদ্ধয় স্যার, পর্দা একজন মুমিনা নারীর জন্য অবশ্যই বাধ্যবাধকতা। আপনার নিশ্চয় মনে আছে ৯৬ সালের নির্বাচনের সময় শেখ হাসিনা ঘোমটার নিচে একটা কালো কাপড় বেধে চুল ঢেকে রাখতেন। এটা ইসলামের নারীর পর্দা করার বিধান। ভবিষ্যতে যদি দেশের ইসলাম প্রেমি জনতার চাপ থাকে মহিলারা রাজনীতি করতে হলে বোরখা পরে করতে হবে তাহলে একজন পরেজগার, তাহাজ্জুতের নামাজি মুমিনা নারীর কেন তাতে আপত্তি থাকবে? এসব যে মোল্লা আর ইসলামপ্রেমি জনতার চাপেই করতে হবে তার কোন মানে নেই। একজন বিশ্বাসী মুসলমান হিসেবে অবশ্যই নিজের ব্যক্তি জীবন ও রাজনীতিতে তার ধর্ম বিশ্বাসের প্রভাব থাকবেই। বইমেলায় কোন ইসলাম বিরোধী বই থাকতে পারবে না- থাকলে পুলিশ ডেকে সেই প্রকাশনীকে ধরিয়ে দিতে সরকার থেকে বলা হয়েছে। স্যার, আপনার নিশ্চয় মনে আছে অভিজিৎ ও আরো কয়েকজন ব্লগার খুন হবার পর বলা হয়েছিল, আমার ধর্ম নিয়ে আজেবাজে কথা লিখলে আমার তো সহ্য হবে না…। আপনি কেমন করে বিশ্বাস করেন একজন তাহাজ্জুতের নামাজি মানুষ ধর্মীয় সংকীর্ণতার উর্ধে উঠে মুক্তচিন্তার পক্ষে দাঁড়াবেন? এটা হয় না। কোন বিশ্বাসী মুসলমানের পক্ষেই সম্ভব নয়। যদি প্রবলভাবে ধার্মীক হয় তাহলে কোনভাবেই সম্ভব নয়। আপনি দেখাতে পারবেন শতকরা ৮০ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত কোন দেশে বাকী ধর্মের মানুষ নিশ্চিন্তে সমঅধিকারে বসবাস করেছে? সে দেশে ধর্ম চেপে বসেনি? নাটক, সিনেমা, সাহিত্য, শিল্প, চিন্তা, মনন, সংস্কৃতি আক্রান্ত হয়নি- দেখাতে পারবেন স্যার?

বাংলাদেশে সশস্ত্র ইসলামী আন্দোলনের কোন ভবিষ্যত নেই এটা প্রায় বলে দেয়া যায়। জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা আইএস এসব দল এখানে পাবলিক সাপোর্ট সেভাবে পাবে না। প্রথম কারণ এই অঞ্চলে ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামীকরণে যতখানি সফলতা এসেছে সবই এসেছে মূলধারা আলেম-ওলামাদের রাজনীতি থেকে। জসিমউদ্দিন রাহমানির মত আলেমদের সশস্ত্র জিহাদ ব্যর্থ হয়েছে বা হবে কারণ মাঠের লড়াইয়ে আহমদ শফী, রাজ্জাক বিন ইউসুফ, সাঈদীরা সফল। তারা এদেশকে ইসলামীকরণে শাসকদের চাপ দিয়ে রাষ্ট্র শাসনে ইসলামকে ধাতব্যে নিয়ে আসতে বাধ্য করতে পেরেছেন। একটা দেশের জেনারেল শিক্ষাক্রম মাদ্রাসার হুজুরদের দিকনির্দেশনা চলে- এটা কতবড় সাফল্য ইসলামী দলগুলোর জন্য সেটা সামনে টের পাওয়া যাবে। প্রক্ষান্তরে আনসারুল্লাহ-জেএমবি গুলশান ম্যাসাকারের মত ঘটনা ঘটিয়ে খুব বেশি ফয়দা লুটতে পারেনি। চরমোনাই হুজুর, আহমদ শফী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ঢাকা শহরকে অচল করে দিতে পারবে। বহু লীগার আহমদ শফীর মুরিদ। সাঈদীর ভক্ত লীগারদের যারা দেখেননি তারা নিজের ড্রয়িংরুম থেকে হয়ত বের হোন না। বাংলাদেশে যেটা হবে সেটা তুলনার দিক থেকে পাকিস্তানকে ধরতে পারি। তবে যেটা হবে সেটা পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাবে। পাকিস্তান একসময় বলবে- যা আছি তা থেকে বাংলাদেশে যেতে চাই না…। অর্থ্যাৎ পাকিস্তানের এখন টেলিভিশন, সিনেমা যদি দেখেন মনে হবে না ওটা তালেবনাদের দখলে, ইসলামী মাইন্ডের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত কোন দেশ। পাকিস্তানে সবই চলে। আফগানিস্থানের তালেবান শাসনে সিনেমা হল বন্ধ করে দেয়ার মত শাসন নয়। কিন্তু সেখানে বালিকা বিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়। ইসলাম অবমাননার অভিযোগে শরীয়া আদালতে বিচার হয় অহরহ। দেশের শিশুরা বড় হয় জিহাদী জোশে। চিন্তায় মননে এরা ইসলামী টেরোরিস্টদের প্রতি সহানুভূতিশীল। সব রকমের মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীলতার বিরোধী। অমুসলিম, ভিন্ন জাতিসত্ত্বার প্রতি বিদ্বেষ ঘৃণা এদের মনে ঢুকিয়ে দিতে রাষ্ট্র সব রকম ব্যবস্থা জারি রেখেছে। বাংলাদেশ এর সবকটাতেই ছাড়িয়ে গিয়ে আলাদা নজির স্থাপন করবে। এর জন্য অবশ্যই আপনাদের একজন মুমিনা নারীকে চিরকাল স্মরণ করতে হবে। নাহলে আপনারা মুনাফেক, ভন্ড মুসলমান হবেন…।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ: অঘোষিত তাই আপনি উচ্ছ্বসিত নন!

