যিনার প্রমানে চার স্বাক্ষীর প্রেক্ষাপট

আচ্ছা, একটা যিনা প্রমান করতে ৪ জন লাগবে কেনো? ১ জন হলেই তো যথেষ্ট… আবার, ৪ জনই পুরুষ কেনো হতে হবে? এটা কি সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে বিশ্বাস হয়? উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটা পানির মত পরিস্কার যে, মুহাম্মদ তার স্ত্রী আয়েশাকে বাচানোর জন্যে ৪ জন পুরুষ স্বাক্ষীর কথা বলেছেন। আয়েশার বিরুদ্ধে ওরা ৪ জন মিলেও স্বাক্ষী দিলে লাভ হতো না ওদের একজন নারী বলে। আয়েশাকে বাচাতে মুহাম্মদ কি কৌশলটাই না করেছেন! মুহাম্মদের বুদ্ধির তারিফ করতেই হয়। আর, উপস্থিত হাবাগোবা সাহাবিরা বিশ্বাস না করে যাবে কোথায়! এ যে কুরানের আয়াত!


এক সফরে নবী ও সাহাবিদের সাথে আয়েশাও সফরসঙ্গী হয়েছিলেন। মদিনায় ফেরার পথে পথিমধ্যে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সবাই। তখন আয়েশা লক্ষ্য করলেন যে, তার গলার নেকলেসটি নেই। তিনি ধারনা করলেন এটি হয়ত পেছনে ফেলে এসেছেন। তিনি উটের পিঠের তার পর্দাঘেরা কক্ষ থেকে বের হয়ে গেলেন নেকলেস খুজে বের করতে। অনেকদুর গিয়ে খুজলেন। ফিরে এসে দেখলেন যে তাদের দলবল সেখানে নেই। আয়েশাকে পেছনে ফেলেই চলে গেছে তারা। তারা ভেবেছিলো আয়েশা উটের পিঠের পর্দাঘেরা কক্ষেই আছেন।

তো, আয়েশা পড়লেন বিপদে। কি আর করা… রাত হয়ে যাচ্ছে। অপেক্ষা করতে করতে তিনি সেখানেই ঘুমিয়ে গেলেন। ঐ পথেই বাড়ি ফিরছিলেন এক যুবক, নাম তার সাফওয়ান বিন মুয়াত্তাল। তিনি আয়েশাকে সাহায্য করতে চাইলেন। আয়েশা রাজি হলেন এবং সাফওয়ানের উঠের পেছনে সওয়ারী হলেন। এদিকে, আয়েশাকে সাফওয়ানের সাথে আসতে দেখে সবাই সমালোচনা শুরু করে দিলো, আয়েশার নামে অপবাদ আরোপের চেষ্টা করলো। অপবাদ আরোপকারী ব্যক্তি ছিলেন মুলত ৩ জন যারা নিজেদের চাক্ষুস স্বাক্ষী হিসেবে দাবী করে। তারা হলেন, হাসান ইবনু সাবিত, মিসতাহ ইবনু উসাসা এবং হামনা বিনত জাহাশ (রাঃ)। এই তিনজন নিজেদের চাক্ষুস স্বাক্ষী হিসেবে দাবী করেন। এরা আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এর কাছে আয়েশার বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দেয় এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই তা বিশ্বাস করেন এবং তাদের সমর্থন করেন।

নবীর প্রিয় বউয়ের নামে এমন অপবাদ সহ্য করা যায় বলুন? নবী মাসখানেক আয়েশার সাথে কথা বলেন নি ভালো করে। আয়শা শুধু ফুপিয়ে ফুপিয়ে সারাদিন কাদতো। আয়েশা অসুস্থও ছিল। এভাবে মাসখানেক কেটে যাওয়ার পর মুহাম্মদ একদিন আয়েশার কাছে গেলেন। আয়েশা কেদে কেদে মুহাম্মদকে বললেন যে, তিনি সতী নারী। সাফওয়ানের সাথে তার কিছু হয়নি। অবশেষে মুহাম্মদ তা বিশ্বাস করলেন। কিন্তু নিজে বিশ্বাস করে বসে থাকলেই তো হবে না। ঐ ৩ স্বাক্ষী হারামজাদার মুখ বন্ধ করা চাই। আর লোকনিন্দাও বন্ধ করতে হবে আয়েশাকে সতী ঘোষনা দিয়ে। কিন্তু মুহাম্মদ যদি নিজে গিয়ে সরাসরি আয়েশাকে সতী ঘোষনা করে, তাহলে তো লাভ নেই। লোকে বলবে আপনি তো সেখানে ছিলেন না। তো, মুহাম্মদের বিপদে কুরানই ভরসা। তিনি তাৎক্ষনিক কুরানে আয়াত পয়দা করলেন। আয়াতে ঘোষনা দিলেন, কমপক্ষে ৪ জন পুরুষ স্বাক্ষী ছাড়া যিনা প্রমাণিত হবে না। যেহেতু আয়েশার ক্ষেত্রে চাক্ষুস স্বাক্ষী ৩ জন, তাই নবী কুরানে ৪ জন স্বাক্ষীর ঘোষনা দিলেন। বললেন যে, আয়েশার যিনা প্রমান করতে কমপক্ষে ৪ জন স্বাক্ষী লাগবে। যেদিন আয়েশা কান্নাকাটি করে মুহাম্মদের মন গলিয়েছিলো, সেদিনই এসব ঘোষণা দিয়ে মুহাম্মদ কুরানে আয়াত পয়দা করে দিলেন। চলুন উল্লেখযোগ্য একটা আয়াত দেখে নিই।

“যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতঃপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই নাফারমান।”- কোরান ২৪ঃ০৪

উপরোক্ত আয়াতটি লক্ষ্য করুন। যিনা প্রমান করতে হলে ৪ জন পুরুষ স্বাক্ষী লাগবে! আয়েশার ক্ষেত্রে চাক্ষুস স্বাক্ষী ছিলেন ৩ জন, আরেকজন ছিলেন যিনি চাক্ষুস স্বাক্ষী নন কিন্তু ঐ ৩ জন স্বাক্ষীর কথায় বিশ্বাস করে তাদের দলে ভিড়েছিলেন। ওরা ৪ জন মিলে স্বাক্ষী দিলেও হবে না, কেননা ঐ ৩ জন চাক্ষুস স্বাক্ষীর মধ্যে হামনা বিনতে জাহশ ছিলেন নারী। তাই, মুহাম্মদ চালাকি করে কুরানে ঘোষনা দিলেন কমপক্ষে ৪ জন স্বাক্ষী লাগবে এবং সবাই হতে হবে পুরুষ!

আচ্ছা, একটা যিনা প্রমান করতে ৪ জন লাগবে কেনো? ১ জন হলেই তো যথেষ্ট… আবার, ৪ জনই পুরুষ কেনো হতে হবে? এটা কি সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে বিশ্বাস হয়? উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটা পানির মত পরিস্কার যে, মুহাম্মদ তার স্ত্রী আয়েশাকে বাচানোর জন্যে ৪ জন পুরুষ স্বাক্ষীর কথা বলেছেন। আয়েশার বিরুদ্ধে ওরা ৪ জন মিলেও স্বাক্ষী দিলে লাভ হতো না ওদের একজন নারী বলে। আয়েশাকে বাচাতে মুহাম্মদ কি কৌশলটাই না করেছেন! মুহাম্মদের বুদ্ধির তারিফ করতেই হয়। আর, উপস্থিত হাবাগোবা সাহাবিরা বিশ্বাস না করে যাবে কোথায়! এ যে কুরানের আয়াত! আল্লাহ নিজেই আয়েশাকে সতী ঘোষনা দিলেন। আবার বললেন ৪ জন পুরুষ স্বাক্ষী না আনতে পারলে ওদের পাছায় বাশঁ দেয়া হবে। এরপরও কি তুমরা সন্দেহ পোষন করবে যে কুরান মুহাম্মদের বানী নয়?

আচ্ছা, আয়েশার বিরুদ্ধে এই ঘটনা কি আমি বানিয়ে বানিয়ে বললাম? এটা কি আমার নিজের মনগড়া কাহিনী? উহু… তা নয়। পুরো ঘটনার বর্ণনা পাবেন নিচের হাদিসটিতে। অনেক বড় হাদিস। ধৈর্য্য ধরে পড়বেন। ইংলিশ ও বাংলা উভয় সাইটের লিঙ্ক দিচ্ছি।

[http://sunnah.com/bukhari/64/185 ]
[http://www.hadithbd.com/show.php?BookID=12&HadithNo=4141 ]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “যিনার প্রমানে চার স্বাক্ষীর প্রেক্ষাপট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 7