বাংলাদেশের মুসলমানেরাই সবচেয়ে বড় ভণ্ড এবং ইসলাম অবমাননাকারী!- পর্ব-০১

কিছুদিন আগে ফেসবুকে জনৈক ব্যক্তির ‘কুরানে মূত্রত্যাগ করব’ শীর্ষক এক ভিডিও বেশ আলোচিত হয়েছিলো। পক্ষে বিপক্ষে নানা জনে নানা মত দিয়েছেন। আমার মতামত হচ্ছে, নিজের নাস্তিক্যবাদ প্রচারের জন্য কুরানে মূত্রত্যাগ খুব একটা ফলদায়ী কর্মকাণ্ড নয় সম্ভবত। মূত্রত্যাগ নিয়ে আলোচনা করাও আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়।
তো কুরানে মূত্রত্যাগের এই কথাবার্তা শুনে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের মুসলমানদের ধর্মানুভূতি আহত হয়েছে। তার জোর প্রতিবাদও জানিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিরক্ষর জেলে রসরাজকে ফাঁসিয়ে দেওয়া সেই ফটোশপ করা কাবা শরীফের ছবি দেখেও মুসলমানদের ধর্মানুভূতি আহত হয়েছিলো। রামুর উত্তম বড়ুয়াকে ফেসবুকে ট্যাগ করে দেওয়া ছবি দেখেও তাদের ধর্মানুভূতি আহত হয়েছিল। কুমিল্লার হোমনাতেও আল্লাহ-নবীকে কটাক্ষ করা হয়েছে এমন গুজব(সত্যি নয়) রটানো হলেও সেখানকার স্থানীয় মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লেগেছিলো। এমন মিথ্যা গুজবে ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগার ঘটনা এবং তৎপরবর্তী নাশকতা এদেশে অনেক ঘটেছে।

কিন্তু লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, কুরান, আল্লাহ এবং নবীর অবমাননায় মুসলমানদের শুধুমাত্র তখনই ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে যখন কোনো অমুসলিমের নামে গুজব রটানো হয় কিংবা কোনো নাস্তিক কুরান নিয়ে কিছু বলে কিংবা লিখে, অথবা পশ্চিমের কোনো পত্রিকায় আল্লাহ-নবী নিয়ে কার্টুন আঁকা হয়। মুসলমানেরা যখন কুরান পোড়ায়, কুরান ছিঁড়ে ফেলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, মসজিদে ভাঙচুর করে কিংবা নিজেদের স্বীয় স্বার্থে আল্লাহ-নবীকে ব্যবসা করে তখন এদেশের সাধারণ মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে একটুকুও আঘাত লাগে না! নিচে তার কয়েকটা উদাহরণ রাখলাম।

রসরাজ নয় জাহাঙ্গীরঃ-
রসরাজ কাবা শরীফের অবমাননাকর ছবি পোস্ট করেছে গুজব রটিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট(ডাকাতি), ১৫-২০ টি মন্দির ভাঙচুর এবং ৫০ জনের মতো ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে আহত করা হলো। রসরাজের ফাঁসি চাওয়া হলো। কিন্তু পরে তদন্তে বের হয়ে আসলো, নিরক্ষর রসরাজ নয় নাসিরনগের সাইবার ক্যাফে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরই কাবা শরীফের এই ছবি ফটোশপ করে বানিয়েছে এবং স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার সাথে যোগসাজশে এই ছবি অনলাইনে ছড়িয়েছে হিন্দুদের উপর নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যে।
সত্যিকারের কাবা অবমাননা-কারী ধরা পড়লো কিন্তু দেশে কোনো ইসলামী সংগঠন প্রতিবাদ করলো না, কেউ জাহাঙ্গীরের ফাঁসি দাবি করল না, কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগলো না! বিধর্মী নির্যাতনের বেলাতেই মুসলমানদের যত ধর্মানুভূতি।

হেফাজতের কোরান পোড়ানোঃ-
৫ মে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় বায়তুল মোকাররমের মসজিদের আশেপাশে অনেক দোকানে আগুন দেয় হেফাজত। এতে কুরান শরীফসহ অনেক ইসলামী বই পুস্তক পুড়ে যায়। তাজ্জব ব্যাপার হচ্ছে শত শত কুরান পোড়ানোর পরও কোনো মুসলমানের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগলো না। কিন্তু কোনো হিন্দু কুরান পুড়িয়েছে এই গুজন রটাতে পারলেই কিন্তু ধর্মানুভূতি এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে কেয়ামত হয়ে যেতো।

হেফাজতের পোড়ানো কুরান, মে ২০১৩।

সাতকানিয়ায় জামাত শিবিরের কুরান ছেঁড়াঃ-
হিন্দুরা কুরান ছিঁড়ে ইসলাম অবমাননা করছে এমন গুজব রটাতেই কুরান ছিঁড়ে ফেলে জামাত শিবির কর্মীরা। কিন্তু বিধিবাম পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় প্রমাণসহ। এভাবে কুরান ছিঁড়া এবং হাতেনাতে অপরাধী ধরা পড়ার পরও বাংলাদেশের কোনো মুসলমানের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে নি। জুমার নামাজের পর কেউ ওই জামাত শিবির কর্মীদের বিরুদ্ধে মিছিল বের করে নি। কেউ ফাঁসি চেয়ে মানববন্ধনও করে নি।
একবার ভাবুন, তারা যদি ধরা না পড়তো আর গুজব রটাতে সক্ষম হতো তাহলে সাতকানিয়ার হিন্দুদের কপালে কোন দুর্দশা অপেক্ষা করেছিলো!

