অধরচন্দ্র যেখানে লাশ পাওয়া যায়

অধরচন্দ্র…
লাশের মিছিল গিয়ে যেখানে জড়ো হয়, স্কুল মাঠ।
শত শত মানুষের আহাজারি, কখন আসবে সেই মিছিলে তার প্রিয় মানুষটি। কখন দেখবে প্রিয় মুখখানি।
সেকেন্ড মিনিট ধরে পার হয়ে যায় ঘন্টার পর ঘন্টা…
এই বুজি আসলো, আসছে, অপেক্ষা…
সূর্য ওঠে, আবার অস্ত যায়। এখনো আসেনি সেই প্রিয় মানুষটি, যার প্রিয় মুখখানি দেখার জন্য অধরচরন্দ্র অধির আগ্রহে ঠায় দাঁড়িয়ে…
আসবে, আসছে…
মিছিলে মিছিলে আসছে অনেকে, আসছে না একান্ত আপন মানুষটি। আমার ভাই, যার সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক। যাকে আমি ভালোবাসি। এক সাথে কত রকমের খেলা আর দুষ্টমি করেছি। অনেক ঝগড়াও মাঝে মাঝে করেছি, যার টাকায় আমাদের সংসার ও আমার লেখা পড়ার খরচ চলে। আজ তার প্রতিক্ষায় অধরচন্দ্রে…
কখন যে পেটে পানি পড়েছে মনে নেই, মনে নেই খাবারের কথাও। একটা মাত্র মেয়ে। অভাবের সংসার। অনেক স্বপ্ন নিয়ে এসেছে ঢাকায়। চাকরী করবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে, সংসারের অভাব অনাটন দূর করবে। মা’র কষ্ট দূর করে ঢাকায় নিয়ে ভালো ডাক্টার দেখাবে। এত এত স্বপ্ন যে দেখিয়েছিলো আজ তাকেই খুজে পাচ্ছি না। সে জীবিত আছে কি তাও জানি না। আছি আশার আলো জ্বালিয়ে অধরচন্দ্রে, এই বুজি এলো আমার বুকের মানিক। এই বুজি আমাকে ডাক দিলো। তাই এই স্কুল মাঠে অপেক্ষা আর প্রতিক্ষা…
লাশের মিছিলের গাড়ী দেখলে আশার আলো জ্বলে ওঠে। পরিশ্রান্ত শরীরে শক্তি উকি দেয়। দৌঁড়ে গিয়ে দেখি, খুজি এক এক করে। না… আমার মা আসেনি, আসেনি তার লাশ। যিনি আমাকে দশ মাস দশ দিন তার গর্ভে ধারণ করেছিলো আজ তাকে আমি খুজে পাচ্ছি না। পাচ্ছি না এখানে, পাচ্ছি না সেখানে। দুই ভাই দুই বোনের সোনালী জীবন দান করার প্রত্যয়ে যে মা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে, যে মা তার কষ্ট কে কষ্ট মনে না করে সারাক্ষণ আমাদের কষ্টের কথা চিন্তা করেছেন, যে মা নিজে না খেয়ে আমাদের খাইয়েছেন, যে মা তার নিরাপদ বুকে আমাদের আগলে রেখেছেন আজ আমি তাকে পাচ্ছি না। মা কে পাচ্ছি না। আমার মা কে পাচ্ছি না। কোথায় আছে কেমন আছে তাও জানি না। তাই আছি স্কুল মাঠে, অধরচন্দ্রে, যেখানে লাশ পাওয়া যায়…
চেনার উপায় নেই, নেই বুঝার অবস্থা। আপন মানুষটিকে যেন আপন করে চিনতে কষ্ট হচ্ছে। সুন্দর মুখখানি যেন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। গায়ের রং যেন নতুন রং এ মলিন হয়ে গেছে। মায়াবি মুখখানি যেন ভয়ঙ্কর দেখতে। পরিচিত মুখখানি অপরিচিত হয়ে গেছে…
অধরচন্দ্র! যেখানে লাশ পাওয়া যায়।
