ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়োজনে উচ্চক্ষমতার টার্মিনাল হচ্ছে আশুগঞ্জে

সারা বিশ্ব এখন মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাসী। এক দেশের বন্দর আরেক দেশের ব্যবহার করা অতি স্বাভাবিক। আমাদের চট্টগ্রাম নৌবন্দর ব্যবহার করছে অন্য দেশ। আর আমরাও ব্যবহার করছি অন্য দেশের নৌবন্দর। আঞ্চলিক বাণিজ্য সহযোগিতার দিক দিয়ে এ কনটেইনার টার্মিনাল হবে কেন্দ্রবিন্দু। টার্মিনালটির সঙ্গে সরাসরি মেঘনা নদীপথে মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর যুক্ত থাকবে। যুক্ত থাকবে আশুগঞ্জ-আখাউড়া ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং ভৈরব রেলস্টেশন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দর ও বাণিজ্যিক এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ। এখানে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। গড়ে উঠেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার কারখানা, বৃহত্তম গ্যাস ট্রান্সমিশন কেন্দ্রসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ এই আশুগঞ্জ নৌবন্দর দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত সাত প্রদেশের মালামাল শিপমেন্ট হচ্ছে। আর এতে অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়ে উঠেছে আশুগঞ্জ। ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত পূর্ব-ভারতের অবহেলিত সাত রাজ্যে সহজে পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে আশুগঞ্জ নৌবন্দর দিয়ে চলমান ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে মেঘনার পাড়ে ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) নির্মাণে এখন আর কোনো বাধা নেই। এ আইসিটি ব্যবহারের ব্যাপারে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে ভারত, নেপাল ও ভুটান। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা এ আইসিটির সুবিধা নিতে পারবে। সেজন্যই সরকার মেঘনায় আইসিটি নির্মাণের চিন্তাভাবনা করে। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়োজনে উচ্চক্ষমতার এ টার্মিনাল হচ্ছে। এটা চট্টগ্রাম ও মংলার আদলে গড়ে তোলা হবে। বলা হচ্ছে, এ টার্মিনাল হবে বিশ্বময় মুক্ত বাণিজ্যের মাইলফলক। এ টার্মিনালে কার্গো স্টাফিং, অনস্টাফিং ও কনসোলিডেশনের কাজ হবে। হবে নৌ, সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে কনটেইনার বিতরণ সম্পাদন ও কাস্টম্স ক্লিয়ারেন্স এবং শুল্কায়ন ও ছাড়করণ সম্পর্কিত যাবতীয় কাজ। এ ছাড়া এখানে চলবে ট্রান্সশিপমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ। ফলে এটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরকে কাজে লাগিয়ে বানিজ্যিকভাবে লাভবান হবে আমাদের দেশ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 3 =