রবীন্দ্র ও নজরুল তর্ক-বিতর্কে


আজ আলোচনার সূত্রপাত মায়ের সাথে রবীন্দ্র ও নজরুল তর্ক বিতর্কে। মায়ের দাবী, নজরুলের অসুস্থতার পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন রবীন্দ্রনাথ। সেই সাথে নজরুলের কোন প্রকার সুচিকিৎসা ভারত সরকার করেন নাই, কারণ সে মুসলমান। নজরুলের লেখার তীব্র গতি দেখে রবীন্দ্র নাথ ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে নজরুলকে পঙ্গু ও পাগল করে দিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় মা রেগে গিয়ে, আমি মুসলমানদের বিপক্ষে ও হিন্দুদের পক্ষে কথা বলি বা বলছি দোষে দুষ্ট করলেন। তিনি করতেই পারেন, কিছুক্ষণ পরে রাগ ভূলে আদরও করেন। সব ধর্মের মানুষেরাই এই দোষে দুষ্ট করে থাকেন। আমার মায়ের মত দেশের বৃহত্তর একটি অংশ উপরোক্ত ব্যাপারগুলোকে গভীর ভক্তি ভরে বিশ্বাস করে। এই না জানার কারণ অজ্ঞতা, ধর্মের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস, ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিশ্বাসের ভাইরাস। আমার মা যাদের কাছ থেকে কথাগুলো জেনেছেন তারা মিথ্যা বলেছেন এবং মা তা যাচাই না করে ও বিশ্বাস করে ভূল করেছেন।

আমি চিৎকার, ঝগড়া বা যুক্তিহীন কথায় বিশ্বাসী নই। আমি তথ্য, প্রমান, নিরপেক্ষ চিন্তা ও যুক্তিতে বিশ্বাসী।

রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর জন্মগ্রহন করেন ৭ই মে, ১৮৬১ এবং মারা যান ৭ই আগস্ট, ১৯৪১। তার মৃত্যু সাল প্রমান করে দিচ্ছে নজরুলের অসুস্থতার পেছনে রবীন্দ্র নাথ হাত সম্পূর্ণ মিথ্যা, যুক্তিহীন, বানোয়াট ও হাস্যকর। কারণ নজরুলের অসুস্থতা ধরা পরেছে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের মৃত্যুর এক বছর পর! তবে কি তিনি মৃত্যুর পরেও নজরুলকে হিংসা করতেন যে মৃত অবস্থায় নজরুলকে হত্যার ষড়যন্ত্র চালিয়ে গিয়েছিলেন। হাস্যকর ই বটে। চিন্তা করুন সামান্য তথ্য না জানার কারনে মৌলবাদীরা কি করে মগজধোলাই দিয়ে যাচ্ছে আমাদের সাধারণ মানুষদের। জানা মতে তাদের মাঝে সুসম্পর্ক বিরাজমান ছিল এবং আবেগমাখা ও সম্মানপূর্ণ চিঠি আদান প্রদান হতো।

এবার আসি নজরুলের অসুস্থতা ও চিকিৎসার দিকে। নজরুল অসুস্থ হয়ে পরেন ১৯৪২ সালে। এতে তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তার অসুস্থতা সম্বন্ধে সুষ্পষ্টরুপে জানা যায় ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে। এরপর তাকে মূলত হোমিওপ্যাথি এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু এতে তার অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। সেই সময় তাকে ইউরোপে পাঠানো এবং সম্ভব হলে নিউরো সার্জারি করা হতো কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। ১৯৪২ সালের শেষের দিকে তিনি মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। এরপর নজরুল পরিবার সাথে ভারতে নিভৃত সময় কাটাতে থাকে। ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তারা নিভৃতে ছিলেন। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে কবি ও কবিপত্নীকে রাঁচির এক মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল নজরুলের আরোগ্যের জন্য গঠিত একটি সংগঠন যার নাম ছিল নজরুল চিকিৎসা কমিটি, এছাড়া তৎকালীন ভারতের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি কবিকে সহযোগিতা করেছিলেন। কবি চার মাস রাঁচিতে ছিলেন।

