বর্জ্য পরিণত হচ্ছে আর্শিবাদে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় দৈনিক উৎপাদিত সাড়ে ৩ হাজার টন বর্জ্যের মধ্যে কোন না কোনভাবে ১৬শ’ টন বর্জ্যই থেকে যাচ্ছে। দৈনিক ১ হাজার ৯শ’ টন করে বর্জ্য সিটি করপোরেশনের নিজস্ব বর্জ্য ল্যান্ড ফিল মাতুয়াইলে ফেলা হচ্ছে। ফলে দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে ওই মাঠটি। আগামী এক বছর পর আর বর্জ্য ফেলার স্থান পাওয়া যাবে না। আর যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ১ হাজার ৬শ’ টন বর্জ্য ডিএসসিসি এলাকার বিভিন্ন ডোবা-নালা এবং নদী-খালে গিয়ে ভরাট হচ্ছে। একই সঙ্গে এলাকার পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে এবার বর্জ্য পুড়িয়ে ছাই করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাই নতুন একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের নাম হচ্ছে ‘রিফিউজ ডিরাইভড ফুয়েল’ বা ‘প্রত্যাখ্যাত উদ্ভূত জ্বালানি’। প্রকল্পের মাধ্যমে নগরী থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হবে। সংগ্রহ করা বর্জ্য চলে আসবে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশে। এতে বিদ্যুৎ কিংবা কয়লাজাতীয় দ্রব্য উৎপাদন হবে, যা দিয়ে জ্বালানির চাহিদা মিটবে। ২০১৫ সালে ডিএসসিসি মোট আবর্জনা অপসারণ করে ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৪ টন। সে হিসেবে দৈনিক আবর্জনা অপসারণের গড় ১ হাজার ৮শ’ টন। আর ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবর্জনা অপসারণ করেছে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৩ টন। সেই হিসেবে দৈনিক আবর্জনা অপসারণের গড় ১ হাজার ৯শ’ টনের কিছু বেশি। বিগত এক বছরে ডিএসসিসির আবর্জনা অপসারণ বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে ১শ’ টনের কিছু বেশি। নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ডিএসসিসি গত বছর ৫ হাজার ৭শ’টি মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করে। কিছুদিন যেতে না যেতেই অধিকাংশ বিন ভেঙে গেছে, কিছু চুরি হয়ে গেছে। এসব মিনি ডাস্টবিন নষ্ট হওয়ার পর আর পুনঃস্থাপন করা হয়নি। এমতাবস্থায় প্রত্যাখ্যাত উদ্ভূত জ্বালানি শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় দুটি ফায়ার প্লেস তৈরি করা হবে। একটিতে সাধারণ বর্জ্য এবং অন্যটিতে ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য পোড়ানো হবে। সাধারণ বর্জ্য পুড়িয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মূল বর্জ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এছাড়া ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য পোড়ানোর পর যে নির্যাস থাকবে তা দিয়ে কয়লাজাতীয় দ্রব্য উৎপাদন করা হবে। ব্যবহৃত হবে ‘প্রত্যাখ্যাত উদ্ভূত জ্বালানি’ হিসেবে। এ দ্রব্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বড় বড় ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ঢাকা দক্ষিণের বর্জ্য দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট এবং পরবর্তীতে ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। আর এভাবেই বর্জ্যকে আর্শিবাদে পরিনত করে জনজীবনকে সহজ ও গতিশীল রাখতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বর্জ্য পরিণত হচ্ছে আর্শিবাদে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

91 − = 90