ছায়াপথের সেই মেয়েটি==

ইমরান: এই শোন না?
ইতি: কি বল?
ইমরান:ভালবাসি….. অনেক।
ইতি: দিবো থাপ্পর একটা?
ইমরান: তুই কি একটুও বুঝবিনা আমাকে?
ইতি: তোকে কতোবার বলছি বন্ধু হয়ে থাকলে থাক, না হয় রাস্তা মাপতে পারিস ।
ইমরান: তোকে আমার ভাল লাগে এতে আমার কি দোষ বল?
ইতি: আমারও তো ভাল লাগা থাকতে পারে তাই না আর
তোকে কোন দিন সেই ভাবে দেখনি ।
ইমরান:বল না কি করলে ভালবাসবি?
ইতি: তুই যাবি এখান থেকে.. না, আমি চলে যাবো?
ইমরান: এই নিয়ে ৩২ বার তোরে প্রোপজ করলাম রিজেক্ট করলি,
আচ্ছা ভালবাসতে হবে না, একটু ভালবাসতে দিস ।
ইতি: ওই দেশে কি মেয়ের আকাল পড়ছে যে, আমার সাথে লেগে আছিস আঠার মতো ।
ইমরান:কি করবো বল তুই আমার ফাস্ট ক্রাশ ।
ইতি: তাই বলে ভূতের মতো আমার ঘাড়েই চাপতে হইলো?
ইমরান:ভাল যখন বেসেছি তোকে হ্যা করিয়েই ছাড়বো ।
ইতি:পাগলামীর একটা লিমিট আছে আর তুই ভাবলী কি করে
তোর মতো গাধারামকে আমি ভালবাসবো?
ইমরান:মানে?
ইতি:মনে আছে, ভারসির্টির প্রথম দিনের কথা যেদিন তুই আমাকে থাপ্পর দিছিলি,
সেদিন থেকেই বান্ধবীদের কাছে বাজী ধরছিলাম তোকে আমার পিছে ঘুড়াবো
আর ৩২ বার প্রোপজ করাবো আজ সেই কাজ শেষ করলাম ।
ইমরান:প্রতিশোধ নিলি । সেদিনের ভূল তোর ছিলো আর আজকের ভূলটাও তোর ।
তোকে মনে জায়গা দিয়েছিলাম কিন্তু তুই এতো নিচু মনের জানাছিলো না ।
কিন্তু বুঝবি একদিন ভূলগুলো, সেদিন হয়তো কেউ পাশে থাকবে না।
……………………………………….
ইতির সাথে পরিচয়টা হয় কিছুটা রাগারাগী দিয়ে সেদিন ভার্সিটির প্রথম দিন ছিলো…..
তাই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার জন্য অনেকটা আগেই চলে আসলো ইমরান ভারসির্টিতে ঢুকতেই
একটা ৭-৮ বছরের একটা পিচ্চি দেখতে পেলে যে কি না ফুল বিক্রি করছে.
একটা মেয়েকে জোর করে ফুল বিক্রি করার চেস্টা করলে মেয়েটি ধাক্কা মারে পিচ্চিটাকে
আর গাছের সাথে লেগে পিচ্চিটার মাথা দিয়ে রক্ত ঝড়তে থাকে….
এটা দেখে ইমরান রেগে যেয়ে মেয়েটার গালে থাপ্পর দিয়ে বসে আর সেই মেয়েটিই হচ্ছে ইতি ।
…………………………………
ইমরান:এই পিচ্চিদের কি মানুষ বলে মনে হয় না?
ইতি:তাই বলে এভাবে বিরক্ত করবে আর সব মেনে নিবো নাকি?
ইমরান:একটু ভাল করে বললেই চলে যেতে তাই বলে রক্ত ঝরানোর কি প্রয়োজন ছিলো ?
ইতি:এতোই যখন কষ্ট হচ্ছে হাসপাতালে নিলেই তো পারেন?
ইমরান:আপনার মতো তো অকৃতজ্ঞ তো হতে পারি না ।
তারপর পিচ্চিটাকে নিয়ে হাসপাতালে যায় ইমরান ব্যান্ডেজ করে কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিদাই করে পিচ্চিটাকে
পরে যদিও ইতি মাফ চেয়েছিলো এমন আচারনের জন্য
তখন কে আর জানতো এমন নীল নকশার বিষ এঁকে রেখেছে মনের মধ্যে ।
খুব অল্প সময়ে অনেকটা কাছে চলে আসে।
বন্ধুত্বটা যে এতো সহজেই ভালবাসার রুপ নেবে বুঝতেই পারিনি ইমরান ।
হয়তো সেটাই ছিলো বড় ভূল….