চারাপাশে মানুষ, শত শত মানুষ। স্বজনদের খোজে মানুষ। কারো ভাই, কারো বোন, কারো স্ত্রী, কারো মা, নাতী, ছেলের বউ আসবে এখানে লাশ হয়ে। তাকে চিনতে হবে, বুঝাতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে, করতে হবে আইডেন্টিফাই। অনেকে শনাক্ত করতে পেরেছে তার বোন, ভাই, স্ত্রী। শেষ হয়ে গেলো সকল আশা আখাঙ্কা, নিভে গেলো সোনালী ভবিষ্যত। আর কখনো কেউ আপন আলোয় আলোকিত করতে ডাকবে না। শাসন-বারণ করবে না, বকবে না। খাবার নিয়ে মা আর ছেলের জন্য অপেক্ষায় থাকবে না। নিস্তেজ, নিথর দেহ। নিয়ে যাচ্ছে রিক্সা ভ্যানে করে, গাল বেয়ে অশ্রুজ্বল ঝড়ে।
শান্তনা একান্ত করে, নিজ হাতে আপন লোকটিকে না ফেরার দেশে ধর্মীয়ভাবে যাবার ব্যবস্থা করা, মহান আল্লাহ্’র কাছে একটু দোয়া চাওয়া।
এ যেন বিদায় জানানোর শেষ অবস্থান। এ বিদায় সুখের নয়, আনন্দের নয়, নয় কোনো উৎসবের। যারা এ বিদায়ের ঘন্টা বাজিয়েছে তারা কোনো সাধারণ মানুষ নয়। তারা মানুষ নামের পূজিবাদী শক্তি। যে পূজিবাদী শক্তির কাছে মানুষের জীবন প্রোডাকসন মাত্র। অসচেতনতা কে পূজি করে এক শ্রেণীর মানুষ শাসন শোষন করে যাচ্ছে। সামান্য জীবিকার তাগিদে যারা পরিশ্রম করতে দূর দূরান্ত থেকে পারি দিয়ে এসেছে আজ তারা নিথর দেহে রূপান্ত হলো। সংসার কে সামান্য সচ্চল করার স্বপ্ন নিয়ে যারা স্বজনদের মায়া ভালোবাসা ত্যাগ করে শহরে এসেছিলো আজ তারা লাশ হয়ে নিজ গ্রামে ফেরত যেতে হচ্ছে। তাদের কাছে শ্রমিকের জীবনের মূল্য সামান্য ক’টা টাকা মাত্র। পূজিবাদীদের হাত শক্তিশালী। শত শত মানুষ কে পুড়িয়ে মারলেও তাদের বিচার হয় না, বিচার হয় না শত শত শ্রমিকের দেহ কে প্রাণহীন মৃত বানালে, নিস্তেজ নিথর করলেও তাদের বিচার হয় না। তারা বিত্তবান ও শক্তিশালী।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা আর গভীর শোক জানানোই তাদের মূল কাজ। এ যেন রিতিমত রুঠিন মাফিক অবস্থান। আলোচনা সভা, শোকসভা, স্মরণসভা ইত্যাদির মাধ্যমে কয়েকদিন বেশ রৌদ্রজ্জ্বল খড়াতাপের আগুনের মত জ্বলতে থাকে। মৃত মানুষগুলোকে নানান শব্দে বিখ্যাত করার চেষ্ঠা করা থাকবে, ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়া জুড়ে থাকবে তাদের জীবনের নানান গল্প কাহিনী। ধীরে ধীরে আবার আগের মত হারিয়ে যাবে। শুরু হবে নতুন কোনো কাহিনী নিয়ে। তখন একেবারেই ডুবে যাবে এই সব মানুষদের জীবনের গল্প, যে জীবন শেষ হয়েগেলো রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপের মাঝে।
২৭ এপ্রিল শনিবার সাভার অধরচন্দ্র স্কুল মাঠে এমনই শুনেছি আমি। চার পাশে মানুষের আত্মচিৎকার আমাকে ব্যকুল করে তুলেছে, করে তুলেছে আমার ভিতরে আবেগঘন পরিবেশ। অশ্রুজ্বল যেন অজানতেই নেমে গেলো টপ করে।
আমি রিতিমত অবাক। এখানে আমার আপনজন কেউ নেই, নেই তেমন কোনো পরিচিত পরিজন। সবাই আমার কাছে নতুন মুখ, অজানা পথিক। আমার ভিতরটা হু হু করে ওঠে। রূদপিন্ড যেন নিরব নিথর হয়ে যাচ্ছে…, পা দুটো আরও শক্ত হয়ে পড়ে…, অধরচন্দ্রে অধির আগ্রহরত সবার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলি।
এ আত্মচিৎকার অধরচন্দ্রের আত্মচিৎকার নয়, সমগ্র জাতির আত্মচিৎকার। এ কাঁন্না অধরচন্দ্র স্কুল মাঠের কাঁন্না নয়, এ কাঁন্না যেন বাংলা মায়ের কাঁন্না। আপনজনদের খুজে পাবার কাঁন্না।
