কৃষিতে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন

কৃষি পণ্য বিশেষ করে ধান গবেষণায় দেখা যায় ধানে প্রাকৃতিক গুণাগুণ সীমাবদ্ধ করে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধ জন্য ধান পেন্টন্ট করা শুরু হয়েছে পেন্টেন্ট শব্দের আভিধানিক অর্থ সংরক্ষণ করা। বীজকে এমন ভাবে রাসায়নিকভােব পরিবর্তিত করা হয় যাতে একবা ফসল উৎপাদন পর তার থেকে আর ফসল উৎপাদন করা না যায়।ফলে পরিবর্তী বীজ কেনার জন্য উন্নয়নশীলদেশ সমূহ উন্নত বিশ্বের বীজ উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।বলা হয়ে থাকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদের শাস্তি দিতে ভবিষ্যৎ কামান, রাসায়নিক অস্ত্র লাগবে না বরং ধানের পেন্টেন্ট যথেষ্ট।

বাংলাদেশের শুধুমাত্র হবিগজ্ঞে একসময়ে ৪২৫ জাতের ধানের চাষ করা হত। সারা দেশে যার সংখ্যা ছিল ৯ হাজারের অধিক।আজ যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে দেশি প্রজাতির ধানগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। এবার আসি দেশি প্রজাতির ধান চাষ রেখে কৃষক কিভাবে হাইব্রিড ধানের প্রতি ঝুকলো সেই দিকে এইক্ষেত্রে ড. ইউসুস ও বামপন্থি নেতৃবৃন্দ মালিকাধিন এনজিও গুলো বিশেষ অবদান রাখে।বীজ উৎপাদনকারি কোম্পানী সিনজেনটা আর গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৯৬ সালে চুক্তি করে যাতে গ্রামীণ কৃষক কে ঋণ বাবদ হাইব্রিড বীজ দেওয়া হবে।অন্য দিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের অজুহাতে কৃষকদের মধ্যে হাইব্রিডের উপকারিতা বুঝতে ১৩০ কোটি টাকা এনজিও মাধ্যম জনসচেতনা খাতে বরাদ্দ করে তৎকালিন সরকার।

হারিয়ে যাচ্ছে মালিকানা
দেশি প্রজাতির সাড়ে নয় হাজার ধানের জিন কোড, ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও পাসপোর্ট বা বংশপরিচয় তৈরি না করায় এসব ধানের মালিকানা হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া এসব ধান বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ভিন্ন নামে পেটেন্ট করে বাজারজাত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যেই বাসমতি চাল টেকনোমতি নামে পেটেন্ট করে বাজারজাত করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ চালের মালিকানা আমরা আর দাবি করতে পারব না। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘বায়োপাইরেসি’। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী নিজস্ব সম্পদের অধিকার বা মালিকানা পেতেও ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশনে (আইপিআর) পেটেন্ট জমা দিতে হয়। আইপিআর বিশ্বের সব দেশকে তাদের খাদ্যসামগ্রী, ফসল, লতাপাতা ও গাছের নিজস্ব পেটেন্ট তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলো। যা তালিকা জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিলো ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক সম্পদের নামওজমা দেয়নি। তবে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময় চেয়েছে।বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার খাদ্যশস্যের মালিকানা চুক্তির ২৭ (৩) টি ধারা অনুযায়ী সব দেশকে নিজস্বআইন তৈরির মাধ্যমে নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদের পেটেন্ট তৈরির সুযোগ দিয়েছে। কোনো দেশের পেটেন্টভুক্ত খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, আমদানি ও রফতানি করা হলে মালিকানাদেশের অনুমতি লাগবে এবং রয়ালিটি দিতে হবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিআর ২৯ জাতের ধান সিনজেনটা কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ প্রবেশ করানেরা জন্য। সিনজেনটা বিআর২৯ জাতে ভিটামিন ‘এ’ প্রবেশ করিয়ে ‘গোল্ডেন রাইস’ নামে বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

28 − 25 =