ধর্ম,দর্শন ও বিজ্ঞান-১৬ঃ ইতিহাসবিজ্ঞান

ইতিহাসবিজ্ঞান

০.০ ইতিহাস হলো ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বর্ননা। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব ক্ষেত্রেই ইতিহাস রয়েছে_সকল ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বনর্নাই ইতিহাস। ইতিহাস মানুষ কেন্দ্রিক এবং কিংবা বস্তু ও বস্তুর কার্য-কারন কেন্দ্রিক। ইতিহাস যখন শুধুই অবস্তু কেন্দ্রিক তখন তা শুধুই কল্পনা-ধর্মমত-গল্প-কেচ্ছা-কাহিনী-হরর কিংবা বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনী; তা ইতিহাস নয়। ইতিহাস তাই যা বস্তুনিষ্ঠতায় ও কার্য-কারনে ব্যাখ্যা যোগ্য। ইতিহাস হলো ইতিহাস বিজ্ঞান। এই অর্থে ইতিহাস জড়বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান, এমনকি মানবিক বিদ্যাও ইতিহাস বিজ্ঞানের পরিধিভূক্ত।

১.১ একজন ঐতিহাসিক শুধু ইতিহাসবিদ নন, তাঁকে হতে হবে ইতিহাস বিজ্ঞানী। তাঁকে শুধু মানব ইতিহাসের প্রাচীন যুগ, মধ্য যুগ ও আধুনিক যুগ জানলেই হবেনা, তাকে জানতে হবে “A brief history of time”, A long history of time. শুধু তাই নয় তাকে জানতে হবে মহাবিশ্বের সাম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ইতিহাস সমূহকে। তাকে জানতে হবে, বুঝতে হবে কালের উভয় অভিমুখেই ইতিহাস রয়েছে_ইতিহাসের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব খানেই তার দৃষ্টি থাকবে। আর তখনই তিনি হয়ে উঠবেন একজন ইতিহাস বিজ্ঞানী। ইতিহাস মানবিক বিদ্যা নয়, ইতিহাস কলা বিদ্যা নয়, ইতিহাসকে হতে হবে ইতিহাস বিজ্ঞান।” Bachelor of Arts in history ” degree নয়, হতে হবে Bachelor of Science in history degree.

১.২ কোয়ান্টামতত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্বের অসংখ্য ইতিহাস রয়েছে এবং অসংখ্য সাম্ভাব্য ভবিষ্যৎ রয়েছে এবং যেটাকে আমরা নির্বাচন করি সেটাই আমাদের বাস্তবতা। যেহেতু বাস্তবতা মডেল নির্ভর এবং যেহেতু দর্শক নিরপেক্ষ বাস্তবতা নেই সেহেতু একজন ইতিহাস বিজ্ঞানীর দার্শনিক দৃষ্টিকোণ দ্বান্দ্বিক বস্তবাদী নয়, দ্বান্দ্বিক ভাববাদী নয়, হতে হবে দ্বান্দ্বিক নিরপেক্ষবাদী। তাঁর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যাও হবে দ্বান্দ্বিক নিরপেক্ষবাদী।

__Abu Momin

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

91 − = 88