জাগো নারী , জাগো বহ্নিশিখা

বেশ্যা , মাগী , খানকি , রেন্ডী….. শব্দগুলোর পুরুষবাচক শব্দ জানেন ? জানেন না । কারণ এগুলোর কোনো পুরুষ বাচক শব্দ নেই । আমাদের সমাজে একজন ছেলে মানুষ কখনো খারাপ হয় না । সে খুনী হতে পারে , ধর্ষক হতে পারে , প্রতারক হতে পারে , দেশদ্রোহী হতে পারে , কিন্তু কখনোই তার কোনো দোষ থাকে না । এমনকি গালাগাল করার সময়ও তাকে গালি না দিয়ে গালি দেয়া হয় তার মা কে । খানকির পোলা , শালার বেটা , কুত্তার বাচ্চা , মাদারচোদ…… আরো কত সুন্দর সুমিষ্ট অমেয় গালি দিয়ে তার মা কে ‘সম্মান’ দেয়া হয় । কেনো , কুত্তা -শুয়োর-রাজাকার এসব গালি দেয়া যায় না ? নাকি সন্তানকে পেটে ধরাই মায়েদের আজন্ম পাপ ?

আমি যদি রাস্তায় আমার বোনের সাথে বের হই তো মানুষ চোখ বের করে তাকিয়ে থাকে । যদি আমার বোন আমার চুল গুলো নেড়ে দেয় , চশমাটা একটু ঠিক করে দেয় , কথা বলতে গিয়ে হেসে ফেলে তো রাস্তার মানুষেরা এভাবে তাকাবে যেনো প্রেমিকার সাথে বের হয়েছি । এমনভাবে মন্তব্য করবে যেনো জগতের সব মেয়েই এক একটা মাগী । এমন ভাবে দেখবে যেনো কোনো আশ্চর্য আজব প্রাণী দেখছে । অথচ তাদের সবারই ঘরে মা আছে । বোন আছে । কন্যা আছে । তাদের দিকে তো চোখ বের করে জিভের জল ফেলে বলে না ”মা তোমাকে খুব সেক্সি লাগতেছে ” । বোন কে বলে না ”মালটা তো জোস ! ” মেয়েকে বলে না ” ভাড়া কত ? ” তাহলে অন্য একটা মেয়েও যে কারো বোন , কারো মেয়ে , কারো মা সেটা কেনো খেয়াল থাকে না ?

একটা ছেলে তার বন্ধুর বাইকের পেছনে বসলে কারো সেদিকে চোখ যায় না । অথচ একটা মেয়ে বসলে চোখ অন্যদিকে যেতেই পারেনা । কেনো ? মেয়েদের বাইকে চড়া পাপ নাকি সে বন্ধু হওয়ার যোগ্য না ?

বলা হয় মেয়েদের ক্ষেত্রে মৌনতা সম্মতির লক্ষণ । অথচ মৌন থাকার অর্থ হল সেই বিষয়ে সে মত প্রকাশে আগ্রহী নয় । এটাকে হ্যা বলে চালিয়ে দিয়ে ভালো পাত্রের হাতে মেয়ে বিক্রী করাও কি একজন মেয়ের মেয়ে হওয়ার শাস্তি নয় ?

একটা মেয়ে জিন্স পরতে পারবে না । টি শার্ট পরতে পারবে না । কনুই থেকে হাত দেখালেই সবার চোখ চুল-হাত পেরিয়ে বুকে পিঠে ঘোরাফেরা করবে । অথচ তার নিজের পশ্চাতদেশের অর্ধেক খানি যে সে সর্বসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে ঘোরাফেরা করে সেদিকে খেয়াল থাকে না ।।