অনেক দিন হয়ে গেল ভারসির্টি যায় না ইমরান বিশেষ করে এতোটাই ভেঙ্গে পড়ছিলো যে
সবার উপর বিশ্বাসটাই হেরে গেছে তাই ঠিক করছে আবার নতুন করে শুরু করবে ।
বিশ্বাস ঘাতকদের জন্য তো জীবন থেমে থাকতে পারে না তাই ভারসির্টির দিকে রওনা হলো ।
ভারসির্টিতে গিয়ে আগের মতো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া শুরু করলো সময় ভালই পার হচ্ছিল
বড়ি ফেরার সময় ইতি পথ আটকে দাড়ালো
ইতি:কিছু কথা আছে?
ইমরান:তোর কোন কথা শুনার সময় নেই আমার ।
ইতি:তোকে শুনতেই হবে ।
ইমরান:আচ্ছা তাড়াতাড়ি বলে কেটে পর আমাকে যেতে হবে ।
ইতি:আসলে তোকে ঠকাতে গিয়ে নিজেই হেরে গেছি এই কয়েক দিনে ঠিক বুঝতে পেরেছি
তোকে হারাতে গিয়ে কখন যে ভালবেসে ফেলেছি তা নিজেও জানি না ।
ইমরান:নাটক তো ভালই পারিস তোর এই সব দেখার সময় আমার হাতে নেই ।
ইতি:ভূল তো মানুষই করে, দেনা মাফ করে ।
ইমরান:ভূল কারলে মাফ করা যায়, বিশ্বাস ঘাতককে নয় ।
ইতি:এবারের মতো কি মাফ করে দেয়া যায় না ।
ইমরান ইতিকে কিছু না বলেই চলে যেতে থাকে ।
ইমরান এটা বুঝতে পেরেছে ইতিও অভিনয়ের আরালে নিজের ভালবাসা খুজে পেয়েছে ।
না হয় সেটা মিথ্যা ভালবাসা দিয়েই শুরু হোক না কেন কিন্তু ইমরান তার এই ছলনায়
নিজেকে আর জড়াতে চায় না…. বিশ্বাসটা বড় জিনিস। যদি একবার,
ভেঙ্গে যায় তা জোড়া লাগানো যায় না । হঠাৎ
রাস্তার বিপরীত পাশ থেকে রিক্সা ডাক দিয়ে উঠতে যাবে ঠিক সেই সময় ইতি ইমরানকে ধাক্কা দিয়ে
বাচাতে গিয়ে নিজেই এক্সিডেন্ট করে প্রাইভেট কারের সাথে ।
ছিটকে পরে থাকে রক্তমাখা শরীরটা ইমরান দৌড়ে গিয়ে আকড়ে ধরে ইতিকে।
মাথা থেকে প্রচুর রক্ত ঝড়ছে শার্টটা যেন ইতির রক্তে লাল হয়ে যাচ্ছে।
এম্বুলেন্সে করে ইতিকে হাসপাতালে নেয়া হয় এরপর
ফোন করে ইতির বাসায় জানানো হয় এর মাঝেই ডাক্তার এসে বলে,
ইতি আর বেশীক্ষন বাচবে না ইমরান ছুটে যায় ইতির কাছে।
ইমরান:কেন বাচাতে গেলি আমায়?
ইতি:সব সময় তো বলতি ভালবাসি না!!! আজ সেই ভালবাসার না হয় একটু খানি মূল্য দিয়ে গেলাম
ইমরান:তাই বলে আমাকে একা করে চলে যাবি স্বার্থপরের মতো ।
ইতি:জীবনটাকে এতোটা ভাল করে ভাবার সময় কখনো হয়নি ।
কিন্তু তোর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো ছিলো আমার জীবনের বিশেষ অংশ ।
সেদিনের অপমান মেনে নিতে পারছিলাম না তাই বান্ধবীদের সাথে বাজী ধরছিলাম ।
আর তুই ভাল করেই জানিস আমি হারতে পছন্দ করিনা কিন্তু
এটা বুঝেছি তুই আমার জীবনের এমন একটা বিশেষ অংশ যা নিজের অজান্তেই হেরে গেছি তোর ভালবাসার কাছে।
ইমরান:তাই বলে এভাবে হারিয়ে দিয়ে চলে যাবি আমাকে একা করে….
ইতি:যাচ্ছি কোথায়!! তোর ছায়াপথের সেই মেয়েটি হয়ে রয়ে যাবো তোর
ভালোবাসার ছায়াপথে………! আজীবন

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 24 = 26