সত্য চাপা থাকেনা, বেরিয়ে আসবেই

সৎ মানুষ যেমন শেষ অবধি বিজয়ী হন, সৎ রাজনীতি যেমন শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়, মিডিয়ার সঠিক অংশকেই শেষ অবধি মনে রাখে মানুষ। যেমন আজ আমেরিকায় মিডিয়ার যে অংশ রেসিইজমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তারাই কিন্তু ইতিহাসে টিকে থাকবে। ইতিহাসের যে কোন ওলট পালট সাময়িক, সত্যই শেষ ঠিকানা। যেমন পাঁচ বছর না যেতেই কানাডার আদালত বাংলাদেশের এক শ্রেণীর মুখে চুনকালি দিয়ে উন্মোচন করল সত্য। কানাডার আদালতে পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতি মামলা খারিজ হওয়ার ভেতর দিয়ে অনেক দিক সামনে এলো। বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকার একটি মিথ্যা দুর্নীতির অপবাদ থেকে মুক্তি পেল। জাতি হিসেবে বাঙালী সম্মানিত হলো, অন্তত বিশ্বের কাছে প্রথমবারের মতো প্রমাণিত হলো বাংলাদেশ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ নয়। সব সময়ে বাংলাদেশের যে তথাকথিত সুশীল সমাজ সব কিছুর ওপর তাদের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন, ওই সুশীল ব্যক্তিরা যে কোন তথ্যভিত্তিক কথা বলেন না, তাঁদের কাছে যে কোন প্রকৃত তথ্য থাকে না- তাঁরা মনগড়া কথা বলেন- তা প্রমাণ হলো। দেশের মিডিয়ার কিছু অংশ যে ওই সময়ে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারেনি তাও প্রমাণিত হলো। মিডিয়ার একাংশ সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারেনি, বরং তারা ক্ষতি করেছে দেশের। তবে এখন একটি বিষয় মনে হয় সামগ্রিক মিডিয়ার ভাবার সময় এসেছে, ভবিষ্যত মিডিয়ার সার্বিক চরিত্র কী হবে? বাংলাদেশেও এখন পদ্মা সেতু এগিয়ে চলেছে। পদ্মা সেতু ২০১৮-এর ভেতর শেষ হবে। কিন্তু পদ্মা সেতুর সুফল পেতে হলে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়া প্রথমে প্রয়োজন। তাহলেই পদ্মা সেতুর বড় সফলতা মানুষ পাবে। কারণ ওই বিদ্যুৎ দিয়েই তখন গড়ে উঠবে পদ্মা সেতুর ওপার থেকে খুলনার মংলা পর্যন্ত শিল্প এলাকা। এই শিল্পের চাকা যখন ঘুরবে তখনই কিন্তু পদ্মা সেতুর মাধ্যমে জিডিপিতে যোগ হবে আরও কয়েক শতাংশ। চালু হবে মংলা বন্দর পরিপূর্ণভাবে। একাংশ গিয়ে যোগান দেবে পায়রা বন্দরে। আর এ কারণেই কিন্তু পদ্মা সেতুতে ব্যর্থ হয়ে সেই একই শ্রেণী অর্থাৎ সেই চিহ্নিত গো গো বয়রা এখন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র যাতে না হয় সেই কাজে লেগেছেন। যারা এই পদ্মা সেতু প্রকল্পে বাধা দেয়, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রে বাধা দেয় এদের রাজনৈতিক শক্তি বা দুর্বৃত্ত শক্তির দরকার হয়। এই শক্তিটি তাদের জন্য ওই ‘রাতে জেগে ওঠা’ এলাকার মস্তানরা যে কাজ করে সেই কাজই বাস্তবে করে। পদ্মা সেতুর আর্থিক লাভ কোথায় ছিল তা খুব শীঘ্র আরও ভালভাবে বের হয়ে আসবে। তবে এটা তো ঠিক, বিশ্বব্যাংক এমন একটি কোম্পানিকে কাজ দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল যাদের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না শুধু নয়, তারা জাল ডকুমেন্টস দিয়ে দরপত্রে অংশগ্রহণ করেছিল। কর্পোরেট দুর্নীতির ইতিহাস পড়লেই দেখা যায়, সারা বিশ্বেই এসব কোম্পানি সুশীলের নামে এ গো গো বয়দের পালন করে। এদের কালো অর্থনীতির হাত অনেক শক্ত। বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতর উন্নয়ন কালে এই কালো অর্থনীতির হাত বার বার প্রবেশ করবে। তাই এ ক্ষেত্রে মিডিয়াকে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। মিডিয়ার বেশি অংশ এতদিন যা করে এসেছে অর্থাৎ সার্কুলেশান বাড়ানোর জন্য বা টিআরপি রেটিং বাড়ানোর জন্য ওই সব গো গো সুশীলকে প্লাটফর্ম দিয়েছে। এখন ভাবার সময় এসেছে, সত্যিকার অর্থে যারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে, যারা দেশের উন্নয়ন চায়, সম্মান চায় তারা ওই সব ব্যক্তিকে প্লাটফর্ম দেবে কিনা? যেমন রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র ও সুন্দরবন নিয়ে যারা আন্দোলন করছেন, যারা রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ করতে চাচ্ছেন, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট নিয়ে তাদের জ্ঞান কতটুকু? এটাই ভাবার বিষয়। আসুন আমরা দেশকে ভালবাসি এবং দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহন করি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 12 = 18