  1. স্বাধীনতার ৪৫ বছরে শেখ

    স্বাধীনতার ৪৫ বছরে শেখ হাসিনার মত আর কেউ বাংলাদেশকে একটু একটু করে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসতে পারেনি। বাংলাদেশকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় একটু সমস্যা আছে। এতে করে বহির্বিশ্বে নানা রকম প্রতিক্রিয়ার সম্মুখিন হতে পারে। কাজেই যে সংবিধান আর পতাকা রয়েছে তার মধ্যে থেকেই দেশটা পুরোপুরি ইসলামী ভাবধারায় নিতে যেতে পারা একটা বড় ধরণের সাফল্য।

    সেমি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলেও এখন ছেলেদের মাথায় টুপি পড়া বাধ্যতামূলক – দেশে এর চেয়ে বড় সফলতা আর কি হতে পারে। সাব্বাস শেখ হাসিনা। শুধু ভন্ডামি না করে সোজা সাপটা বললে ভাল হত। অবশ্য এর মাঝেও যে ক্ষমতার রাজনীতি আছে তা বুঝতে পারি আমরা।
    দেশটাকে অন্তর দিয়ে ভালবাসার প্রতিফলন এ লেখা – ধন্যবাদ।

  2. আলহামদুলিল্লাহ। এদেশের মানুষ
    আলহামদুলিল্লাহ। এদেশের মানুষ আরো ধর্মের দিকে ঝুকছে। বিশেষ করে অনলাইনে আপনাদের ইসলাম বিদ্যেষ ছড়াবার পর থেকেই বরং মানুষ বেশী ইসলামের দিকে ঝুকছে। এবং এটা সারা পৃথিবীতেই। সারা পৃথিবীতে বোরকা, হিজাব, মসজিদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

    অজয় রায় আর আপনাদের কান্না-কাটিটা খুবই স্বাভাবিক। আমাদের পাঠ্য বইইয়ে আপনারা ব-তে বাবার বদলে বিবর্তন আর ম-তে মা,মসজিদের বদলে মূর্তি ঢুকাতে চাইছিলেন। সেটা এদেশের মানুষ রুখে দিয়েছে।

    1. চোখ বন্ধ করলে অন্ধকার লাগে
      চোখ বন্ধ করলে অন্ধকার লাগে দেখে এক ভাই মনে করেছিল কেউ তাকে দেখছে না তাই অন্ধকারে রাস্তায় হাগু করতে বসে পরেছে। তার এটা খেয়াল নেই যে সে একা অন্ধকার দেখছে আর সবাই তাকে দেখে মজা নিচ্ছে। ভাইয়ের অবস্থা দেখি অনেকটা সেরকম।২/৩ দিন আগেও অস্ট্রিয়াতে বোরখা পরা হারাম করে দিয়েছে। মুমিন ভাইগো আর আম্রিকা যাইতে হবে না, পথ বন্ধ। কই যে থাকেন ভাই আল্যাই ভাল জানে। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি শরণার্থী মুমিন গন। আল্যা কি এসব দেখে না? নাকি আল্লাও আপনার মতো চোখ বন্ধ করে সব অন্ধকার মনে করতাসে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

50 − 47 =