জ্যাকুলিন মিথিলার আত্নহত্যা আমাকে অবাক করেনা, আমাকে লজ্জিত করে!

জ্যাকুলিন মিথিলার আত্নহত্যা আমাকে অবাক করেনা, আমাকে লজ্জিত করে! জ্যাকুলিন কি আত্নহত্যা করে ইতিহাসে নন্দিত হতে চেয়েছিল? নাকি রাগের মাথায় অর্থহীন আত্নহত্যা করে বসেছিল? হ্যাঁ জ্যাকুলিনের ইচ্ছে ছিল নিজের স্বল্প উদ্যম কিছু ন্যুড ছবি পোস্ট করতে। সেই করেছে। তার ছবিগুলোতে সেখানে ভাল-মন্দ নোংরা কুৎসিত মন্তব্যও পড়েছে। আমি জ্যাকুলিন মেয়েটা কে, কোথাকার মেয়ে জানিনা। তার ছবিটাও এখনো আমার চোখে পড়েনি। হয়তো কোনো পাতলা গড়নের লিকলিকে লম্বা শরীরের অধিকারী চাকচিক্য সুন্দরী হবে হয়তো। তবে এই অল্প কয়দিনে ফেসবুক বন্ধুদের কিছু লেখা পড়ে তার সম্পর্কে আঁচ করতে পেরেছি।

যেটুকু জেনেছি সেটুকুর আলোকেই বলছি। জ্যাকুলিন কিছু অল্প উদ্যম শরীরের ছবি পোস্ট করত। সেখানে পুরুষরা নোংরা ভাষায় তাকে মন্তব্য করত। কেউ কেউ তাকে ইয়ে… করার ইচ্ছেও পোষন করত! এই অপমানে জ্যাকুলিন আত্নহত্যা করেছে। এবং অবশেষে মরে গেল। এই দুর্বল অক্ষম আত্নহত্যায় মৃত জ্যাকুলিনের জন্য আমার কোনো শোক হয়না। বরঞ্চ তার নির্বুদ্ধিতার জন্য আমার করুণা হয়। আমাদের সমাজে নারীদের আত্নহত্যার প্রবনতা বেশি। দীর্ঘকাল প্রেমিকের সাথে শারিরিক সম্পর্ক করে প্রেমিক যদি বিয়ে না করে, তাহলে আত্নহত্যার পথ বেছে নেয় মেয়েটি। কোনো একপাল পুরুষ-হায়েনা দ্বারা ধর্ষিত হলে লজ্জিত ও অপমানিতবোধ করে আত্নহত্যা করে মেয়েটি। অথচ পুরুষরা ধর্ষন করে গর্ববোধের সাথে কি সুন্দর নির্লজ্জের মতো ঘুরে বেড়ায়! এদেশের অধিকাংশ মেয়েরা দেখি তাদের যৌন-সঙ্গমের ভিডিও বা ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ পেলে লজ্জায় আত্নহত্যা করে বসে। জ্যাকুলিন মিথিলাও এসব মুর্খ অশিক্ষিত ব্যক্তিত্বহীন প্রচলিত ধ্যান-ধারণার মেয়েদের থেকে একটুও আলাদা নয়। এই ক্ষেত্রে কোনো পুরুষ লজ্জায় আত্নহত্যা করেছে বলে এমনটা শোনা যায় না। কিন্তু মেয়েরা করে। তো পুরুষরা দিব্যি বেঁচে থাকতে পারলে মেয়েরা পারেনা কেন? আরে খেয়েছি, শুয়েছি, ভোগ করেছি, আনন্দ পেয়েছি, তৃপ্ত হয়েছি। তো কি হয়েছে? এতে লজ্জা পেয়ে আত্নহননের পথ বেছে নেয়ার কি আছে? যৌনতা কি অস্বাভাবিক কিছু? বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যৌন-মিলন করাটাই তো স্বাভাবিক। তাই না? তো এখানে মানসিক বিপর্যয় শুধু মেয়েটার কেন হবে? মেয়েটা নরম তুলতুলে আবেদন ময়ী বলে? তার শারিরিক গঠন মেয়েলী বলে? নাকি কখনো বিয়ে হবেনা বলে? আর এই ধারণা কেন শুধু মেয়েরা পোষন করবে? জ্যাকুলিনের ভাবা উচিত ছিল যে, তার ন্যুড ছবি সবাই শৈল্পিক দৃষ্টিতে দেখে তাকে সুন্দর, শালীন ও মার্জিত ভাষায় মন্তব্য করবে এমনটা নয়। সব মন্তব্যকারী যে তার অনুকুলে গিয়ে তাকে সুন্দর সুন্দর প্রশংসায় ভাসিয়ে দিয়ে আসবে তাও তো নয়। পৃথিবীর সব কিছু নিজের অনুকুলে থাকবে, এটা আশা করা মুর্খামি। প্রতিকুল থাকবেই। আর প্রতিকুলের মুখোমুখি হয়ে প্রতি নিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে থাকাটা হল জীবনের স্বার্থকতা। এটাই জীবনের বিজয়।

