চিকিৎসাসেবায় নৈরাজ্যের অবসান

দেশে বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার নামে চলছে এক চরম নৈরাজ্য। প্যাথলজি পরীক্ষার জন্য নেই কোন নির্ধারিত রেট, যে যেভাবে পারছে সেভাবেই টাকা আদায় করছে। অপারেশনের জন্যও নেই কোন নির্দিষ্ট ফি। একই অপারেশনের জন্য একেক হাসপাতালের ফি একেক রকম। পাশাপাশি পরীক্ষা না করেই প্যাথলজি রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগের কারণে বিশ্বের কোন দেশেই এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এ দেশের কোন প্যাথলজির রিপোর্ট গ্রহণ করা হয় না। ফলে দেশের বাইরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অর্থের অপচয় হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশের আপামর জনতার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এ সকল নৈরাজ্য বন্ধে তৎপরতা শুরু করেছে। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ আদালত গত তিন মাসে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরের নামি-দামি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারগুলোতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। ২০০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ১৯৫টিতেই অব্যবস্থাপনা পেয়ে প্রত্যেকটিকেই জেল-জরিমানা করা হয়েছে। রেহাই পায়নি ঢাকার নামি-দামি কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও ময়মনসিংহ শহরের অভিযুক্ত কোন প্রতিষ্ঠান। অভিযান পাওয়া গেছে মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট দিয়ে প্যাথলজি পরীক্ষা করা হচ্ছে, অপারেশন থিয়েটারে থাকা রাইসটিউব ও ক্যাথেটারের মেয়াদ উত্তীর্ণ, অপারেশনের ওষুধ‌ ও যন্ত্রপাতিরও একই অবস্থা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। তবে দীঘদিনের জঞ্জাল অপসারণে এবার মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। জনগণের সুষ্ঠু ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আর কোন ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা আর সময়োপযোগী উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশের সকল প্রাতিষ্ঠানিক পরিষেবায় জবাবদিহিতার সংস্কৃতি চালু করতে বদ্ধপরিকর বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অচিরেই দেশের চিকিৎসাসেবা খাতে বিরাজমান সকল নৈরাজ্যের অবসান ঘটাতে সক্ষম হবে, এ বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। কেননা জনসেবার মানসিকতায় ধন্য দেশের বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের অনির্বান চেতনায় সমৃদ্ধ, স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্য। আগামী প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় তারা চিকিৎসাসেবার ন্যায় মৌলিক ইস্যুতে আর কোন ছাড় দিবে না, এটা সহজেই অনুমেয়। অচিরেই আসছে সেই সুদিন – যখন চিকিৎসাসেবায় বিদ্যমান সকল নৈরাজ্যের অবসান হবে, দেশের সকল হাসপাতালেই ভাল চিকিৎসা হবে, পরিপূর্ণ সেবায় মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে কোন বিড়ম্বনা ছাড়াই। সেই সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় দেশবাসী আজ তৃষিত চাতক। তবে সে সুদিন আসবেই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “চিকিৎসাসেবায় নৈরাজ্যের অবসান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

44 − 39 =