চাইল্ডহুড মেমোরি- এটিএন বাংলা

আমাদের দেশের প্রথম স্যাটেলাইট চ্যানেল “এটিএন বাংলা”। যদিও সেই সময়টাতে আমি কার্টুন-নেটওয়ার্ক এবং জি টিভির ডিজনি আওয়ার এর ব্যাপক ভক্ত ছিলাম, কিন্তু বাসার সবার কারণে এটিএন বাংলা দেখতে হতো। তবে এই চ্যানেল কেন জানি আমার কাছে অসম্পূর্ণ লাগে এখনো। আমার এক ফ্রেন্ড এর মতে ঠিক মাহফুজুর রহমানের মতই স্মার্ট ( :বিস্ময়: ) চ্যানেল :ঘুমাইতেছে: :ঘুমাইতেছে:

তো এই এটিএন বাংলা শুরুর দিকে সারা দিন বিড়ি-সিগারেট এর অ্যাড দিতো। আর সারাদিন নেচে-কুঁদে করা সিগারেট এর গুণগান শুনতে শুনতে একেবারে মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল জিঙ্গেল গুলো! এখনো কিছু কিছু মনে আছে!! যেমনঃ

নাসির গোল্ডঃ
এক টানেতে ভাল লাগে… দুই টানেতে মজা… আলসেমিটা ভুলে দিয়ে মন করে দেয় তাজা… এলো বাজারে এক সিগারেট… নাসির গোল্ড… নাসির গোল্ড, হেই! হেই! নাসির গোল্ড!!

টপ টেনঃ
টপ-টেন, টপ-টেন… রাজা রাজা!! টপ-টেন, টপ-টেন… মজা মজা!! টপ-টেন, টপ-টেন… কি আনন্দ, আহা!!

গোল্ড-স্টারঃ
বলেছে সবাই, বলছে সবাই, আরও লোকে বলবে!!
এখন থেকে প্রাণ জুড়াতে গোল্ড-স্টারই চলবে!!
গোল্ড-স্টার সিগারেট, ভাইরে গোল্ড-স্টার সিগারেট!!

বাই দ্যা ওয়ে, আমারে জানি বিড়ি-খোর ভাইবেন না!!! :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:
এই বিজ্ঞাপন গুলোর কারণেই হয়তো এটিএন বাংলা দেখলেই এখনো আমার বিড়ি-সিগারেট এর চ্যানেল লাগে!!
সেই সময়টাতে আমি মে বি ক্লাস থ্রি বা ফোর এ পরতাম। তখন একটা খেলা প্রচলিত ছিলো যা ম্যাচ ও সিগারেট এর প্যাকেট দিয়ে খেলা হতো। লোকাল ভাবে আমরা একে কড়ি-খেলা বলতাম। আর এই কড়ি-খেলায় আমার সাংঘাতিক নেশা ছিলো! আমি, মিনার, হাসু,রাজ্জাক, প্রাণ, বেলা(রুমন), জীবন সবাই অপেক্ষা করতাম দুপুর হবে? কারণ, ঠা-ঠা দুপুরে কেউ ঘরের বাহিরে যেত না সচরাচর, আর তাই আমরা ধুমসে খেলতে পারতাম! শুধু কড়ি খেলার জন্যই আমি টিফিন এর টাকা জমিয়ে একটা লোহার কড়ি বানিয়েছিলাম………

লিখলে আরো লিখা যায়, কিন্তু ইচ্ছে করছে না। কি হবে লিখে? আমার যে ছোটো বেলার মত কড়ি খেলতে খুব ইচ্ছে করছে, তা কি পূরণ হবে?

Once again missing my বেহুদা childhood………………. (2)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৭ thoughts on “চাইল্ডহুড মেমোরি- এটিএন বাংলা

  1. আহ কি সুন্দর ছিলো সময়টা…..
    আহ কি সুন্দর ছিলো সময়টা….. লুকায়া লুকায়া এটিএন এর অ্যাডগুলা দেখতাম আর বন্ধুদের নিয়া সিগারেটের গান গাইতাম আর নাচতাম………….
    শুভকামনা……………. :রকঅন:

  2. বুঝতে পারছি সেই সকল সিগ্রেট
    বুঝতে পারছি সেই সকল সিগ্রেট প্রায় বিলুপ্তির পথে!
    কিছু বছর পর হয়তো বেনসন আর মার্লবরও চলবে না! :/