দ্বিখন্ডিত নাকি কোন বইয়ে ঠিক মনে পড়ছে না, একজন সৎ লেখক তসলিমা নাসরিন তার আত্নজীবনীতে নির্দ্বিধায় নিঃসংকোচে বলছেন, রাজনীতিজীবি কায়সারকে আমার ভালো লাগে। আমি শারিরিক মিলনের সময় তাকে খুব ভোগ করি। কায়সার যতটা না আমাকে ভোগ করে, তার চে বেশি আমি তাকে ভোগ করি। এখানে তসলিমার সাহসী ঘোষনাটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এখানে এক বিশালাকার দানবীয় পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে একজন নারী শিড়দাঁড়া করে খুব সাহসের সাথে দাঁড়িয়ে বলছে, ভোগ শুধু তোমরা না, আমরাও করতে পারি! সেল্যুট তসলিমা নাসরিন।

-জ্যাকুলিন মিথিলা আমার কাছে একজন দুর্বল পরাজিত নারী ছাড়া কিছুই নয়। জ্যাকুলিন মিথিলার আত্নহত্যা আমাকে অবাক করেনা, আমাকে লজ্জিত করে! আমি এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে তাদের আত্নহত্যার পরাজয় গ্লানি দেখে সত্যিই লজ্জিত হই। কারণ জ্যাকুলিনরা নারী-পুরুষের বৈষম্যকে ছাপিয়ে গিয়ে নিজেকে এখনো মানুষের সমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি বলে…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “জ্যাকুলিন মিথিলার আত্নহত্যা আমাকে অবাক করেনা, আমাকে লজ্জিত করে!

  1. তথ্যে কিছু ভুল আছে বোধহয় ,
    তথ্যে কিছু ভুল আছে বোধহয় , তারে ভার্চুয়ালি কেউ কিছু বলেছে বলে আত্মহত্যা করেনি , নিউজে এসেছে – তার স্বামী এবং স্বামীর পরিবারের বিয়ে ভাঙ্গার জন্য চাপ তাকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করেছে যাতে সে আত্মহত্যা করে , সত্যতা নিউজ সুত্র আর তার পরিবারই ভালো জানে যাদের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ , ধন্যবাদ , ভালো লিখেছেন ! 🙂

  2. দীর্ঘকাল প্রেমিকের সাথে

    দীর্ঘকাল প্রেমিকের সাথে শারিরিক সম্পর্ক করে প্রেমিক যদি বিয়ে না করে, তাহলে আত্নহত্যার পথ বেছে নেয় মেয়েটি।

    আর দীর্ঘকাল প্রেমিকার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করার পরও প্রেমিকা যখন ছ্যাকা দেয়, বাপের পছন্দের টাকাওয়ালা পাত্রকে বিয়ে করে, তখন অনেক ছেলেও আছে যারা আত্মহত্যা করে। আমার পরিচিত এরকম কিছু কেসও আছে।
    বস্তুত, যারাই এরকম করুক, প্রেমিক হোক বা প্রেমিকা, তাদের নৈতিকতা ও আইন- উভয়স্থানেই দোষী বলে মনে করি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

98 − 97 =