এরপর ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে নজরুল ও প্রমীলা দেবীকে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানো হয়। মে ১০ তারিখে লন্ডনের উদ্দেশ্যে হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন ছাড়েন। লন্ডন পৌঁছানোর পর বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন। এদের মধ্যে ছিলেন: রাসেল ব্রেইন, উইলিয়াম সেজিয়েন্ট এবং ম্যাককিস্ক- তারা তিনবার নজরুলের সাথে দেখা করেন। প্রতিটি সেশনের সময় তারা ২৫০ পাউন্ড করে পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন। রাসেল ব্রেইনের মতে, নজরুলের রোগটি ছিল দুরারোগ্য বলতে গেলে আরোগ্য করা ছিল ছিল অসম্ভব। সেখানকার একটি গ্রুপ নির্ণয় করেছিল যে, নজরুল “ইনভল্যুশনাল সাইকোসিস” রোগে ভুগছেন। এছাড়া কলকাতায় বসবাসরত ভারতীয় চিকিৎসকরাও আলাদা একটি গ্রুপ তৈরি করেছিলেন। উভয় গ্রুপই এই ব্যাপারে একমত হয়েছিল, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা ছিল খুবই অপ্রতুল ও অপর্যাপ্ত। লন্ডনে অবস্থিত লন্ডন ক্লিনিকে কবির এয়ার এনসেফালোগ্রাফি নামক এক্স-রে করানো হয়। এতে দেখা যায় তার মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব সংকুচিত হয়ে গেছে। ড: ম্যাককিস্কের মত বেশ কয়েকজন চিকিৎসক একটি পদ্ধতি প্রয়োগকে যথোপযুক্ত মনে করেন যার নাম ছিল ম্যাককিস্ক অপারেশন। অবশ্য ড: ব্রেইন এর বিরোধিতা করেছিলেন।

এই সময় নজরুলের মেডিকেল রিপোর্ট ভিয়েনার বিখ্যাত চিকিৎসকদের কাছে পাঠানো হয়। এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও পাঠানে হয়েছিল। জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জন অধ্যাপক রোঁয়েন্টগেন ম্যাককিস্ক অপারেশনের বিরোধিতা করেন। ভিয়েনার চিকিৎসকরাও এই অপারেশনের ব্যাপারে আপত্তি জানান। তারা সবাই এক্ষেত্রে অন্য আরেকটি পরীক্ষার কথা বলেন যাতে মস্তিষ্কের রক্তবাহগুলির মধ্যে এক্স-রেতে দৃশ্যমান রং ভরে রক্তবাহগুলির ছবি তোলা হয় (সেরিব্রাল অ্যানজিওগ্রাফি)- কবির শুভাকাঙ্খীদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে ভিয়েনার চিকিৎসক ডঃ হ্যান্স হফের অধীনে ভর্তি করানো হয়। এই চিকিৎসক নোবেল বিজয়ী চিকিৎসক জুলিয়াস ওয়েগনার-জাউরেগের অন্যতম ছাত্র। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর কবিকে পরীক্ষা করানো হয়। এর ফলাফল থেকে ড. হফ বলেন , কবি নিশ্চিতভাবে পিক্স ডিজিজ নামক একটি নিউরন ঘটিত সমস্যায় ভুগছেন। এই রোগে আক্রান্তদের মস্তিষের ফ্রন্টাল ও পার্শ্বীয় লোব সংকুচিত হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন বর্তমান অবস্থা থেকে কবিকে আরোগ্য করে তোলা অসম্ভব। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ২৭ ডিসেম্বর তারিখে কলকাতার দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা ভিয়েনায় নজরুল নামে একটি প্রবন্ধ ছাপায় যার লেখক ছিলেন ডঃ অশোক বাগচি- তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ভিয়েনায় অবস্থান করছিলেন এবং নজরুলের চিকিৎসা সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। যাহোক, ব্রিটিশ চিকিৎসকরা নজরুলের চিকিৎসার জন্য বড় অংকের ফি চেয়েছিল যেখানে ইউরোপের অন্য অংশের কোন চিকিৎসকই ফি নেননি। অচিরেই নজরুল ইউরোপ থেকে দেশে ফিরে আসেন। এর পরপরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায় ভিয়েনা যান এবং ড. হ্যান্স হফের কাছে বিস্তারিত শোনেন। নজরুলের সাথে যারা ইউরোপ গিয়েছিলেন তারা সবাই ১৯৫৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর রোম থেকে দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

