যৌনতাকে সহজভাবে মেনে নিন

গতকাল আমার এক কাকা ফোন করেছিল। সে ঢাকার একটি বাড়িতে কিছুদিন তত্ত্বাবধায়কের (সোজা কথায় দারোয়ান) দ্বায়িত্ব পালন করেছিল। এখন ওটি ছেড়ে দিয়েছে। যেসব কারণে ছেড়ে দিয়েছে তার একটি কারণ আমার আজকের লেখাটির সাথে প্রাসঙ্গিক। সেটি বলছি। এক প্রেমিকা ও তার প্রেমিক ওই বাড়িতে এসেছিল। নিশ্চয়ই শরীরের সাথে শরীর মেলাতে এসেছিল, যেটা খুবই স্বাভাবিক এবং খুবই দরকারী, বলা ভালো জরুরী। যেহেতু আশেপাশে স্থুলবুদ্ধির, মাথামোটা মানুষগুলো কিলবিল করছে চারপাশে, তাই কোন কারণে বাড়ির মালিকের কাছে ঐ প্রেমিক-যুগল ধরা খেল। আমার কাকাকে বললো ‘এদেরকে পেটাও’। কিন্তু কি করে সম্ভব একজোড়া নিরপরাধ মানুষকে এভাবে পেটানো!

আমার এক বান্ধবী, যে নিজে সমাজের এক কথিত অভিভাবক মানে স্কুল মাস্টার, আমাকে কিছুদিন আগে একটি ঘটনা ও তার নিজের নির্বিকার অসহায়ত্বের কথা বললো। এক সিঙ্গেল নারী (বিধবা বললাম না কেননা এই শব্দটি নারীর জন্য অবমাননাকর; নারীকে দুর্বল প্রমাণ করার জন্য পশুপুরুষ ও নির্বোধ নারী, পুরুষের অভিভাবকত্বের প্রসঙ্গটি টানেন)। তিনি কোন এক পুরুষের সাথে, যার সাথে তিনি বিবাহ-বন্ধনে (!) আবদ্ধ নন, শরীরী মিলনে অভ্যস্ত। ওই ব্যাপার কোনভাবে চোখে পড়েছে একদল কথিত সমাজ মোড়লের। ওখানে নাকি একটি গ্যাং আছে প্রায় ১০/১২ জনের যারা সবাই নারী এবং ঐ এলাকায় ওনারা অনেকটা নীতি পুলিশের দ্বায়িত্ব পালন করে থাকেন। আমার বান্ধবী বললো, ঐ নারীকে তার নিজের চোখের সামনেই প্রকাশ্যে অনেক লোকের উপস্থিতিতে ঐ অপমান, অপদস্ত, নির্যাতন, নিপীড়ন করলো ঐ নারী গ্যাংটি। বান্ধবী একজন স্কুল মাস্টার কিন্তু ঐ অসহায় নিরপরাধ নারীর জন্য কিছুই করতে পারে নি। কিছু করতে না পারায় আমি ভীষণ বিরক্ত হয়েছি এবং বলেছি- যেহেতু তুমি শিক্ষক, তোমাকে তারা চেনে, তাকে রক্ষা করার ক্ষমতা তোমার না থাকলেও এবং যেহেতু তোমার নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ারও সম্ভাবনা নেই তুমি অন্তত সত্যের পক্ষে নিজের মতটা তুলে ধরতে পারতে। অন্তত বলতে পারতে যৌনতা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য একটি স্বাভাবিক জৈব প্রবৃত্তি। এটি খাদ্য গ্রহন ও মল-মূত্রত্যাগের মতই স্বাভাবিক এবং একই সাথে জরুরী বিষয়। এই স্বাভাবিকত্বকে বাধা দিলে তার ফল কেবল নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও ক্ষতিকর। যার প্রমাণ সমাজ দেখছে কিন্তু বুঝতে চাইছে না কারণ তারা অসভ্য, অশিক্ষিত, বর্বর। তুমি অন্তত এতটুকু বলতে পারতে যে, দেখুন একজন শিক্ষক হিসেবে এবং আমার বোধবুদ্ধিতে যদ্দুর কুলোয় এই নারী কোন অন্যায় করে নি। সমাজের দৃষ্টিকোনে সে হয়তো ভুল করতে পারে কিন্তু মানবিক দৃষ্টিতে কোন অন্যায় করে নি, এতোটুকু নিশ্চিত। সমাজের সব কিছুই মানবিক নয়। শুধু তাই নয় আমাদের ভারতীয় সমাজে বেশিরভাগই নিয়ম-কানুনই অসভ্য, অমানবিক, বর্বর। ওই নারী নিরপরাধ। আমার কথা শুনে সম্ভবতও বান্ধবী সেবার অনুতপ্ত হলো।

