সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ভূখণ্ডে সৃষ্টিশীল শব্দটি অশ্লীল এবং জঙ্গিবাদ শ্লীল

?oh=9fdf2f4c4f44232aaf238ebd92192caf&oe=593930FD” width=”500″ />

ফেব্রুয়ারী, ২০১৫। পহেলা ফাল্গুন থেকে বইমেলা জমে উঠেছিল। ফাল্গুনের পূর্বে বইমেলায় ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যাই বেশি। মেলায় শুরু থেকেই দাড়ি-টুপি জিহাদির সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।

১৫ই ফেব্রুয়ারী, একদল ইসলামিক মৌলবাদী রাতের অন্ধকারে বইমেলায় আক্রমণের চেষ্টা করে। পুলিশের বাধার মুখে তারা ফেরত যেতে বাধ্য হয়। ১৬ই ফেব্রুয়ারী, বইমেলায় প্রবেশের পথে বিশাল বড় নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল রীতিমত লক্ষণীয়। সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার উপস্থিতিও ছিল দৃশ্যমান। এবং সে দিন তুলনামূলকভাবে মানুষের আনাগোনাও কম ছিল। মেলাতে কিছু একটা যে ঘটেছে, তা অনুমান করা যাচ্ছিলো কিন্তু কেউ কোন সাড়াশব্দ করছিলো না।কারণ, বাঙলার লেখক ও প্রকাশকেরা সাধারণত কীরূপ মেরুদণ্ডহীন হয়ে থাকেন, তা প্রায় সকলেরই জানা। স্বার্থে আঘাত না লাগা পর্যন্ত তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সমাজ বিচলিতবোধ করে না।

হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, রোদেলা প্রকাশনী বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কে বন্ধ করেছে? কারা নির্দেশ দিয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর অস্পষ্ট। মেলায় যথেষ্ট সংখ্যায় গণমাধ্যমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন কিন্তু কোন সাংবাদিকের আগ্রহ ছিল না স্টল বন্ধ করে দেওয়া বিষয়ক সংবাদ উপস্থাপনের। অর্থাৎ, উপরের নির্দেশ। ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সুপারিশে শুধু বই নিষিদ্ধ নয়, স্টলও ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৭ ফেব্রুয়ারী, ‘লেখক-প্রকাশক-পাঠক-জনতা’র ব্যানারে টিএসসিতে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রতিবাদকারীর সংখ্যার চেয়ে পথচারীর সংখ্যা অধিক ছিল। যারা প্রতিবাদকারী, তারাই বক্তা, তারাই শ্রোতা।

২৬শে ফেব্রুয়ারী টিএসসিতে জনসম্মুখে লেখক অভিজিত রায় ও বন্যা আহমেদকে চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। এতে লেখক মৃত্যুবরণ করেন এবং বন্যা আহমেদ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হন। ২০০৪ সালে লেখক হুমায়ুন আজাদকে বইমেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে একইভাবেই চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ইসলামিক মৌলবাদী প্রমাণ করে ইসলাম শুধু নারীর স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে না বরং শিল্প-সাহিত্যের বিকাশকে রুদ্ধ করার জন্য তলোয়ারই তাদের ভাষা। মুসলমানেরা সৃষ্টিশীলতায় ভীতবোধ করে, সৃষ্টিশীল মানুষকে শত্রু মনে করে। এবং এ-কারণে শুধু বাঙলাদেশই নয়, পৃথিবীর মুসলমান সংখ্যা গরিষ্ঠের দেশে লেখকের স্বাধীনতা ও নারীর অধিকার শূন্যে।

গত কয়েক বছর ধরে লাগাতার লেখক হত্যা ও গ্রেপ্তার এবং বই ও স্টল নিষিদ্ধ প্রমাণ করে মুসলমান প্রধান দেশে সৃষ্টিশীল ও স্বাধীনতা শব্দটি অশ্লীল কিন্তু জঙ্গিবাদ শব্দটি শ্লীল ও জনপ্রিয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ভূখণ্ডে সৃষ্টিশীল শব্দটি অশ্লীল এবং জঙ্গিবাদ শ্লীল

  1. না বড় ভাই, আসল বিষয়টা হচ্ছে
    না বড় ভাই, আসল বিষয়টা হচ্ছে সৃষ্টিশীলতার নামে যে লাম্পট্যপনা করা হয় সেটা অশ্লীল। আর জঙ্গীবাদ তো সন্ত্রাসীপনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

63 − = 55