প্রেম-নারী ; প্রতারনা ও পুরুষ..! পর্ব- ২

নিঝুম রাস্তায়, পার্কের ঝোঁপ ঝাড়ে, মোমবাতিওয়ালা ক্যাফেতে, লিটনের ফ্ল্যাটে যে ভালোবাসা পাওয়া যায়; নিজের অন্দরে আসলে আর সেই ভালোবাসা থাকে না!
কারন সমাজে প্রায় প্রতিটা মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম খুব সহজে পাওয়া জিনিসকে অমূল্যায়ন করবে!
আর এটাই খুব সহজ দর্শন, যে বস্তু ফ্রি তে পাওয়া যায়। তা কিনে পয়সা অপচয় করার মতো আবাল, এই শতকে আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না।

যে অমূল্য স্পর্শ- অনুভূতি- আনন্দটুকু পাওয়ার জন্য স্বাভাবিকভাবে কম করে হলেও ২৫ থেকে ২৮ বছর (তথাকথিত নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য) অপেক্ষা করে; দুইটা মানুষের পছন্দ- অপছন্দ ভেবে; দুইটা পরিবারের (ক্ষেত্রবিশেষে পরিবার মানে চৌদ্দ গোষ্ঠী) মিল- অমিল দেখে; তারিখ করা, গায়ে হলুদ, বরযাত্রাসহ আরো বিচিত্র সামাজিকতা ও আনুষ্ঠানিকতা পালন করার পর, বাবা-কাকা-মামা- আত্মীয়স্বজন ও মুরব্বিরা গিয়ে কম করে হলেও দুইখানে ৫০+৫০=১০০ মানুষের উপস্থিতিতে ও আদর- আপ্যায়ন করে, মেয়েকে মোহরানা দিয়ে সম্মানের সাথে পারিবারিক-সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার পর, যে মুহুর্তটুকু আসার কথা। তা আজকে রাস্তায়- পার্কে-লিটনের ফ্ল্যাটে- ক্যাফেতে চাইলেই পাওয়া যায়; খালি একটু নিঁখুত প্রেমের অভিনয় করতে হয়।
আশা করি, আজকের সমাজ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে সচেষ্ট হয়েছে, কী নিখুঁতভাবে সেই অভিনয়টুকু করতে হয়! মনে হচ্ছে সমাজে ছেলে কিংবা মেয়ে প্রতিটা মানুষই মায়ের পেট থেকেই শিখে আসছে এই অভিনয়টুকু! এই অভিনয়টা কারো কারো কাছে শিল্পের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়েছে!
আমি এটাও স্বীকার করি, এই আবেগ- অনুভূতি- প্রেম- কাম- যৌনতা- ভালোবাসা- হৃদয়বৃত্তিক চাহিদাগুলো ঠাহর করার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয় না! এক্ষেত্রে মানবদেহে স্রষ্টা নিজেই স্থায়ী কলকব্জা (সফটওয়্যার) স্থাপন করে দিয়েছেন। এই কলকব্জাগুলো সঠিক সময়ে সঠিক অবস্থানে সঠিক ক্রিয়াকর্মে সাড়া দিতে তার আপন ইচ্ছায়ই জেগে উঠবে।
আর তাই এই স্বাভাবিক- সুন্দর- শৈল্পিক বিষয়টাকে প্রতারনা ও অভিনয় পর্যায়ে উত্তীর্ণ করেছে কিছু মানুষরুপী শয়তান অথবা প্রত্যেকের ভেতরে বাস করা শয়তান!

আর এর ফলেই জন্ম নিয়েছে, একুশ শতকের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার ‘কর্পোরেট ভালোবাসা’!
প্রেম- ভালোবাসা- আবেগ- অনুভূতি- স্পর্শ- কাম- বাসনা- যৌনাসক্তি বিষয়গুলো খুবই সুন্দর-সাবলীল- সুকুমার বৃত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম! কিন্তু ‘প্রতারনা’ নামের বিষ বাষ্পের বাষ্পায়নে বিষয়গুলো এতো নোংরা পর্যায়ে স্থিত হয়েছে যে, এখন আর এই যুগে সত্য ভালোবাসা খুঁজতে যাওয়াটাও মনে হয় বোকামি! হয়তো একটা নতুন বাগধারা জন্ম হবে, ‘সত্য ভালোবাসা’ যার সমার্থক বাগধারা হতে পারে ‘ঘোড়ার ডিম’! মানে কখনো যদি আমাদের পরের প্রজন্ম সুর করে পড়তে থাকে, ‘সত্য ভালোবাসা’ মানে অবাস্তব বস্তু! এতে আমি একটুও অবাক হবো না!
কারন অবাক না হওয়ার মতো পরিবেশটা আমরাই সৃষ্টি করেছি। তাহলে কি আমার অবাক হওয়াটা সাজে? নিশ্চয়ই না!

রাস্তাঘাট- পার্ক- রেস্তোরা- ক্যাফে- ক্যান্টিন- ডাইনিং- রিডিং রুম- গ্রন্থাগার- সেমিনার রুম- বাস- রিকশা- সিএনজি- ওয়েটিং রুম, যেখানেই যান দেখবেন! সার্কাস চলিতেছে….!
যে কাজ যেখানে সুন্দর, সেখানেই তার পূর্ণাঙ্গতা ও তৃপ্তি অনুভূত হয়! দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী মানুষগুলোর মধ্যে এমন প্রবনতা দেখলে মনে হয়, শুধু সনদটাই গ্রহন করেছে! শিক্ষিত হতে পারেনি! কারন শিক্ষিত হতে চাইলে, সনদের চাইতেও স্থান- কাল- পাত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা থাকা ও তার প্রয়োগ করার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে! তবেই তাকে শিক্ষিত বলা যৌক্তিক।
ভালো থাকুক আমাদের নারীরা!
প্রতারকদের ভিড়ে তারা ভালো মানুষের সংস্পর্শে থাকুক!
ভালো মানুষ হয়ে বেড়ে উঠুক, তাদের গর্ভে বসবাস করা আমাদের পরের প্রজন্ম!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “প্রেম-নারী ; প্রতারনা ও পুরুষ..! পর্ব- ২

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

71 + = 73