এরকম ঘটনা আরো অসংখ্য রয়েছে। আমি মাত্র তিনটা উপস্থাপন করলাম। সত্যিকারের ইসলাম অবমাননাকারী, কুরান অবমানকারী, আল্লাহ-নবী অবমাননাকারী মুসলমান হলে এই দেশের মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে না। চরমোনাই পীর, হেফাজতে ইসলাম, জামাত শিবির কুরান পোড়ালে, ছিঁড়লে, নিজেদের স্বার্থের জন্য আল্লাহ-নবীর নামে মিথ্যা গুজব রটালে এই দেশের মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগবে না। তাদের ধর্মানুভূতি আহত হয় শুধু কোনো নাস্তিক ইসলামের যৌক্তিক সমালোচনা করে বই লিখলে কিংবা অমুসলিম কারো নামে ইসলাম অনমাননার গুজব রটাতে পারলে।

এই দেশের মুসলমানের সবচেয়ে বড় ভণ্ড এবং সবচেয়ে বড় ইসলাম অবমাননাকার

তথ্যসূত্র- ১) রসরাজ নয় জাহাঙ্গীর http://www.amadershomoy.biz/unicode/2016/12/09/205525.htm#.WKB7FC3yvIU
২) জামাত শিবির কর্মীদের নাশকতার উদ্দেশ্যে কুরান ছেঁড়া নিয়ে সময় টিভির প্রতিবেদন https://www.facebook.com/joybanglaaaaa/videos/1072696229418539/?autoplay_reason=all_page_organic_allowed&video_container_type=0&video_creator_product_type=2&app_id=2392950137&live_video_guests=0
৩) হেফাজতের কুরান পোড়ানী নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার লিংক-
http://www.kalerkantho.com/home/printnews/346110/2013-05-07
http://www.dainikazadi.org/details2.php?news_id=1293&table=may2013&date=2013-05-13&page_id=6

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “বাংলাদেশের মুসলমানেরাই সবচেয়ে বড় ভণ্ড এবং ইসলাম অবমাননাকারী!- পর্ব-০১

  1. এদেশের মানুষের যতোটা না ইচ্ছা
    এদেশের মানুষের যতোটা না ইচ্ছা আছে ধর্মরক্ষায়, তার চেয়ে কিছু বেশি ইচ্ছা- হিন্দুদের এদেশ হতে তাড়ানোর। তারা সহ্য করতে পারছে না আর তাদের। হিন্দুরা এদেশে থেকে কাফের বানিয়ে দিচ্ছে দেশটাকে- এটাই তাদের ধারণা।
    সবচেয়ে মজার ব্যাপার- এরা নাস্তিক ব্লগারদের ছুপা হিন্দু মনে করে। আর সেভাবেই ট্রিট করে!
    সার্কাসটিক!

  2. একজন কোরানে মূত্রত্যাগের
    একজন কোরানে মূত্রত্যাগের ইচ্ছা পোষন করেছেন, অন্যজন মূত্রত্যাগ করে দেখিয়েছেন। এই ঘটনার পর বুঝা গেল ঐশী গ্রন্তে হাগা-মুতা করলে কোন সমস্যা হয় না। আল্লার কোন কেরামতি দেখা যায় নাই। সাধারন একটা বইয়ের মত কোরানের আসলে কোন ক্ষমতা নাই। এই ঘটনায় কোরান বা আল্লার ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হলো। বইয়ে হাগা-মুতা ভাল কোন কাজ নয়, তারপরও অন্ধ ধার্মিকদের অলৌকিক বিশ্বাসের উপর চপেটাঘাত দেওয়া হয়েছে।

  3. দুর্গার মুর্তি দেখলে আমার
    দুর্গার মুর্তি দেখলে আমার সোনা খারাইয়া যায় এর কোন ঔষধ কি বেদে আছে? মালাউনের বাচ্চারা যে কিভাবে এই দুর্গার পুজা করে শালারা মনেহয় সব নংপুশক!

    1. মন্তব্য দেখে বুঝা যায় আপনি
      মন্তব্য দেখে বুঝা যায় আপনি কার উম্মত! মুহাম্মদের উম্মতদের মুর্তি দেখলে খাড়ায়া যায়, আর বাস্তবে দেখলে কাপড় ভিজে যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 6 =