জ্বালানি চাহিদা মেটাতেই এলএনজি আমদানি

২০১৮ সালের মাঝামাঝি দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হবে। তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির আগেই রাজস্বপুল গঠন করা হচ্ছে। এরপর ২০২৪ সালে আরও এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি যোগ হবে। এই পরিমাণ এলএনজির সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের গ্যাসের মূল্যহার সমন্বয় করলে দাম বেড়ে যাবে। একবার উচ্চমূল্যের জ্বালানি ব্যবহার শুরু করলে দেশে বিদ্যুতের দামও বেড়ে যাবে। সার্বিকভাবে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। যা বড় আশঙ্কার বিষয়। দেশে গ্যাসের মজুদ এবং ব্যবহারের হিসেব বিবেচনা করলে এলএনজি আমদানির কোন বিকল্প নেই। পেট্রোবাংলাই বলছে ২০২০ এর পর থেকে দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকবে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া না গেলে ২০৩০ নাগাদ দেশে সকল খনির মজুদ একেবারে শেষের পথে থাকবে। এখন কেবলমাত্র বিদ্যমান খনিগুলো থেকে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় রকমের হুমকি। দেশে এখন গ্যাসের বিক্রয়মূল্য প্রতি হাজার ঘনফুটের দুই দশমিক ১৭ ডলার। এখন সমপরিমাণ এলএনজি আমদানি মূল্য ৮ মার্কিন ডলার। এই সময়ে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করে সরবরাহ করা দৈনিকের দুই হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করলে রি-গ্যাসিফিকেশন চার্জ, সঞ্চালন এবং বিতরণ ব্যয় এবং সকল রকমের কর অন্তর্ভুক্ত করলে দাম পড়বে ৪ দশমিক ৩৫ ডলার। আর এলএনজি পৃথকভাবে বিক্রি করতে চাইলে দাম পড়বে ২৩ দশমিক ১১ ডলার। তবে সকল কর রেয়াত করলে এলএনজির দর পড়বে ১০ দশমিক ৪০ ডলার আর মিশ্রিত গ্যাসের দাম পড়বে ৪ দশমিক ১৪ ডলার। অর্থাৎ এখনই মিশ্রিত গ্যাসের দাম সরাসরি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তবে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এই দাম আরও বৃদ্ধি পাবে। দেশে গ্যাসের সঙ্কট সামাল দিতে ক্রমান্বয়ে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। যত বেশি এলএনজি আমদানি হবে গ্যাসের দামও ততই বৃদ্ধি পাবে। দেশে এখন প্রতিদিনের গ্যাসের চাহিদা তিন হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয় সর্বোচ্চ দুই হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সব সময় ঘাটতি থাকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ক্রমান্বয়ে এ ঘাটতির পরিমাণও বাড়তে থাকবে। প্রথমধাপে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এছাড়া ভাসমান এবং স্থায়ী কয়েকটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতেই এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “জ্বালানি চাহিদা মেটাতেই এলএনজি আমদানি

  1. একবার উচ্চমূল্যের জ্বালানি
    একবার উচ্চমূল্যের জ্বালানি ব্যবহার শুরু করলে দেশে বিদ্যুতের দামও বেড়ে যাবে। সার্বিকভাবে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। যা বড় আশঙ্কার বিষয়। দেশে গ্যাসের মজুদ এবং ব্যবহারের হিসেব বিবেচনা করলে এলএনজি আমদানির কোন বিকল্প নেই ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 27 = 34