উপরোক্ত তথ্যগুলো থেকে বেশ ভাল ভাবে বোঝা যাচ্ছে, তার চিকিৎসা বিলম্বিত হয়েছিল বিশ্ব যুদ্ধের জন্য কিন্তু পরবর্তীতে তার বেশ উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যা কবির যোগ্য প্রাপ্য অবশ্যই। এখানে ধর্ম সঙ্ক্রান্ত কোন অবহেলা ছিল না। তার অনেক পরে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে তারিখে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে তার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবর্তনে তাকে এই উপাধি প্রদান করা হয়। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারিতে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। একুশে পদক বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্মানসূচক পদক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এরপর যথেষ্ট চিকিৎসা সত্ত্বেও নজরুলের স্বাস্থ্যের বিশেষ কোন উন্নতি হয়নি। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে কবির সবচেয়ে ছোট ছেলে এবং বিখ্যাত গিটার বাদক কাজী অনিরুদ্ধ মৃত্যুবরণ করে। ১৯৭৬ সালে নজরুলের স্বাস্থ্যেরও অবনতি হতে শুরু করে। জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এবার নজরুলের ধর্ম চিন্তা নিয়ে কিছু আলোচনা করি। নজরুল তার একটি গানে লিখেছেন, “মসজিদেরই কাছে আমায় কবর দিয়ো ভাই / যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই”;- কবির এই ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনা করে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী তাঁর সমাধি রচিত হয়। আবার নজরুল, ১৯৪০ সালে কলিকাতায় বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতিরি ঈদ-সম্মেলনে প্রদত্ত সভাপতির অভিভাষণ বলেছিলেন, “ইসলাম জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে সকলের শ্রদ্ধা অর্জন করতে পেরেছে।” [নজরুল রচনাবলী – (৭) পৃষ্ঠা ৩৩]।
নজরুলের অসংখ্য শ্যামা সঙ্গীত সহ হিন্দু ধর্ম নিয়ে লেখা বিদ্যমান। তিনি ধর্মের উদ্ধে উঠে হিন্দু মেয়ে বিয়ে করেছিলেন। ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের কঠোর সমালোচনা করেছেন। পরবর্তীতে ইসলামের সমালোচনার কারনে তাকে মুরতাদ ঘোষণা করেন তৎকালীন মোল্লারা। আর তখন বাঙ্গালী মুসলমান হাম নাদের বৃহৎ একটি ভাণ্ডারের মালিক হয়ে ওঠেন! মুরতাদ নজরুল হয়ে ওঠেন মুসলমান কবি।

শেষে নজরুলের কিছু লেখা দিয়ে শেষ করছি।
” মারো শালা যবনদের!”মারো শালা কাফেরদের!’-আবার হিন্দু-মুসলমানী কান্ড বাঁধিয়া গিয়াছে।প্রথমে কথা-কাটাকাটি,তারপর মাথা-ফাটাফাটি আরম্ভ হইয়া গেল।আল্লাহর এবং মা কালীর প্রেষ্টিজ রক্ষার জন্য যাহারা এতক্ষণ মাতাল হইয়া চিৎকার করিতেছিল তাহারাই যখন মার খাইয়া পড়িয়া যাইতে লাগিল দেখিলাম তখন আর আল্লা মিয়া ও কালী ঠাকুরের নাম লইতেছেনা।হিন্দু মুসলমান পাশাপাশি পড়িয়া থাকিয়া এক ভাষায় আর্তনাদ করিতেছে,বাবা গো ,মাগো !মাতৃ-পরিত্যাক্ত দুটি ভিন্ন ধর্মের শিশু যেমন এক স্বরে কাঁদিয়া তাহাদের মাকে ডাকে!দেখিলাম ,হত -আহতদের ক্রন্দণে মসজিদ টলিল না,মন্দিরের পাষাণ দেবতা সাড়া দিলনা।শুধু নির্বোধ মানুষের রক্তে তাহাদের বেদী চিরকলঙ্কিত হইয়া রহিল। … … … … দেখিলাম, আল্লাহ্র মসজিদে আল্লা আসিয়া রক্ষা করিলেন না, মা কালী মন্দির কালী আসিয়া আগলাইলেন না ! মন্দিরের চূড়া ভাঙ্গিল, মসজিদের গুম্বুজ টুটিল।” ( মন্দির ও মসজিদ প্রবন্ধ)

” ধর্মের সত্যকে সওয়া যায়, কিন্তু শাস্ত্র যুগে যুগে অসহনীয় হয়ে ওঠেছে বলেই তার বিরুদ্দ্বে যুগে যুগে মানুষ ও বিদ্রোহ করেছে। হিন্দুত্ব মুসলমানত্ব দুই সওয়া যায়, কিন্তু তাদের টিকিত্ব দাড়িত্ব অসহ্য,কেননা ঐ দুটোই মারামারি বাঁধায়। টিকিত্ব হিন্দুত্ব নয়,ওটা হয়তো পন্ডিত্ব। তেমনি দাড়িও ইসলামত্ব নয়,ওটা মোল্লাত্ব। এই দু “ত্ব”মার্কা চুলের গোছা নিয়েই আজ এতো চুলোচুলি। আজ যে মারামারিটা বেঁধেছে, সেটা ও এই পন্ডিত মোল্লায় মারামারি,হিন্দু মুসলমানে মারামারি নয়। নারায়নের গদা আর আল্লাহর তলোয়ারে কোনো দিনই টুকাটুকি বাধবে না, কারন তার দুজনেই এক ,তাঁর এক হাতের অস্ত্র তাঁরই আরেক হাতের উপর পড়বেনা। তিনি সর্বনাম,সকল নাম গিয়ে মিশেছে ওঁর মধ্যে।এত মারামারির মধ্যে এই টুকুই ভরসার কথা যে,আল্লাহ ওরফে নারায়ন হিন্দুও নন, মুসলমানও নন। তাঁর টিকিও নেই, দাড়ি ও নেই।একেবারে ক্লিন।টিকি দাঁড়ির ওপর আমার এত আক্রোশ এই জন্য যে, এরা সর্বদা স্মরন করিয়ে দেয় যে ,তুই আলাদা, আমি আলাদা। মানুষকে তার চিরন্তন রক্তের সম্পর্ক ভুলিয়ে দেয় এই বাইরের চিহ্নগুলো।