সাড়ি সাড়ি লাশ, অগনিত মানুষ। অপেক্ষা শুধু নিজের আপন লোকের খোজে। আর সে আপন লোকটি হোক প্রাণহীন তাও ভালো। শেষবারের মত তাকে আপন করে দেখা যাবে, স্পর্শ করা যাবে সে হাতে, যে হাত দিয়ে আপন আলোয় ভূলিয়ে দিতেন অজান সকল কষ্ট, দুঃখ।
আর এ অপেক্ষা হয়’ত কারো একজনের আবার কারো বহু জনের জন্য। এমনও অপেক্ষায় আছেন, পৃথিবীতে যার আপন জন বলতে একমাত্র তিনিই, সে তার মা। কেউ আবার অপেক্ষায় আছেন জীবন সঙ্গীনি, ভালোবাসার বন্ধনের স্ত্রী’র জন্য। অনেকে আবার প্রতিক্ষায় আছেন নিজ বাবার অরৌশজাত ভাই কিংবা বোনের জন্য। অসুস্থ্য শরীর, বয়সের ভারে ভেঙ্গে পড়া বৃদ্ধ বাবাটি মিটমিট করে তাকিয়ে আছেন লাশের পথের দিকে, এই বুঝি এলো তার একবিন্দু রক্ত কনিকা থেকে তৈরি অরৌশজাত ছেলেটি।
একজন আবার একেবারেই অন্য রকম। বুক পকেটে ছবি, বুকের ভিতরে ভালোবাসা, স্বপ্নময় আশা দু’চোখ জুড়ে। হাউমাউ করে কাঁদতে পারছে না, কাঁন্না আসছে না। কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনা বর্ণের যোগে শব্দবাক্য হয়ে মুখ থেকে বের হচ্ছে না। নিরব নিথর হয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছে এই বুঝি ফিরে এলো তার একান্ত ভালোবাসার মানুষটি, যাকে সে কথা দিয়েছিলো সামনের মাসে বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে নতুন জীবনে পা রাখার, সংসার করার। ভালোবাসার মানুষটির হাত ধরে ঘুরে বেড়ানোর। কাউকে বলতে পারছে না, কারণ আমাদের সভ্য সমাজে গরীবদের ভালোবাসা হচ্ছে অসভ্য। যত সব আশা-ভালোবাসা বড় লোকের জন্য। আমরা কখনই মানুষ হয়ে মানুষের মর্যদা পায়নি হয়’ত ভবিষ্যতেও পাবো না। কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ভালো পোশাক পড়লে বলে এটা চুরির টাকায় কেনা আর বড় লোকেরা চুরির টাকায় কিনলে বলে এটা তার পরিশ্রমের ফসল।
আমি যেন এমনই শুনেছি এক ক্ষুব্ধ প্রেমিকের মুখ থেকে। চোখ মুখ তার লাল হয়ে আছে। ভরাক্রান্ত মন, অপেক্ষার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে গাড়ির দিকে, যে গাড়ি লাশের মিছিল বহন করে। এই বুঝি এলো তার ভালোবাসার মানুষটির লাশ…
বাংলাদেশ বীরের জাতি। বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রামী। মা’র ভাষা কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ৫২তে রক্ত দিয়ে অর্জন করেছে মাতৃভাষা বাংলা। নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, স্বাধীনতার জন্য ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময় আমাদের সোনার বাংলাদেশ। ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে লাল সবুজের পতাকা। এত এত অর্জন, এত এত খ্যাতি যেখানে পুরো বিশ্ব অবাক দৃষ্টি নিয়ে অবলোকন করেছে, বাহবা ধন্যবাদ দিচ্ছে তখন থেকেই আমাদের দেশে শুরু হয় ষড়যন্ত্র আর ধ্বংস করার পরিকল্পনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সহ পরিবারে হত্যা, জাতিয় চার নেতা কে জেল হত্যার পর থেকে যে কাঁন্না শুরু হয়েছিলো আজও তা বন্ধ হয়নি।
অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল, রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোতে অযোগ্য লোকের যোগ্য চেয়ার ভাগাভাগি এবং উইপোকার মত ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। ক্ষমতা ও পরিবার কেন্দ্রিক রাজনীতির কারনে আজ যোগ্যতার অবমূল্যায়ণ, অবহেলা। অব্যবস্থাপনা রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোর রন্দ্রে রন্দ্রে। অর্থলোভ আর স্বার্থলোভীদের কাছে দেশ ও দেশের মানুষ অসহায়। কেউ রাষ্ট্রের তথা জনগণের টাকা চুরি করে নামে-বে নামে রাখে এ ব্যাংকে সে ব্যাংকে। আর ব্যাংকের ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে কেউ আবার বিদেশেও পাচার করে। অবৈধ টাকার মহোরার নীচে পড়ে ধাপড়িয়ে মরে দেশের খেটে খাওয়া মহেনতি মানুষ। তৈরি হয় লাশ আর লাশ। মিছিলে মিছিলে লাশ, এখানে সেখানে লাশ।
হাটি হাটি পা পা করে আজ আমরা অনেক দূর এসেছি। অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে, হয়েছে আধুনিকায়ণ। কিন্তু মানসিকতা, মানবতা আর মানবপ্রেম যেন একটি ফ্রেমে বন্ধী হয়ে আছে। পূজিবাদী শক্তির কাছে মানবতা নিরূপায়। অসহায় মানুষের জীবন, স্বপ্ন। রাজনীতির নামে পেশী মক্তির কাছে সাধারণ মানুষ আজ নিরাপত্তাহীন। ছাত্ররাজনীতি ছাত্র অধিকার আদায়ের অন্তরালে অস্ত্র শক্তির কাছে ছাত্রছাত্রী আজ জিম্মি।
সাভারে রানা প্লাজা কিন্তু একদিনে অলৌকিক ভাবে তৈরি হয়নি। অবৈধ টাকা ও অবৈধ সম্পত্তি একদিনে আলাদিনের চেরাগবাতি এনে দিয়ে যায়নি। আজকের সবচেয়ে আলোচিত নাম সোহেল রানাও কিন্তু একদিনে জন্ম হয়নি, হয়নি এত বড় প্রভাব বিস্তার অর্জনকারী। রানা প্লাজার অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোর অব্যবস্থাপনা কোন পর্যায় গিয়েছে। রানা প্লাজার নিন্মমানের কনক্রিটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে বুঝা যায় রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোর ভিতরে কোন মানের পর্যবেক্ষক চেয়ার দখল করে আছে।
জোড় করে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের বিষয়টি আলোচনা করলে বেড়িয়ে আসে পূজিবাদী শক্তির কাছে মানুষ ও মানুষের জীবন কোন পর্যায়, কোন অবস্থানে মানবতা আর মানবপ্রেম।
শুনেছি, অপরাদ যে করে আর অপরাদ যে সহে কিংবা অপরাদ করতে যে সহযোগীতা করে তারা উভয়ই সমান অপরাধী। তাহলে এখানে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা, তার বাবা আব্দুল খালেক ও পরিবারের অন্য সদস্যরা শুধু অপরাধী নয। যারা সোহেল রানা কে আজকের রানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করেছে তাদের বিচার কি আদৌ এ জাতি দেখবে? রাষ্ট্রযন্ত্র ও তার অংশ বিশেষের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপক যখন রানার জীবন ব্যবস্থা গঠনে সহায়তা করেছে, করেছে রানা প্লাজা তৈরিতে সাহায্য সহযোগীতা তাদেরও বিচার করা অত্যান্ত জরুরী।