এই কাজটি আমি প্রায়ই করি। ভালোবাসাকে আমি খুব সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ এমন দুজন নরনারীকে আমি আমার সর্বোচ্চ সহায়তা করি। তাদের মানসিক ও শারীরীক প্রেমে সহায়তা করতে, এমনকি আমার নিজের বোন, ভাই বা অন্য কাউকেও। পরিবার স্বামী স্ত্রীকে একই বিছানায় শুতে দিলে দুজন নর-নারী ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হলে তাদেরকে কেন একই বিছানায় শুতে দিবে না? বিয়েবদ্ধ সব যুগলের মাঝেই ভালোবাসা থাকে না। তবুও তারা শরীর ছোঁয়। এটা অশ্লীল ও অমানবিক। আবার ভালোবেসে দুজন নরনারী একে অপরকে ছুতে পারে না কেবল বিয়ে নামক অশ্লীল কর্মটি সম্পাদন করে না বা করতে পারে না বলে। বিয়ে হচ্ছে ব্যক্তিগত কর্মে অপরের অনুমোদন নেয়া। এটা চূড়ান্তভাবে অশ্লীল। ঐ অশ্লীল কাজটি সেরে নিলে ধর্ষণও বৈধ হয়ে যায়। এটা সভ্যতাবিবর্জিত প্রাচ্য সমাজ-বিধি।

বিয়েবহির্ভূত শরীরী সম্পর্ক নিষিদ্ধ। কিন্তু ওই নিষিদ্ধ কর্মটি কি হচ্ছে না? নিশ্চয়ই হচ্ছে। গোপনে হচ্ছে। কেউ ধরা খাচ্ছে। কেউ বিপদে পড়ছে। প্রেমিক থাকা সত্ত্বেও কোন নারী বা পুরুষ হস্তমৈথুন করে অর্গাজম ঘটাচ্ছে। কেউ ধর্ষক হচ্ছে। কারো শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কেউ মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। কারো মনে বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি অবচেতনভাবে ঘৃণা তৈরি হয়েছে। কোন কোন নারী বা পুরুষ সমকামে জড়িয়ে পড়ছে যদিও প্রকতিগতভাবে তারা বিষমকামী। কোন পুরুষ চাইল্ড এব্যুউস করছে। যৌনতার বিষয়টি একটি ট্যাবু। এ নিয়ে কথা বলাটাও নিষিদ্ধ। নারীদের জন্যতো আরো নিষিদ্ধ। কিন্তু বিষয়টি স্বাভাবিক, প্রাকৃতিক এবং জরুরী। বিষয়টি মেনে নেয়া আরও জরুরী। এরূপ একটি জরুরী বিষয়কে মেনে না নেওয়ায় প্রতিনিয়তই একটি রুগ্ন জাতিতে পরিণত হচ্ছি আমরা। ছেলে হোক বা মেয়ে হোক অচরিতার্থতা তার সারাদিনের কর্মকান্ডকে প্রভাবিত করে। যৌনতাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিলে সমাজের অন্তত ৫০ শতাংশ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, হলপ করে বলা যায়।

লিখাটি Tanmay Kumar Hera -এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 + = 81