পাগল এবং শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয় – (প্রসঙ্গঃ ইলেকশন কমিশন)


ম্যাডাম পিঙ্কি একসময় বলছিলেন, “শিশু আর পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ না।” বাটে পইরা উনার দল এবং শরীক জোটের প্রধান দাবী এখন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। নিরপেক্ষ ইসির এই ব্যাপারটাই হাস্যকর। গোলাপি ম্যাডামের কথার দাম দিতে গেলে ইসিতে বসাইতে হইতো পাগল অথবা শিশুদের। যাক, তাও ভালো যে সরকার উনার কথার মূল্য দেয় না। নাইলে কোনো স্বীকৃত পাগল নাইলে শিশুরে বসাইতে গিয়া ইতিহাস তৈরি কইরা ফেলতো আমাদের দেশ।


ম্যাডাম পিঙ্কি একসময় বলছিলেন, “শিশু আর পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ না।” বাটে পইরা উনার দল এবং শরীক জোটের প্রধান দাবী এখন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। নিরপেক্ষ ইসির এই ব্যাপারটাই হাস্যকর। গোলাপি ম্যাডামের কথার দাম দিতে গেলে ইসিতে বসাইতে হইতো পাগল অথবা শিশুদের। যাক, তাও ভালো যে সরকার উনার কথার মূল্য দেয় না। নাইলে কোনো স্বীকৃত পাগল নাইলে শিশুরে বসাইতে গিয়া ইতিহাস তৈরি কইরা ফেলতো আমাদের দেশ।

গণতান্ত্রিক দেশে আমার মতে এই সার্চ কমিটির মাধ্যমে যেভাবে নতুন ইলেকশন কমিশন সিলেক্টেড হইলো, তা জনগণের রায় না। এই প্রক্রিয়াটা শুরুতেই পলিটিসাইজড। শিশু, পাগল এবং অশিক্ষিত মানুষ ছাড়া সবারই বোঝার কথা শুরুতেই রাজনৈতিক দলসমূহ যেইসব নাম দিছিলো তাদের বিবেচনায় অবশ্যই তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে এমন মানুষের নামই প্রস্তাব করে তারপরই পাঠাইছে, রাজনৈতিক বিবেচনা অবশ্যই ছিল। গনতন্ত্রের মূল কথা হইলো জনগণের অংশগ্রহণ, জনগণের অংশগ্রহণ কিংবা রায় কই এইখানে? সবই তো দল দিয়া সিলেক্টেড, এরপর ওইখান থাইকা বাছাই করা। অবশ্য ব্যাপারটা অসাংবিধানিক না। পৃথিবীর নানা দেশে এইভাবেও হয় (সার্চ কমিটি থাকে নাকি জানি না)। যেমন, বৃটেনে নানা দলের থেকে নমিনেশন দেয়া হয়, ওইসব নিয়া হাউস অফ কমন্সে ভোটাভুটি হয়, ফাইনাই রাণি সায় দেন। প্রধান তিন দলের থাইকাই ইসির মেম্বারদের কাম সারা হয়।

ইসি উচ্ছন্নে যাক গিয়া। স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আগে দরকার নিরপেক্ষ প্রশাসন। নাইলে এই পাঁচ দেব দেবী মিলেও কিছু করতে পারবে না। উনাদের পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা, গতিবিধি তো আগেই সবার জানা থাকে। যেইখানেই যাবে, সেইখানেই গিয়া দেখবে ভোটগ্রহণ হইতেছে সুষ্ঠু। যাদের দিয়া স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এনফোর্স করাবে, তারাই যদি অস্বচ্ছ হয়, তাইলে তারা কিছুই করতে পারবে না, জানবেই না কিছু। আর সবাই তো জানেই যে প্রশাসনের কী অবস্থা এই দেশে। যখন যেই দল যায়, তাদের তাবেদারদেরই বেশি ঢুকায়। এই দেশে নিরপেক্ষতা শব্দটাই এমন প্রশ্নবিদ্ধ যে এইদেশে প্রধান বিচারপতি কিংবা সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের নিরপেক্ষতা নিয়াও প্রশ্ন উঠে। “আইজ্জা, বাইত যা!” শ্লোগানে আজিজুর রহমান নামের যেই কেয়ারটেকার গভঃ নাকি ইসি প্রধাণের বিরুদ্ধে আওয়ামী জোট ২০০৫-৬ সালে দেশে তুলকালাম চালাইছিলো, সেই লোকটাও সম্ভবত বিচারপতি ছিলেন। আওয়ামী আন্দোলন যৌক্তিক ছিল, কারণ, সেই লোকের ট্র্যাক রেকর্ড আসলেই নিরপেক্ষতার কথা বলতো না। সেই একই প্রশ্ন এখনকার বিচারপতিদের বিরুদ্ধেও ওঠে। অভিযোগ সঠিক নাকি সেইটা আপনাদের বিবেচনা। স্বল্প বুদ্ধিতে আমি অনেক ভুলভাল বুইঝা সেইটা লিখেও ফেলতে পারি। সব লেখা ঠিক না, বাক-স্বাধীনতার যুগ কী না…

