বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণা ও নতুন কমিটি


জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী

গত ২৭ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

টিএসসিতে অবস্থিত স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্ত্বরে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। উদ্বোধন শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শাহাবাগ ঘুরে আর.সি মজুমদার মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন ৩০ টি জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ। পরে আলোচনা অনুষ্ঠান হয় । বক্তব্য রাখেন জাপান, তুরস্ক, ভারত থেকে আগত লেখকসহ প্রগতি লেখক সংঘের অন্যান্যরা। মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিকেলে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয় । কাউন্সিলে নতুন কমিটি নির্বাচন করা হয়।


অধিবেশনে দেশী-বিদেশী আলোচক বৃন্দ

বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণাঃ
২৭ জানুয়ারি ২০১৭

প্রগতি লেখক সংঘ দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত করেছে এমন সময়ে যখন দেশে মুক্তবুদ্ধি চর্চায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নানা ধরনের শেকল পরানোর চেষ্টা চলছে। লেখক-প্রকাশকদের ওপর উগ্র-মৌলবাদীগোষ্ঠী ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র সেসব ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত ও শাস্তির ব্যবস্থা না করে অপরাধীদের নিরাপদে পরের হামলা চালানোর রাস্তা করে দিচ্ছে।
শুধু তাই নয়, মৌলবাদীদের খুশি রাখতে লেখক আর প্রকাশকদের সৃজনশীল চিন্তায় একের পর এক বাধা দিয়ে যাচ্ছে ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি’ দাবীদার সরকার। উগ্রবাদীদের চাওয়ায় বদলে ফেলা হয়েছে পাঠ্যবই, গ্রেপ্তার হয়েছেন লেখক-প্রকাশক। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বইমেলার স্টল।
বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর তৎপরতায় গৌণভাবে গড়ে উঠছে ভিন্ন মার্কার শিল্প-সাহিত্য। এরফলে বাংলাদেশের ধারাবাহিক চেতনা-নির্ভর শিল্প-সাহিত্যের সজীব ও অগ্রসরমান ধারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন শুধু হচ্ছে না, সেই ধারাকে চোরাস্রোতে নিয়ে যাওয়ার জন্য একধরনের শ্বাপদনির্ভর উন্মাদনা তৈরি করা হচ্ছে। এই শিবিরের উগ্রতা ও সংগঠিত হওয়ার বাস্তবতা প্রগতিশীল কবি-লেখক-শিল্পীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদীদের লোলুপতা আর তৃষ্ণার কবলে পড়ে সারাবিশ্ব আজ নয়া-ঔপনিবেশিক বাস্তবতার মধ্যে পড়ে গিয়ে সেই পুরনো অর্থনৈতিক শোষণ ও লুণ্ঠনের দিকটি উন্মোচন করছে। আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি আক্রান্ত হচ্ছে লুটেরাদের হাতে। সাম্রাজ্যবাদ আজ প্রযুক্তি আয়ত্ত্বে নিয়ে, মিডিয়া দখল করে, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সারাবিশ্বে নেটওয়ার্ক তৈরি করে, সমর শক্তিতে বলিয়ান হয়ে তাণ্ডব-সন্ত্রাস চালাচ্ছে। ইরাক-লিবিয়াতে যে দখলী-ভণ্ডামী চলল, তা আমেরিকাসহ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মুখোশকে উন্মোচন করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কবি-লেখক-শিল্পীরা মূক ও বধির হয়ে থাকতে পারেন না।

দেশে সৃজনশীল জ্ঞান ও সাহিত্য চর্চায় আছে আরও নানা বাধা। দেশের অপরাপর নিষ্পেষিতগোষ্ঠীর মতো লেখকরাও তাদের ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত। সত্যিকার অর্থে লেখকদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার মতো গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক পাটাতন নেই। আর এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সীমারেখা। মুক্তবুদ্ধি বিকাশে যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আর সমাজকাঠামো দরকার, বাংলাদেশে তা একবারে অনুপস্থিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রায় লেখক-সাহিত্যিকেরা প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছেন না। লেখক হিসেবে যারা পরিচিত, তারাও তেমন সোচ্চার নন বা বলার কণ্ঠ রুদ্ধ করা হচ্ছে।
সামাজ্যবাদ ও মৌলবাদের নামে ফ্যাসিবাদ যখন নতুন নতুন চেহারা নিচ্ছে তখন প্রগতিশীল শিল্পী-কবি-সাহিত্যিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। তাই দেশ, পৃথিবী ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে কমিউনিস্ট-অকমিউনিস্ট, মার্কসবাদী-অমার্কসবাদী, জাতীয়তাবাদী ও মানবতাবাদীসহ প্রগতিশীল লেখক-শিল্পীদের এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। সমাজ-রাষ্ট্রের এমন বন্ধ্যা পরিস্থিতিতে প্রগতি লেখক সংঘ দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলন থেকে দেশের প্রগতিমনা লেখকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

নবনির্বাচিত সভাপতি কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু ও সাঃ সম্পাদক কবি সাখাওয়াত টিপু

বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের নতুন কমিটিঃ

আজ ২৭ জানুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে কবি গোলাম কিবরিয়া পিনুকে সভাপতি ও কবি সাখাওয়াত টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত করা হয়। কাউন্সিল অধিবেশনে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ৪৭জন সদস্যকে নির্বাচিত করা হয়।

নবনির্বাচিত কমিটির অন্যান্যরা হলেন-
সহ-সভাপতিঃ রতন সিদ্দিকী, শামসুজ্জামান হীরা, সিদ্দিক আহমেদ, কামরুল হাসান শায়ক, কাবেরী গায়েন, জোবাইদা নাসরিন, এ কে শেরাম (সিলেট), প্রদীপ কর (ময়মনসিংহ)

সহ-সাধারণ সম্পাদকঃ অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, মাধব রায়

কোষাধ্যক্ষঃ দেলোয়ার হোসেন

সাংগঠনিক সম্পাদকঃ প্রশান্ত কুমার মণ্ডল

প্রচার সম্পাদকঃ দীপংকর গৌতম

প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদকঃ হাবিব ইমন

দপ্তর সম্পাদকঃ মাহবুবুল হক

আন্তর্জাতিক ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদকঃ মীর মোশাররফ হোসেন

সাহিত্যসভা ও অনুষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদকঃ রাহাত মুস্তাফিজ।

এছাড়াও সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেনঃ এম এ আজিজ মিয়া, মতলুব আলী, তপন বাগচী, সুদীপ্ত হান্নান, শাহাদাত হোসেন শ্যামল, আনোয়ার কামাল, শফিউল গণি, আহসান হাবীব, নুপূর দত্ত, মো. আবু সালেক খান, পাঠান জামিল আশরাফ, মনির হোসেন, রিফাত নূর লাকী, মন্দিরা এষ, রহমান মুফিজ, জাহিদ বিন মতিন, সনাতন মালো উল্লাস, জলিল আহমেদ (দিনাজপুর), গৌতম দত্ত (রাজশাহী), মাইনুদ্দিন পাঠান (লক্ষীপুর), শেখ ফরিদ আহমেদ (কুমিল্লা), তানসেন আমিন (হবিগঞ্জ), অপূর্ব গৌতম (বরিশাল), সুভাষ চন্দ (পটুয়াখালী), নাজির হোসেন (টাঙ্গাইল), শহীদুল হক সুমন (নরসিংদী), দিলরুবা সুলতানা (ময়মনসিংহ) ও কোরবান আলী মণ্ডল (চুয়াডাঙ্গা)।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 25 = 28