অবতার -পয়গম্বর কেউ বলেননি, আমি হিন্দুর জন্য এসেছি, আমি মুসলমানের জন্য এসেছি , আমি ক্রিশ্চানের জন্য এসেছি। তাঁরা বলেছেন ,আমরা মানুষের জন্য এসেছি-আলোর মতো , সকলের জন্য। কিন্তু কৃষ্নের ভক্তরা বললে, কৃষ্ন হিন্দুর , মুহম্মদের ভক্তরা বললে,মুহম্মদ মুসলমানদের,খ্রীষ্টের শিষ্যরা বললে, খ্রিষ্ট খ্রিশ্চানদের।কৃষ্ন , মুহম্মদ ,খ্রিষ্ট হয়ে ওঠলেন জাতীয় সম্পত্তি। আর এই সমপ্তিত্ব নিয়েই যত বিপত্বি। আলো নিয়ে কখনো ঝগড়া করেনা মানুষ,কিন্তু গরু ছাগল নিয়ে করে।” ( হিন্দু মুসলমান প্রবন্ধ)
নজরুলের অনুধ্যানে উপলব্ধি হয়েছিল যে, মানুষ যদি পৃথিবীতে না আসতো তাহলে কোন ধর্মগ্রন্থ আসতো না। মানুষের জন্য ধর্ম গ্রন্থ, ধর্মগ্রন্থের জন্য মানুষ নয়। মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে এই ধর্মগ্রন্থ সৃষ্টি করেছে। তাই তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে বলেছেন,
“মানুষেরে ঘৃণা করি,
ও কারা কোরান,বেদ,বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি?
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে
যেই মানুষেরা আনিল গ্রন্থ, সেই মানুষেরে মেরে
পূজিছে গ্রন্থ, ভণ্ডের দল! মূর্খেরা সব শোনোঃ
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো!’

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “রবীন্দ্র ও নজরুল তর্ক-বিতর্কে

  1. সমানে সমানে প্রতিদ্বন্দিতা হয়
    সমানে সমানে প্রতিদ্বন্দিতা হয়। আজ জন্ম নিল এমন কারো সাথে নিশ্চয়ই আমি প্রতিদ্বন্দিতা করতে যাবো না। নজরুলের যখন জন্ম হয় ১৮৯৯ তে, তখন রবি ঠাকুরের বয়স ৩৭। নজরুলের বয়স যখন মাত্র ১৪ তখন এলো রবি ঠাকুরের হাতে নোবেল। আমি আমার বয়সী কারো সাথে তুলনায় যাবো, বা এ প্রতিদ্বন্দিতায় বড়জোর বয়সের ফারাকটা ১০-১৫ বা ২০ হতে পারে। তাই বলে ৩৭! নিজের নাতির সাথে লড়াই করার মত।
    ওদের ঐ তুলনা করাকে গুরুত্ব দেয়াটাও পাগলামী। এমন অনেক হাজার অজ্ঞতায় ডুবে আছে ওরা।
    চিকিৎসার ব্যাপারটা খোলসা করে জানতাম না। জানা হলো

    অনেক ধন্যবাদ

    1. আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য
      আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। সত্যি বলতে এ ব্যাপারে আর আলোচনার প্রয়োজন আছে। তাদের তুলনাকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে, কারন এই মিথ্যা ইস্যুটি তুলে তারা সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিচ্ছে, দুদিন পর জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের দাবী তুলবে। সাধারন মানুষ নজরুলকেও বুঝে না রবিকেও জানে না। তারা জানে তাদের একজন জন্মগত ভাবে মুসলমান আর একজন হিন্দু। আর আসল ব্যাপারটি এখানেই। রবির নামে একটি দোষ না দিলে তো তাদের তুলনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই তাদের মাঝে তুলনা বন্ধ করতে চাইলে এই ব্যাপারগুলো পরিষ্কার করে নিতে হবে।

শুভ মাইকেল ডি কস্তা শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 9