চোখে সানগ্লাস পড়ি না, তবুও চারদিক রঙ্গীন লাগে। কতো হাসিখুশি মানুষের মুখ, নিষ্পাপ তাদের চোখের দৃষ্টি। এদের মধ্যে থেকে ৫ জন নিরপেক্ষ হোক না হোক, সৎ এবং আদর্শবান মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, বা গেলেও তাদের নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, এই ব্যাপারটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জ্বাজনক। সব দোষ গণতন্ত্রের। যেই দেশের অর্ধেক মানুষ অশিক্ষিত, মার্কা দেখে ভোট দেয় কিংবা জানেই না কাকে ভোট দেয়া উচিত, সেই দেশের জন্য গণতন্ত্র না। নিরপেক্ষ নির্বাচন হইলেও যখন সংসদে গিয়া আসর মাতায় সাকা চৌধুরী, বদি কিংবা লর্ড শামীম ওসমান, এই দায় প্রধাণত জনতারই। ৯১ কিংবা ২০০৭ এর নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়া প্রশ্ন করা অবান্তর, কিন্তু জনতাই তো এদের নির্বাচিত করে। সংসদে যারা জনতার সেবার জন্য নির্বাচিত হইয়া যান, তাদের বেশিরভাগই দেশের সবচেয়ে অযোগ্য এবং খারাপ চরিত্রের মানুষ।

ইসির নিয়া আর কী বলি? যত নিরপেক্ষই হোক, নির্বাচন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ হবে না যদি প্রশাসন নিরপেক্ষ না হয়, টাকার খেলা, ভয়ের রাজনীতি যদি বন্ধ না হয়। আর এই দিকটাতে আমাদের দেশ স্টেজ থ্রি টাইপ ক্যান্সারে আক্রান্ত। আমি ক্যান্সার রুগী না, আমি রঙ্গীন চশমায় সেইভাবে অভ্যস্ত না, তবু আমার চারপাশে লাল রঙ। স্বচ্ছ বাতাসও নাই, পিউরিফায়ার নষ্ট। রোগের চিকিৎসার সব ডাক্তার মরে গেছেন, কোনো প্রেসক্রিপশন খুঁজে পাচ্ছি না…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “পাগল এবং শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয় – (প্রসঙ্গঃ ইলেকশন কমিশন)

  1. “গোলাপি ম্যাডামের কথার দাম
    “গোলাপি ম্যাডামের কথার দাম দিতে গেলে ইসিতে বসাইতে হইতো পাগল অথবা শিশুদের।”
    পুরা লেখাটাই মজা লাগছে।
    “আমি ক্যান্সার রুগী না, আমি রঙ্গীন চশমায় সেইভাবে অভ্যস্ত না, তবু আমার চারপাশে লাল রঙ। স্বচ্ছ বাতাসও নাই, পিউরিফায়ার নষ্ট। রোগের চিকিৎসার সব ডাক্তার মরে গেছেন, কোনো প্রেসক্রিপশন খুঁজে পাচ্ছি না…”
    এইটা জোশ ছিল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 2