রোহিঙ্গা নিধনের খবর এভাবে কেন দিচ্ছে প্রথম আলো?

স্পর্শকাতর ইস্যুতে নিউজ করা সহজ কাজ নয়। তবে যাদের সেখানে নিজের একটা ধান্ধা থাকে তারা সহজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারে। যেমন রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর মায়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বর্ণনা নিয়ে রাত সোয়া এগারোটায় প্রথম আলো অনলাইনে যে খবরটি দিয়েছে সেটার হেডলাইন খুবই ভয়াবহ উস্কানীমূলক।

?oh=6af07f9b0fda3517196a90a927a7b65b&oe=594AE6E1″ width=”500″ />
ঘটনা সত্য হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, কেননা জাতিসংঘ বলেছে কমপক্ষে ১,০০০ জন নিহত হয়েছেন।

কিন্তু ‘কেটে চার টুকরো করে মিয়ানমারের বাহিনী’ হেডলাইনের সাথে টিজার হিসেবে “হাসিনা বেগমের চোখে-মুখে ভয়ের অভিব্যক্তি। যেন কেউ তাড়া করেছে তাঁকে। মিয়ানমার…,” তাও আবার মাঝরাতে টপ নিউজ! খুবই দায়িত্বজ্ঞানহীন একটা কাজ।

নিউজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হাসিনা বলছেন তিনি আর কোনদিন মায়ানমারকে মনে রাখবেন না।বললেন, ‘আমি এখানে কেবল খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান চাই।তাতেই আমি সুখে থাকব।’

?oh=74100ec3fee9c7eaa3fad9725494d8c9&oe=590DFD68″ width=”500″ />
মানে বহির্বিশ্বের চাপে মায়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজী হলেও তারা যাবেন না।অন্যদিকে আরেকটি অনলাইন পত্রিকার আজকের খবর হলো তারা টেকনাফ থাকবেন না আবার সরকারের পরিকল্পনামাফিক হাতিয়াতেও যাবেন না; নিজের দেশে ফিরবেন।

গত অক্টোবর/নভেম্বর থেকে দেশী-বিদেশী মিডিয়ার কাছে একই রকমের ঘটনার বর্ণনা কয়েক হাজার রোহিঙ্গা দিয়েছে, দিচ্ছে। আইএসের চেয়েও নির্মমভাবে খুন-ধর্ষণের ঘটনা বর্ণনা করে প্রতিনিয়ত নিউজ ছাপা হচ্ছে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে ওআইসি, বাংলাদেশ থেকে মালোয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া মায়ানমার সরকারকে চাপ দিচ্ছে সেনা অভিযান বন্ধ করে নির্যাতনের তদন্ত করতে, এবং বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে সবাইকে নাগরিকত্ব দিতে।

বাংলাদেশ সরকার অফিশিয়ালি বর্ডার খুলে না দিলেও প্রায় ৭০,০০০ রোহিঙ্গাকে ঢুকতে দিয়েছে। যদিও ধর্মভিত্তিক দল ও গোষ্ঠী এবং আল-কায়েদা বলছে এই সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য কিছু করছেনা। অথচ আশ্রয় নিতে আসা মানুষদের বিভিন্ন জঙ্গিদলে ভেড়ানোর কাজ চলছে পুরোদমে।

সীমান্তে ৯ই অক্টোবরের হামলাব্যাপক সাড়া ফেলেছে জঙ্গিদের মধ্যে। আইএস, আল-কায়েদা আর তালিবান ইতিমধ্যেই হারাকাহ-আল-ইয়াকিনকে (আকামুল মুজাহিদিনের সহযোগী সংগঠন) সমর্থন জানিয়েছে।অন্যদিকে নিষিদ্ধ জঙ্গি দল হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে আহবান করেছে তাদের অধীনে মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে। ফেসবুক, টুইটার আর ইউটিউবে শয়ে শয়ে একাউন্ট খোলা হয়েছে; ভুঁইফোঁড় ওয়েবসাইটে গরম খবর, ছবি; চলছে প্রচারণা।প্রতিনিয়ত জ্বলছে লাইক, শেয়ার আর প্রতিশোধের আগুন।মানে সবাই আগে থেকেই রেডি ছিল। সলতে জ্বালানো হয়ে গেছে। এখন এ আগুন ছড়িয়ে পড়বে।আরাকান রাজ্য (রাখাইন) দখল করে ইসলামের পতাকা উড়ানোর অসমাপ্ত কাজকে বাস্তবে রূপ দিতে সব প্লটই এখন প্রস্তুত।

মানবতার খাতিরে মিডিয়া ও মানবাধিকার সংগঠন তো আছেই।বর্বরতার চিত্র ধারণ ও প্রচার করাই তাদের কাজ।তার উপর এবারের উত্তেজনা একমুখী– সেনারা মুসলিমদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে।আর ২০১২-তে যে হত্যা-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায় তা ছিল রোহিঙ্গা-বৌদ্ধদের দাঙ্গা। এবার তাই রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানভূতি বেশি।

অন্যদিকে, মাঠ পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক ও সুপ্রীম কোর্টের সামনে ইসলাম রক্ষার আন্দোলন; সব উগ্র ধর্মভিত্তিক দল-গোষ্ঠী জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকার, নাস্তিক-ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলন কর্মী, রাজাকার বিরোধী আন্দোলন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-আদিবাসী-শিয়া-আহমদীয়া-লালনপ্রেমী-মাজারপন্থীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। যাতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (আল-কায়েদার বাংলাদেশ শাখা) ও আইএস তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যায়।

অরাজনৈতিক ও শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতিক্রিয়া অবশ্য এমনটা নয়।তারা কেউ বা ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ দিয়ে ইংরেজিতে স্ট্যাটাস দিচ্ছে, কেউ টুইট করছে, কেউ বাংলা-ইংরেজি ব্লগিং করছে, সাথে ইন্টারনেটে পাওয়া ছবি-ভিডিও। কেউ কেউ চাঁদা তুলে দল বেঁধে টেকনাফ গিয়ে রোহিঙ্গাদের খাদ্য-বস্ত্র-চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে।

একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব।সত্তরের দশকে সেনা অভিযানের চাপে ঝিমিয়ে পড়া আরাকান রাজ্য (রাখাইন) এখন আবার অশান্ত। এখন মায়ানমার সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এই যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব।সেক্ষেত্রে নামকরা পত্রিকা/টিভিগুলোকে নিউজ করার ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “রোহিঙ্গা নিধনের খবর এভাবে কেন দিচ্ছে প্রথম আলো?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

32 − 26 =