একটা ছেলেবাচ্চা কাঁদলে তাকে বলা হয় তুমি কাঁদছো কেনো , তুমি কি মেয়ে ? যেনো মেয়েদের কাজই কান্নাকাটি করা । অথচ বলা উচিত্‍ ছিলো কাঁদছো কেনো খোকা ? তুমি কি হুজুর ? কারন কান্নাকাটিতে আমাদের ইমাম সাহেব হুজুর সাহেবরা অধিক পারদর্শী ।

একটা মেয়ে বিকিনি পরলেও মানুষ যেভাবে তাকায় , বোরখা পরলেও সেভাবেই তাকায় । কারণ পরিবর্তন তো হলো মেয়েটার । ঐ লোকের চিন্তায় দৃষ্টিভঙ্গিতে তো আর পর্দা পরল না । বরং বিকিনিতে সে সরাসরি যতটা দেখে , বোরখাতে যে তার চেয়েও বেশী নোংরা ভাবে কল্পনা করে নেয় না সেটা কে বলেছে ??

একটা মেয়ে নিজের ইচ্ছায় বোরখা পরতে পারে । সৌন্দর্যের জন্যে নেকাব ব্যবহার করতে পারে । এজন্যে তাকে বোরখাওয়ালী বলে টিজ করার অর্থ হয় না । তেমনি কেউ হাফপ্যান্ট পরে ঘুরতে পারে , তার ভাই – বন্ধু – প্রেমিকের বাইকে ঘুরতে পারে । তাই বলে সে ‘খাসা আইটেম ‘ হয়ে যাবে ?

অনেকে বলে যে মেয়েদের বর্তমান পোশাক নাকি ওয়েস্টার্ন ! এটা নাকি দেশী সংস্কৃতির সাথে যায় না ! তো আমি তাদের বলি , যে শার্ট প্যান্ট পরে ভদ্রলোক সাজার চেষ্টা করছেন , সেটাও ওয়েস্টার্ন নয় কি ? প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের মিথ্যে দোহাই দিয়ে কতকাল মেয়েদের কোণঠাসা করে রাখবেন ? বিকিনি যেমন আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির সাথে যায় না , বোরখাও তেমনি আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয় । এখন একজন মেয়ে যদি স্বেচ্ছায় হিজাব বা বোরখা পরতে চায় , সেটা যেমন তার ইচ্ছে , তেমনি কেউ না পরতে চাইলে সেটাও তার ইচ্ছে । তোমার ঈশ্বর কখনোই তোমাকে এই দায়িত্ব দেন নাই যে মেয়েদের রেপ করে তাদের পর্দা করা শেখাও ।

নোংরা মানসিকতার বিকলাঙ্গ মানুষগুলো বলে ‘মেয়েরা এসব উল্টা পাল্টা পোশাক পরে বলেই ছেলেরা টিজিং করে !’ সেটাই যদি হবে , তো আমিও বলতে পারি তোমার বাড়িটা সুন্দর বলেই তো দখল করছি । তোমার গাড়িটা সুন্দর তাই কাঁচটা ভেঙ্গে দিয়েছি । সেটা নিশ্চয়ই খুব ভালো লাগবে না ।

যে ধর্মের দোহাই দিয়ে নিজেদের পশুত্বকে চরিতার্থ করছে এসব কুলাঙ্গারেরা , সে ধর্মে নারীকে স্থান দেয়া হয়েছে পুরুষের উপর । সন্তানের স্বর্গ নসিব করা আছে নারীর পায়ের নীচে । অধিকার দেয়া আছে সমশিক্ষার । পর্দা করতে বলা হয়েছে নারী পুরুষ উভয়কেই । তাহলে কেনো একা নারীকেই বস্তা পরে কাটিয়ে দিতে হবে ? একজন বোনের স্কুল যাওয়া কেনো বন্ধ হবে ভাই স্কুলে ভর্তি হয়েছে বলে ?

