ইতিহাসে আমার বড্ড ভয়! প্রসঙ্গ যাদুঘরে ভ্যানগাড়ি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর।

সময়টা খৃষ্টাব্দ ২০১৬ সাল…..
তখন বাংলাস্তানে বিখ্যাত ইসলামি শাসক, প্রথম স্বীকৃত নারী খলিফা হযরত শেখ হাসিনা ওয়াজেদ(র) এর শাসনামল। এর আগে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত হযরত হাসিনা ওয়াজেদের বিচক্ষণতায় দেশে পরিপূর্ণভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর বিচক্ষণতায় একে একে ছেলেমেয়েদের মক্তবের কিতাব থেকে নাস্তিক ও বিধর্মীদের লেখা বাদ দেওয়া হয়। দুর্দণ্ড প্রতাপে কুপিয়ে কুন করা হয় সকল খোদাদ্রোহী নাস্তিক-ব্লগারদের। ফেব্রুয়ারি মাসের কিতাব মাহফিল থেকে নাস্তিক বিধর্মীদের লেখা বই নিষিদ্ধ করা হয়। আর একটি উদাহরণ দিলে তখনকার ইসলামের গৌরবময় শাসনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে আপনাদের কাছে।
“সেই সময় ইসলামের শৌর্যবীর্য এতই বেড়ে গিয়েছিলো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে বীর ইসলামি যুবারা একবারের আক্রমণেই ৩-৪ ঘন্টার মধ্যেই প্রায় ৩০০ কাফেরদের বাড়িঘর ভাঙচুর, ১৫ মন্দির ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায়। আর এই বীর তৌহিদি জনতাকে সর্বক্ষণ সহায়তা করেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার UNO এবং ওসি।”

থানা থেকে উপজিলা কার্যালয় সবখানের মানুষেরাই ছিলেন ইসলামি আন্দোলনের চেতনায় উদ্বেলিত।
তো ওইসময় প্রজাদের সুখ-দুঃখ দেখার জন্য মহান হযরত হাসিনা ওয়াজেদ(র) সাধারণ জনগণের সাথে মিশে যেতেন। একদিন তিনি নাতী-নাতনী নিয়ে ঘুড়ে বেড়ানোর উছিলায় এক ভ্যানগাড়ি চালকের গাড়িতে চেপে বসলেন। মুহূর্তেই সেই ভ্যানগাড়ি এক অপূর্ন নূরানি আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। ভ্যানগাড়ি চালক হযরত শেখ হাসিনা(র)-কে নিজের দুঃখ দুর্শশার কথা বলতে চাইলেন। কিন্তু আশেপাশে থাকে সৈন্য-সামন্তের ভয়ে তিনি কিছু বলতে পারলেন না।
ভ্যান-চালক বলতে না পারলে কি হবে? নিজের অলৌকিক ক্ষমতার বলে দয়ার শাসক, মমতার শাসক হযরত শেখ হাসিনা(র) ঠিকই বুঝে গেলেন তাঁর মনের কথা। রাজপ্রসাদে এসে তিনি প্রজাদের এমন দুঃখ দেখে প্রচণ্ড কষ্ট পেলেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন নিজের এই ব্যর্থতার জন্য। তারপর দিন তিনি ওই ভ্যান-চালককে বিমান বাহিনীতে(বোরাখের আইডিয়া থেকে নির্মিত বিমান) চাকরি দিয়ে তাঁর দুঃখ লাঘব করলেন। তাঁর চিরস্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করে দিলেন। শর্ত দিলেন শুধু দুইটা; প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে এবং দুই মাসে একবার কুরানে কতম দিতে হবে। তবে ভুলেও যেন কুরান বাংলায় না পড়া হয়।

এই ছিলেন মহান ইসলামী শাসক, আদর্শ নারী মা হযরত শেখ হাসিনা ওয়াজেদ(র)। আর এই ছিলো তাঁর ইসলামি চেতনা, ইসলামি শাসন!
বিশ্বাস না হয় ঢাকার প্রখ্যাত পবিত্র হযরত শেখ হাসিনা(র) খানকা শরীফে(সাবেক জাতীয় যাদুঘর) গিয়ে দেখু আসবেন। যেখানে এখনো সেই পাক-পবিত্র হযরত শেখ হাসিনা ওয়াজেদ(র) এর স্মৃতিবিজড়িত “ভ্যান-মোবারক” রাখা আছে।

সেই পবিত্র ‘ভ্যান-মোবারক’-টি।

স্বীকারোক্তিঃ- ভ্যানগাড়ি চালকের চাকরি পাওয়া নিয়ে আমার ট্রল করার কোনো ইচ্ছে নেই। আমি এই ঘটনায় খুশি। যেভাবেই হোক একজন দরিদ্র ব্যক্তির দারিদ্র্য যদি ঘুচে তাহলে সেটা ভালোই। হাজারো অনিয়মে ভরা এই দেশে একটা অনিয়ম-নিয়োগে যদি কারো পরিবারে হাসি ফিরে তো সেই হাসি ভালো এবং সুন্দর।
আমার ভয় ইতিহাসে। যেভাবে বাংলাদেশ ইসলামি-করণের দিকে এগোচ্ছে এবং হাসিনার সরকারও অতীতের খলিফাদের মতো ভোজবাজি করে জনগণের দুঃখ লাগবের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করছেন, ভ্যানগাড়ির যাদুঘরে ঠাঁই মিলছে তাতে কে বলতে পারেন, কে নিশ্চয়তা দিতে পারবেন ইতিহাস একদিন এভাবে লেখা হবে না? তা-ও আবার সেই দেশে যেখানে কলমে প্রতিবাদের চেয়ে তেলের পরিমাণ অত্যধিক বেশি থাকে।

আজকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যেসব সাম্প্রদায়িক মুসলমানদের দুর্বৃত্ত বলে সম্বোধন করা হচ্ছে সময়ের প্রয়োজনে, একদিন সঠিক সময় আসলে তারা হয়তো বীর মুসলমান উপাধিই পাবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বখতিয়ার খিলজি, সুলতান মাহমুদদের মতো ভিনদেশি বর্বর দস্যুদের বীর উপাধি দিয়ে রাখা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই সাম্প্রদায়িক মুসলমানেরা নিশ্চয় বখতিয়ার খিলজিদের চেয়ে অনেক কম বর্বর! তো ভবিষ্যতে তারাও “বীর-মুসলমান” উপাধি পেতেই পারে! অতীতের সকল অমুসলিম হত্যাকারী, ধর্ষক, লুটপাট-কারী, মন্দির-মূর্তি ধ্বংসকারীরাই তো আজ ইসলামের ইতিহাসে পূজনীয়। তেমনিভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওই তথাকথিত দুর্বৃত্তরাও একদিন ইতিহাসে স্মরণীয় বরণীয় হয়ে যাবে। তাদের কারণেই তো বাংলাদেশ একদিন শতভাগ মুসলমানদের দেশ হবে! ইতিহাসে লেখা থাকবে তাদের কারণেই বাংলাদেশে পরিপূর্ণভাবে ইসলাম কায়েম হয়! ভবিষ্যতের সন্তানেরা সেই ইতিহাস পড়বে আর লালন করবে যেমন আমাদের প্রজন্ম বখতিয়ার খিলজি আর সুলতান মাহমুদদের ইতিহাস পড়েছে।

নাসিরনগরে আগুনে পুড়ে ছাই হওয়া একটি হিন্দু বাড়ি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 74 = 78