যে পূজিবাদী শক্তি মানুষের জীবনের জন্য হুমকি সরূপ সে পূজিবাদী অশক্তিকে ধ্বংস করে দিতে হবে। মানবতা, মানবপ্রেম ও মানুষ যেখানে নিরাপদ নয় সেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রগুলো যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আমি মনে করি, রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে। রাজনৈতিক চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে যোগ্যতা আসন কে সুন্দর ও মসৃন করতে হবে। যথাযথ ভাবে আইনের প্রয়োগ ও প্রয়োগকারীকে মানুষ, মানবতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
সাভার অধরচন্দ্র মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিহত ও তাদের পরিবার পরিচিত স্বজনগুলোর স্বপ্নগুলোও ছোট ছোট। রাষ্ট্রের কাছে তাদের তেমন বড় কোনো কিছুর চাওয়ার নেই। সাদা-মাটা চলাফেরা। জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা। মানুষের (তাদের) প্রতি সম্মান, মানবতার প্রতি প্রেম এবং পরিশ্রমের মর্যাদাপূর্ণ পারিশ্রমিক।
রানা প্লাজা কিংবা অধরচন্দ্র মাঠে সকল নিহতদের জীবন কোনো কিছুর বিনিময়ে হয়’ত ফিরিয়ে দেয়া যাবে না, নির্ণয় করা যাবে না কোনো টাকার অংক দিয়েও তাদের স্বজনের আত্মচিৎকারের অশ্রুজ্বল।
তবে, রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোর যথাযথ উদ্দ্যোগ, আন্তরিকতা, দায়িত্বের প্রতি যত্ম ও সম্মান, দেশাত্ববোধ থাকলে হয়’ত এ আত্মচিৎকার বন্ধ করা সম্ভব। এ লাশের মিছিল বন্ধ করা সম্ভব সকলের সচেতনতার মাধ্যমে।
মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মানবতার প্রতি সম্মান এবং দেশাত্ববোধই হোক আমাদের সকলের সুন্দর প্রচেষ্টা।

মু. কবীর চৌধুরী তন্ময়
সাংবাদিক, কলামিষ্ট
লেখাটি অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত)
লেখাটি অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “অধরচন্দ্র যেখানে লাশ পাওয়া যায়

  1. রানা প্লাজা কিংবা অধরচন্দ্র

    রানা প্লাজা কিংবা অধরচন্দ্র মাঠে সকল নিহতদের জীবন কোনো কিছুর বিনিময়ে হয়’ত ফিরিয়ে দেয়া যাবে না, নির্ণয় করা যাবে না কোনো টাকার অংক দিয়েও তাদের স্বজনের আত্মচিৎকারের অশ্রুজ্বল।
    তবে, রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোর যথাযথ উদ্দ্যোগ, আন্তরিকতা, দায়িত্বের প্রতি যত্ম ও সম্মান, দেশাত্ববোধ থাকলে হয়’ত এ আত্মচিৎকার বন্ধ করা সম্ভব। এ লাশের মিছিল বন্ধ করা সম্ভব সকলের সচেতনতার মাধ্যমে।
    মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মানবতার প্রতি সম্মান এবং দেশাত্ববোধই হোক আমাদের সকলের সুন্দর প্রচেষ্টা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 7 =