    1. বিডি থেকে সিগারেট উইথা গেলে
      বিডি থেকে সিগারেট উইথা গেলে আমি নিজ খরচে মিলাদ দিয়া তবারক খামু :শয়তান: :শয়তান:

  3. গ্রামের বাড়িতে খাটের নিচে
    গ্রামের বাড়িতে খাটের নিচে এখনও একগাদা ম্যাচের খোসা পড়ে আছে। খানিকটা ইঁদুর কেঁটেছে। খানিকটা উঁই পোকার ডিবি।

    আর খানিকটা স্মৃতি। এখনও গ্রামের বাড়িতে গেলে চোখে পড়ে। অজান্তেই দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভাসতে থাকে। ‘নাদার ভিডা’য় গেলে অসংখ্য গাছের সবুজ ভেদ করে মনে পড়ে, এখানে একদিন কোট কাটা ছিল। বাসা থেকে লুকিয়ে খেলতে আসতাম। কোনদিন চোখের জল আটকে ফতুর হয়ে বাড়িতে ফিরতাম। কোনদিন পকেট ভর্তি ম্যাচবক্স…

    স্মৃতিগুলো এখনও চোখে চকচক করে…

    1. আমার বাসায় আর কিছুই নাই…
      আমার বাসায় আর কিছুই নাই… মার্বেল, কড়ি, তাস সব কিছু আম্মু রাগ করে নদীতে ফেলে দিয়েছে
      স্মৃতিই সম্বল এখন

      1. আমার যে ছোটো বেলার মত কড়ি

        আমার যে ছোটো বেলার মত কড়ি খেলতে খুব ইচ্ছে করছে।

        এইটা তো আর কখনও পূরণ হওয়ার নয়। পূরণ হলেও ছেলেবেলার সেই মজা আর কখনও পাবেন না। তাই দিবাস্বপ্নের ইমো। 😀

  4. পুরানো কথা শুনতে ভ্যালা লাগে
    পুরানো কথা শুনতে ভ্যালা লাগে , মেমরি রিভিশন চলতে থাকুক

    Once again missing my বেহুদা childhood……………….

    :থাম্বসআপ:

  5. ভালই তো লাগতাছিল, লেখা
    ভালই তো লাগতাছিল, লেখা থামাইলেন কেন? আবার শুরু করেন!!
    নচিকেতার কথায়,
    সৃতি কখনো কাওরে একা থাকতে দেয়না।।
    আমাদের এখন এই অবস্থা! !!

    1. ধন্যবাদ ভেজা খড়কুটো
      ধন্যবাদ ভেজা খড়কুটো :ফুল: :ফুল: :ফুল:
      জলদি পরের পর্ব লিখতেই হচ্ছে তাহলে :লইজ্জালাগে:

  6. “বাই দ্যা ওয়ে, আমারে জানি
    “বাই দ্যা ওয়ে, আমারে জানি বিড়ি-খোর ভাইবেন না “- হুমম..ভবনার কথা– :ভাবতেছি: :ভাবতেছি:
    ———————————————–

  7. গোল্ড-স্টার সিগারেট!!

    গোল্ড-স্টার সিগারেট!!

    :ভাবতেছি:

    বাই দ্যা ওয়ে

    লিখলে আরো লিখা যায়, কিন্তু ইচ্ছে করছে না

    লেখা থামালে হবে না। লিখতে থাকেন । আমরা পড়মু । :চশমুদ্দিন:

    1. সবাই আরও পড়তে চাইছে দেখি!!
      সবাই আরও পড়তে চাইছে দেখি!! এইবার কিন্তু ভয় পাচ্ছি, আমি লেখক না, ছাতা-মাথা যা মনে আসে, টাইপ করি……… তবে আপনাদের ভাল লেগেছে জানার পর এখন থেকে দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে লিখা-লিখি করবো
      😀 😀 😀 😀 😀

  8. সিগারেট এবং ম্যাচের খোল দিয়ে
    সিগারেট এবং ম্যাচের খোল দিয়ে আমাদের আমলে আমরাও খেলতাম । আর প্রচুর মাইর খাইতাম । এখন আর কেউ মারে না … আহা ছেলেবেলা !!!

  9. আপনার সুন্দর লেখা
    আপনার সুন্দর লেখা শৈশব-কৈশোরের কথা মনে করিয়ে দিল। আর মনে করিয়ে দিল গ্রামের কথা। যদিও আমার শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি মূলত নাগরিক, তবুও ঈদে-পরবে গ্রামে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা পুকুরে দাপাদাপি-ঝাঁপাঝাঁপির দিনগুলো ছিল অনন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 1 =