একটি মেয়ের গল্প…।

শুভ্রা আজ অনেক সুন্দর করে সেজেছে । নীল শাড়িতে কপালে লাল টিপ, দুই চোখে টানা করে কাজল দেওয়া । মাথার চুলগুলো পেছনে খোপা করে বাধা । ঠোঁটে মিষ্টি লাল লিপস্টিক । হাতে কাচের চুড়ি । রীতিমত স্বর্গ থেকে নেমে আসা পরীর মত লাগছে ওকে । আর লাগবেই বা না কেনো ? আজ যে ওর বিয়ে । বিয়ের দিন প্রত্যেকটা মেয়েই যে সুন্দর করে সাজে । আর এই সুন্দর করে সাজার পেছনে উদ্দেশ্য থাকে শুধুমাত্র একজন কে দেখানোর জন্য । আর শুভ্রা যার জন্য সেজেছে সেই ছেলেটির নাম হচ্ছে রাহাত । হ্যা, রাহাতের সাথেই আজ ওর বিয়ে ।

অবশ্য বিয়ে উপলক্ষে বাড়িটা একদম ই সাজানো হয়নি ।
কারন বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হচ্ছে না ।
শুভ্রা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করতে যাচ্ছে ।

শুভ্রা অনেক ভেবে চিন্তেই এই ডিসিশন টা নিয়েছে । রাহাত নামের ছেলেটি তাকে খুব ভালবাসে । কিন্তু শুভ্রার বাবা মা কখনই এই সম্পর্ক মেনে নিবেন না । তাই দুজন মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পালিয়ে কাজি অফিসে বিয়ে করার । সকাল এগারোটায় মগবাজার কাজী অফিসের সামনে থাকবে রাহাত । ঘড়ি দেখল শুভ্রা । ন”টা বেজে গেছে । উহু দেরি করা চলবে না । শুভ কাজে কখনো দেরি করতে নেই ।

বেলা ১১টা :- কাজী অফিসের ভেতরে বসে আছে শুভ্রা । পাশে রাহাত । সাক্ষী হিসেবে এসেছে রাহাতের কিছু বন্ধু । কিছুক্ষণের মাঝেই শেষ হয়ে গেলো সকল আনুষ্ঠানিকতা । পার হয়ে গেলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ । এখন থেকে শুভ্রা রাহাতের বিবাহিত স্ত্রী ।

কোথায় যাবো এখন ? জানতে চাইলো শুভ্রা
কোথাও না, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো ।
ফাজলামি কোরো না । বউকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবে !!!
হুম ঘুরবো ।
একটু সিরিয়াস হই আমরা ? প্লিজ ?
ওকে, সিরিয়াস । চল আমরা এই যান্ত্রিক শহর ছেড়ে একটু দূরে যাই, যেখানে শুধু তুমি আর আমি ।
কোথায় এটা ?
টাঙ্গাইল । আমার খালার বাড়ি । খালার কাছে গিয়ে আগে সব খুলে বলতে হবে । পরে উনিই সব ম্যানেজ করবেন । আমাদের একমাত্র আশ্রয় এখন উনি ।
পারবেন তো উনি ?
হুম ১০০% ।

শুভ্রা আর রাহাত খালার বাড়িতে পৌঁছে গেছে । শুভ্রা বসে আছে একটি ঘরে । বাসায় কেউ নেই । বাসায় কাউকে না পেয়ে রাহাত ফোন দিল তার খালাকে । খালা জানালেন তিনি এলাকার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গেছেন । ফিরতে রাত হবে । রাহাতের কাছে অতিরিক্ত চাবি ছিল । সেই চাবি দিয়েই রাহাতকে বাসায় ঢুকে বিশ্রাম নিতে বললেন তিনি । বাসায় এসে বিস্তারিত কথা হবে ।

“এই, আমার কেন জানি ভয় করছে, শুভ্রা বলল ।
ভয় !! কিসের ভয় !! অবাক হয়ে জানতে চাইল রাহাত ।
জানি না কিসের ভয়, কিন্তু কেমন জানি লাগছে…
আমি পাশে থাকার পর ও তোমার ভয় লাগে ! আহত কণ্ঠে বলল রাহাত ।
না না, আসলে সবকিছু প্রথম প্রথম তো । তাই এমনটা লাগছে ।
আহা, চিন্তা করো না, আমি আর তুমি দুজনে সব সামলে নিব । কি পারবো তো আমরা ?
হুম ।
ওকে তুমি তাহলে বস, আমি তোমার জন্য চা বানিয়ে আনছি ।
আচ্ছা ।

শুভ্রা আর রাহাত এই মুহূর্তে মুখোমুখি বসে চা খাচ্ছে । রাহাতের মুখে হাসি । এই ছেলেটার হাসিটা খুব অদ্ভুত । দেখলেই মায়া লাগে । এই হাসি দেখেই ওর প্রেমে পড়েছিল সে । শুভ্রার মনে পরে যায় পুরোনো সেইসব দিনের কথা । একটা ঘোরের মাঝে চলে যায় সে । নিঃশ্বাস গভীর হয়ে আসে । আলো মুছে গিয়ে নীরব হয়ে আসে সবকিছু । তারপর…. তারপর শুধুই নিস্তব্ধতা….

ভাগফল :- শুভ্রার যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন রাহাতকে আর খুজে পায় না সে । নিজেকে আবিষ্কার করে ছোট একটা টিনের ঘরে । সামনে দুজন অপরিচিত মানুষ বসে আছে । নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করে গায়ে অসংখ্য কামড়ের দাগ, কোন কাপড় নেই । সারা শরীর জুড়ে তীব্র ব্যাথা । ঠোঁটগুলো প্রায় রক্তাক্ত হয়ে আছে । তাদের মুখ থেকেই নোংরা ভাবে জানতে পারে রাহাত তাকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে পতিতালয়ে । বাকি জীবন এই পতিতালয়েই তাকে জীবন কাটাতে হবে । যে ভালবাসার মানুষটির হাত ধরে সে ঘর ছেড়েছিল সেই মানুষটাই তাকে বিক্রি করে দিয়েছে । বিক্রি করে দিয়েছে পতিতালয়ে, একজন পতিতা হিসেবে ।

ভাগশেষ :- আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে নিশিতা । আজ সে ভার্সিটির ক্লাস ফাকি দিয়ে লং ড্রাইভে যাবে । রাহাতের সাথে আজ তার ফার্স্ট ডেট । ভেতরে ভেতরে চরম উত্তেজনায় ফেটে যাচ্ছে সে । ছটফট করছে । অথচ আয়নার সামনে একাকি দাঁড়িয়ে মুচকি হাসা এই মেয়েটির বিন্দুমাত্র ধারনা নেই ভবিষ্যতে তার সাথে কি হতে যাচ্ছে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 6 =