মানবতার ক্ষ্যাতাপুরি, সুশীলতা নিপাত যাক

প্রতিবার সেই একই ডায়লগ: “হুজুর আমাগো অমুক কইয়া আনসে, মাহফিলের কথা কইয়া আনসে।” এক ডায়লগ প্রতিবার শুনতে শুনতে তো পঁইচা গেল। মানলাম মাদ্রাসার পোলাপানের ব্লগ নাই দেখে তারা ইন্টারনেট চালাতে পারে না। কিন্তু তারা যে দল থেকে এসেছে, সেই দলের কার্যক্রম কি হচ্ছে, হতে পারে তার কোনও খবরই একটা কিশোর একদমই রাখে না, এটা অবিশ্বাস্য। এইসব পোলাপান চান্দে সাইদিরে দেখা গেছে সেটা জানে, অথচ জানে না কিসের ভিত্তীতে এই সমাবেশ? মানে বললেন আর আমি সুবিধাবাদি সুশিল সেইটাই বিশ্বাস করলাম?

মানবতাবাদ ভাল, কিন্তু মানবতা যখন অসহায় মানুষ বাদ দিয়া, এক পাল ধ্বংসাত্মক পোলাপানের প্রতি বেশি উথলায়া উঠে তখন সিরিয়াসলি আপনাদের অসহ্য লাগে। ঘুমন্ত-অসহায় আলেম পুলাপানের প্রতি দরদ উথলায়া উঠে আর আপনি পুলিশ আর্মিরে গাইলান। তাদের সরকারের পা চাটা বলে গালি দেন (যদিও সেটাই তাদের কাজ), অথচ আপনার মানবতা জাগে না সেই সব মানুষের জন্যে যাদের সহায় শেষ সম্বলটুকু পুড়িয়ে দেয়া হল কাল। আপনার মানবতা জাগে না সেই মানুষটির জন্যে যে এই দাঙ্গায় পড়ে নিজের কাজ করতে গিয়ে মারা গেল। আপনার মানবতার চুলকানি উঠে হেফাজতি খানকির পোলাদের জন্যে। মারহাবা, বলিহারি মানবতা আপনাদের।

আমার স্ট্যান্ড অনেক আগেই ক্লিয়ার। আমার মানবতা আমার পক্ষের লোকের জন্যে, কিম্বা সত্যিকারের অসহায়ের জন্যে। আমার শত্রুকে আমি গোনায় ধরি না, তার প্রতি মানবতা আমার উথলায় উঠে না। তারা ব্যবহৃত হচ্ছে সেই দায় আমার না, যে তাদের প্রতি আমার মানবতা উথলায় উঠবে। আপনার হুজুর বললো চান্দে সাইদিরে দেখা গেসে, আর আপনিও সেটা বিশ্বাস করলেন এই অযুহাতে যে আপনি সুবিধাবঞ্চিত, আপনি মাদ্রাসায় পড়েন, তাইলে আমার কিসু বলার নাই। বিবর্তন থিওরী, কিম্বা সৃষ্টিকর্তা যাতেই বিশ্বাস করেন, আপনার একটা মগজ আছে, সেটা ব্যবহার করেন।

খুব চুলকানি উঠছে যে রাতের অন্ধকারে পুলিশ কেন হানা দিল? সারাদিন যারা দাঙ্গা হাঙ্গামা চালাইসে, তাতে ক্লিয়ার তারা যুদ্ধেই নামসে। যুদ্ধের কোনও রুলস নাই। হেফাজতের পোস্ট দেখসেন ফেসবুকে? প্রতি আর্মার্ড ট্রাকের জন্যে ১৫-২০টা পেট্রোল বোমা রাখুন, এভাবে বানান, এটা করুন,ওটা করুন আর কত কি! ইসলামের হেফাজতের কোনও কথা তাদের পেজে নাই। আছে নানা ভাবে নাস্তিক ও কাফের মারার তরিকা। বাংলাদেশের সবাই তাদের শত্রু, আর তাই বাংলাদেশী হিসেবে তারা আমাদের শত্রু। সহজ হিসাব। আর যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুরে আদর করে আক্রমন করা হয়, জানা ছিল না।

রাতের অন্ধকারে না হয়ে অপারেশন দিনে হলে কি আপনি খুশি হতেন? মারামারি আক্রমনের দৃশ্য লাইভ টিভিতে দেখতে খুব মজা লাগে না? ভোদাই ম্যালা দেখসি, ছাগুও সয়ে গেছে বিগত বছর গুলির অনলাইন যুদ্ধে, কিন্তু এই মানবতায় ভরা সুশীল খুব বিরক্তিকর লাগতেসে। কোনও দিকেই সাপোর্ট করবে না, অথচ শান্তি চায়। ওরে, মাদার তেরেজা হয়ে যান না! ওহ না, উনিও তো আবার ঈশ্বরের সাপোর্টার ছিলেন। আপনারা তো নিরপেক্ষ।

মাদ্রাসার অনাহারী ছাত্র, ব্যবহৃত হচ্ছে, মাহফিলে আসার কথা ভাবছিল এই অযুহাতে এখন দেশ ধ্বংস করলেও তাদের কিছু বলা যাবে না নাকি? আপনি আঙ্গুল চুষেন, আর দেশ সামলানোর কাজ যাদের, তাদেরকে সেটা করতে দেন। বালের জ্ঞান আমাদের কোনও দিন কাজে লাগে নাই, লাগবেও না।

হেফাজত নিপাত যাক, বাংলাদেশ মুক্তি পাক।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “মানবতার ক্ষ্যাতাপুরি, সুশীলতা নিপাত যাক

  1. আমি মানুষ হয়ে জন্মেছি, মানুষ
    আমি মানুষ হয়ে জন্মেছি, মানুষ থেকেই
    মরতে চাই। আমি নিস্পাপ হয়ে জন্মেছি,
    পাপহীন থেকেই মরতে চাই। হে সমাজ
    আমাকে তোমরা অপরাধী করিও না।
    তোমরা আমাকে এই অপবাদ দিয়ো না যে,
    আমি অপরাধী হয়েই জন্মেছি । কেন
    তোমরা আমাকে দোষ দাও? আমি তো শুধু
    মানুষ হয়েই বাঁচতে চাই।

  2. কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু
    কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো, যেই দশ বার বছরের বাচ্চাগুলোকে মাদ্রাসা থেকে ধরে আনা হয়েছে, তারা কি সেদিন ভাংচুর করেছিল???

    যৌথবাহিনীর অ্যাকশন নিয়ে আমার কিছু বলার নেই, কারণ তাদের হাতে দ্বিতীয় কোন অপশন ছিল না। কিন্তু, গড়পততা সব হেফাজতীকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়াও মানতে পারলাম না…

  3. আপনিও হেফাজতি নাকি ভাই? আপনার
    আপনিও হেফাজতি নাকি ভাই? আপনার এত লাগলো কেন? ব্লগাররা সবাই একই কথায় একমত না হলেও হেপাজতিরা কিন্তু একই বিষয়ে মতিঝিলে এসেছে! সুতরাং ট্যাগ সবার জন্যই একই হওয়া উচিত….

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

93 − = 83