একটা মেয়েকে দেখে যে প্রতিক্রিয়া গুলো জানান , একবার ভেবে দেখবেন সেই কথা গুলো আপনার মা – বোন – অর্ধাঙ্গী বা কন্যা কে শুনতে হতে পারে । আগে একবার নিজের মা কে মাগী আর বোনকে খানকি বলে গালি দিয়ে , নিজের ভাইকে ‘তোর মায়েরে চুদি….’ বলে , মেয়ের দিকে সেই ভাবে তাকাবেন যেভাবে আপনি রাস্তায় ,বাসে ,অফিসে মেয়েদের দিকে তাকান । যদি পারেন তো এভাবেই মেয়েদের বুকে কোমরে চোখ চালিয়ে যান , আর যদি না পারেন তো আজই জানোয়ার থেকে মানুষ হোন ।

”বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর ,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর ।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি ,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী । ”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৩ thoughts on “জাগো নারী , জাগো বহ্নিশিখা

  1. খুভ ভাল লিখেছেন। ব্লগের পোষ্ট
    খুভ ভাল লিখেছেন। ব্লগের পোষ্ট এমনই বাস্তবতা নির্ভর অভিজ্ঞতাপ্রসূত হওয়া উচিৎ।
    একটা ছেলেবাচ্চা কাঁদলে তাকে বলা হয়
    তুমি কাঁদছো কেনো , তুমি কি মেয়ে ? যেনো মেয়েদের কাজই
    কান্নাকাটি করা । অথচ বলা উচিত্
    ছিলো কাঁদছো কেনো খোকা ? তুমি কি হুজুর ? কারন
    কান্নাকাটিতে আমাদের ইমাম সাহেব হুজুর সাহেবরা অধিক
    পারদর্শী ।

  2. কাঁদছো কেনো খোকা ? তুমি কি

    কাঁদছো কেনো খোকা ? তুমি কি হুজুর ?

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

    নারীর শক্তিকে স্বৈরাচারী পুরুষশ্রেণী ভয় পায়……

  3. ”বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌

    ”বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর ,
    অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর ।
    বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি ,
    অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী ।

    অসাধারণ পোস্ট,, আমি ফিদা হয়ে গেলাম…

  4. একটা মেয়ে জিন্স পরতে পারবে না

    একটা মেয়ে জিন্স পরতে পারবে না । টি শার্ট পরতে পারবে না । কনুই থেকে হাত দেখালেই সবার চোখ চুল-হাত পেরিয়ে বুকে পিঠে ঘোরাফেরা করবে । অথচ তার নিজের পশ্চাতদেশের অর্ধেক খানি যে সে সর্বসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে ঘোরাফেরা করে সেদিকে খেয়াল থাকে না ।।

    দোষ আমাদের। দোষ আমাদের মানসিকতার। বদলানোর সময়… এখনই…

  5. একটা ছেলেবাচ্চা কাঁদলে তাকে

    একটা ছেলেবাচ্চা কাঁদলে তাকে বলা হয় তুমি কাঁদছো কেনো , তুমি কি মেয়ে ? যেনো মেয়েদের কাজই কান্নাকাটি করা । অথচ বলা উচিত্‍ ছিলো কাঁদছো কেনো খোকা ? তুমি কি হুজুর ? কারন কান্নাকাটিতে আমাদের ইমাম সাহেব হুজুর সাহেবরা অধিক পারদর্শী ।

    :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
    নির্মম বাস্তবতা। তবুও না হেসে পারলাম না। আপনার রসবোধ চরম ম্যান। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: খুব ভালো লাগল লেখাটা।

  6. অসাধারণ লিখা, স্যালুট আপনাকে। এটা আমি সবচেয়ে বেশি দেখছি পূরান ঢাকায়,আমি আমার অনেক ছাত্রকে বুঝিয়েছি কিন্তু তাদের কাছে আমার কথাগুলো কেমন যেন বিরক্তিকর মনে হচ্ছিলো, তাই আর কিছু বলি নাই। ভালো থাকুক সকল বোন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

63 − = 59