ধর্মের কোন মা বাপ নাই, আছে কেবলই হিংস্রতা

মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম যেই নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের নিদর্শন রেখে গিয়েছে, তাদেখে আমি বাকরুদ্ধ। চোখের পানি ঠেকিয়ে রাখতে হয়েছিলো নিদারুণ কষ্টে। এরা ইসলামের হেফাজত করবে!! হেফাজতের বদলে এরা ইসলামের বুকে আর একটি কালিমা লেপন করে গেল। শুধু কালিমা নয়, এদের হিংস্রতা দেখে মনে হল, এরাই বুঝি ইসলামের ধারক ও বাহক!! সারা বছর কোরআন, হাদিস পাঠ করে, ইমামের ওয়াজ শুনে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরে এই ইসলাম শিখল? ইসলামে কি এই লেখা ছিল? ঘটনা শেষ হয়ে গিয়েছে, কিন্ত যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে এই প্রশ্ন আমার মনে থেকে যাবে অনেক দিন। যারা ইসলাম অবমাননা অবমাননা করে চিৎকার করেছিল, তারাই মতিঝিলে কোরআন পোড়াল, বায়তুল মোকাররম থেকে গ্রেনেড ছুড়ল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে এই মসজিদকে বেছে নিল, তারাই কি ইসলাম এর হেফাজতকারি?? মানুষের মূল্যবোধ দেখে আমি অবাক! এভাবে মসজিদের ভিতরে মোটরসাইকেল পোড়াল, স্বর্ণের দোকান, ফুটপাতের দরিদ্র মানুষের একমাত্র সম্বল তার দোকানটি পর্যন্ত জ্বালিয়ে দিল। রাস্তার মাঝের গাছগুলা পর্যন্ত জ্বালিয়ে দিল। তারা অজুহাত দিল, পুলিশ দ্বারা তাদের শান্তিপূর্ণ(!) কর্মসূচী নাকি বাধাগ্রস্থ হয়েছিল। আর কোরআন নাকি আওয়ামীলীগের লোকেরা পুড়িয়েছিল। তারা ব্যাংকের বুথ ভাংচুর করে টাকা লুট করতে চেয়েছিল। এরকম নারকীয় পরিস্থিতি আমি আগে কখনো দেখি নাই। আমাদের বিরোধীদল এই পরিস্থিতিতে কি করলো? তারা উল্টো হেফাজত এর ধ্বংসযজ্ঞে সমর্থন দিয়ে বসলো। উচিত ছিল একটা আলোচনায় বসে ঠিক করা, জনসমর্থন নিয়ে যৌক্তিক উপায়ে সরকারকে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলা তুলে ধরা। আর এই ছাগলের দল কি করলো!! ইসলামের হেফাজতকারি!! দেশকে উন্নতির পথে না নিয়ে, মধ্যযুগীয় পরিস্থিতিতে দেশকে ধাবিত করার প্রয়াস। টিভি তে দেখলাম, হাউসবিল্ডিং কর্পরেসন অফিসে যখন হেফাজতের লোকেরা গাড়িগুলা ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছিল, তখন সাংবাদিকরা টেলিকাস্ট করার সময় বলছিল, “আহা! দেশের সম্পদগুলা এভাবে নষ্ট করছে”। আমরা সারাদিন কাজ করে যখন বিকাল বেলা গাড়ীর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকি, তখন মনে হয় বাংলাদেশে না জন্মায়ে অন্য কোন দেশে জন্মালে বুঝি ভাল হত। আসলে হেফাজতিরা এই দেশকে মনে করে নারীর মতন। আমরাও মনে করি কিন্তু আমাদের কাছে সেই নারী মানে মা। হেফাজতিরা মনে করে, আল্লাহর মাল আল্লাহ্‌য় নিবো আবার আল্লাহর মাল আল্লাহ্‌য় দিবো। তারা যেমন নারীদের ঘরের মধ্যে আটকিয়ে, বন্দী করে কেবল বিছানার খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে এবং পরিনামে আল্লাহর মালের মত ছাগলের পর ছাগল পয়দা করে, তেমনি মনে করে দেশের সম্পদও বুঝি নারী চুদলে পাওয়া যায়। বহির্বিশ্বের কাছে আমরা যত মাথা উছু করে দাঁড়াতে চাই, এই হেফাজতি ছাগলের দল ততই ল্যাদাতে ল্যাদাতে আমাদের দুর্গন্ধ করে তোলে। সেদিন যদি আসলেই ২৫০০ লোক মারা যায়, তাহলেও আমার কোন দুঃখ নেই। কারণ অসুস্থ পশু রোগ ছড়ানোর আগেই মেরে ফেলাই ভাল। আর হেফাজতিরা তো গৃহপালিত অসুস্থ ছাগল। হার্ডলাইনে যাওয়া আসলেই উচিত ছিল সরকারের। হেফাজতের মত ভুঁইফোঁড় সংগঠনকে আস্কারা দিতে দিতে আজ মাথায় উঠে গিয়েছে। তারা কোরআন শরীফ পুড়িয়ে জানান দিল যে তারা কতটা আস্তিক!! তাদের শাস্তি কি হওয়া উচিত? নাকি হুজুর আলেম নামক কতগুলা মূর্খ সৃষ্টি এই কোরআন পুড়িয়েছে বলে তাদের কোন বিচার হওয়া যাবে না। বেশ্যা গুলা তারপর আবার দাবী করে, এগুলা নাকি হিন্দুদের কাজ। কচি কচি বাচ্চাদের সমাবেশে এনে, যারা আসলে কিছুই জানে না আন্দোলন সম্পর্কে, তাদেরকে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কি ইসলাম শিখায়? যদি শিখায় তাহলে আমি এই ধর্ম আজ হতে আমার জ্ঞানচক্ষুর বাইরে ঠেলে দিলাম। ধর্ম নিয়েই যখন এতো রাজনীতি, তাহলে সেই ধর্মের কোন দরকার নাই আমার।
“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “ধর্মের কোন মা বাপ নাই, আছে কেবলই হিংস্রতা

  1. এরা কোরআন মুখস্থ করে, কোরআন
    এরা কোরআন মুখস্থ করে, কোরআন কি , কোথা থেকে আসল এসব ধারণা সম্ভবতঃ এদের দেয়া হয় না! যদি কোরআন সম্পর্কে ধারণা দেয়া হতো তাহলে মনে হয় তারা এসব কান্ড করতে পারতো না !

  2. বাংলাদেশ একটা ক্রান্তিকাল পার
    বাংলাদেশ একটা ক্রান্তিকাল পার করছে। আমি এখনও বিশ্বাস রাখি- লাখো শহীদের রক্তে যে মাটি সিক্ত, সেখানে কোন ধরনের জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। এই দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত সেটা মেনে নেবে না। খালি চোখে এখন হয়ত উল্টোটাই মনে হচ্ছে। কিন্তু সেটা এই ক্রান্তিকালের ধোঁয়াশার মাঝে সামান্য মরীচিকা, যা এই দেশের ধর্মান্ধ গোষ্ঠী দেখে উল্লম্ফনে দাঁত বের করেছে। সময় মতো মুগুর পেটা করে তাদের সেই দাঁত ভেঙে দেবে জনতা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =