অতীতের আবর্জনা সমকালীন আপদ।

আমি কোন লেখক নই, লেখা আমার পেশাও নয়, নেশাও নয়, তবুও আমি লিখি। আমি ভাল লিখতে পারিনা, অজস্র ভুল বানান, বাক্যগঠন, ব্যাকরণগত ভুল আমি প্রায়ই লিখি। সাহিত্যের শৈল্পিক বুনন আমার জানা নেই, কোন শব্দের পর কোন শব্দ সাজালে বক্তব্য জোরালো হয় কিংবা কিভাবে লিখলে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়, আমি তার কিছুই জানিনা। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা দীর্ঘ কোন বই আমি লিখতে পারিনি। নান্দনিক শব্দের নিখুঁত বুনন আমি সাজাতে পারিনা, তবুও আমি লিখি। লেখা প্রয়োজন তাই লিখি। লেখক, কবি সাহিত্যিকেরা যেভাবে পারেন সেভাবে হয়তো পারিনা তবুও।

তারা আপনাকে শব্দের জাদুমন্ত্র দিয়ে হাসাতে পারেন, কাঁদাতে পারেন, আবেগের জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। একজন দক্ষ লেখক ঘটনার আদি অন্ত সুনিপুণ ভাবে বর্ণনা করতে পারেন; আমি লিখতে গেলে বলতে চাই এক, বলা হয় আর এক। কোন ভাবেই ভাবনা আর কলমের সংগতি আনতে পারিনা, তবুও আমি লিখে যাই। যথার্থ লেখা হয় কিনা জানিনা অন্তত লিখবার চেষ্টা আমি করে যাই এবং যাওয়া উচিৎ বলেই মনে করি।

অনাড়ি হাতে হলেও সত্য গুলো বাজারে প্রচারিত অজস্র এবং প্রচণ্ড জোরালো মিথ্যা গুলোর মুখোমুখি দাঁড় করানো দরকার। মানব সভ্যতার এই অগ্রযাত্রায় এ দায়ভার যেন আপনি এসে বিবেক দখল করেছে। আমি দেশাত্মবোধ, জাতীয়তাবাদে খুব বেশি বিশ্বাসী নই, তবুও এর থেকে যেন কিছুতেই সম্পূর্ণ ভাবে মুক্ত হতে পারিনা। আমার চেতনা ঘুরপাক খায় দক্ষিণ এশিয়ার মত একটি অধঃপতিত অঞ্চলে, বাঙালী জাতী আর বাঙলাদেশ নামক একটি ভূখণ্ডে, পৃথিবীর অজ্ঞাততম, অখ্যাততম আমার জন্মভূমি একটি গ্রামে। আমি এদের নিয়েই স্বপ্ন দেখি মুক্তির স্বপ্ন, অর্থনীতিতে মুক্তি, চিন্তা চেতনায় মুক্তি, কথা বলবার, লিখবার মুক্তিতে। আমার স্বজাতির বিশ্ব কাতারে এসে মাথা তুলে সগৌরবে দাঁড়াবার অদম্য ইচ্ছেতে।
আমার লিখবার কথা ছিলনা, কিন্তু আমাদের সমাজের চারিদিকে মিথ্যার বেসাতি, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, বিজ্ঞান বিরোধিতা, প্রবল ধর্মানুভূতি এসব আমাকে কলম তুলে নিতে বাধ্য করেছে। এখন আমার মনেহয় সোজা কথা সহজ করে বলতে কোন কিছুই প্রয়োজন হয়না।

কেউ মানুন বা না মানুন আমি সত্যি কথা অকপটেই বলতে চাই। পৃথিবীর সাত’শ কোটি মানুষও সত্য অস্বীকার করলেও সত্য কখনো মিথ্যা হয়ে যায়না। আমি আশাবাদী নিশ্চয় মানব সম্প্রদায় কোন একদিন এ সত্য উপলব্ধি করবে যে জগতে কোথাও, কোন কালে নবী রাসুল, ঈশ্বর পুত্র, দেবতা, অবতার, ভগবান, ওলি আউলিয়া, অলৌকিক ক্ষমতাধর বলে কেউ জন্মায়নি। যারা এমন দাবি করেছিল তারা তা করেছিল তাদের চাতুর্য বুদ্ধি দিয়ে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। সমকালিন মানুষের নির্বুদ্ধিতা, মিথ্যা ভাবাবেগ কখনো উন্মত্ততা সম্বল করে তারা একেকজন প্রতাপশালী ঈশ্বরের প্রতিনিধিত্ব দাবি করে বসে ছিলেন। যদিও তারা অজস্র অলৌকিকতার দাবিদার আসল সত্যি হল তা সবই মিথ্যা বুজরুকি, প্রতারণা, কখনো তাদের সাগরেদ, সুবিধা ভুগি চেলা চামুণ্ডাদের প্রচারিত অতিকথা। তারা কেউই কখনো কোন স্থায়ী অলৌকিক কিছু প্রতিষ্ঠা করে যেতে পারেনি।

হিন্দু ধর্মের পুরাণে বর্ণিত মহাপুরুষদের ঐতিহাসিক কোন ভিত্তি নেই, তারা সবই লোককথার চরিত্র মাত্র যা পরবর্তীতে শক্তিমান লেখকের দ্বারা জীবন্ত হয়ে আসন গেড়ে বসেছে। ঈসা, মুসারও জন্মের ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই এমনকি খোদ খৃষ্টানেরায় যিশুর জন্মতারিখ নিয়ে একমত নয়, ক্যাথলিকরা বলে ডিসেম্বর মাসে তো যিহোবার সাক্ষীরা বলে অক্টোবর মাসে। আরো হাজারটা বিষয়ে মতভেদ তো আছেই, সেই সাথে আছে অজস্র দল উপদল।

আজ থেকে প্রায় পনের’শ বছর আগে মুহাম্মদ নামে যে একজন জন্মে ছিলেন তা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই বরং তিনি যে জন্মেছিলেন তা তার অনুসারীরা নিত্য তাদের কর্মকাণ্ড দিয়ে জানান দিয়ে যায়। মুহাম্মদ জন্ম না নিলে আজ পৃথিবীর ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত। এই শক্তিমান মহাপুরুষ পৃথিবীর ভাগ্য অনেকটা বদলে দিয়েছেন। পৃথিবীবাসিকে এই মুহাম্মদি ধকল কেটে উঠতে আরো কয়েক দশক এমনকি কয়েক শতাব্দী পার সময় লেগে যেতে পারে। মনুষ্য প্রজাতি তার টিকে থাকবার লড়ায়ে অনেক দুঃসময় ফেলে এসেছে, হয়ত এটাও একটা দুঃসহ স্মৃতি লেখা হয়ে থাকবে তার পাতায়, তবে আমি আশাবাদী নিশ্চয় মানুষ তা কেটে উঠবে।

অন্যান্যদের মত মুহাম্মদকেও নবী বা আল্লা প্রেরিত কেউ ভাববার কোন কারণ নেই। প্রথমে তিনি নিজেকে নবুয়তের দাবি করেছিলেন কেউ সমর্থন করেছিলেন কেউ তাকে প্রতিষ্ঠা পেতে সহায়তা করেছিলেন। এই নবুয়তের দাবিদারও তিনি একায় ছিলেননা, ছিলেন আরো অনেকে। অন্যদের সাথে তার পার্থক্য হল অন্যরা হেরে গিয়েছিলেন আর তিনি জিতে গিয়েছিলেন। জগতের এই হার জিতের খেলায় পথ ও পাথেয় কি সে পর্যালোচনা নিষ্প্রয়োজন, জগত যে শুধু বিজয়ীর গান গায় তাই আজ দেখতে পাচ্ছি চোখের সামনেই। মুহাম্মদের সমসাময়িক জ্ঞানী গুণি মানুষেরা মুহাম্মদকে নবী বা স্রষ্টা প্রেরিত কেউ বলে কখনই মেনে নেননি। তারা মুহাম্মদের রাজনৈতিক বুদ্ধি এবং শক্তির কাছে হেরে গিয়েছিলেন বটে কিন্তু যা সত্য নয় তার কাছে মাথা নত করেননি অনেকেই। মৃত্যু পথ যাত্রী আবু জেহেলের সেই আক্ষেপ খুবই মনে পড়ে “তোমরা ভাল মানুষদের শুধু হত্যাই করতে পার আর কিছুই পার না”। মুহাম্মদের চাচা আবু তালেবের কথাও বলা যেতে পারে যিনি মুহাম্মদকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, যার ছত্র ছায়ায় তিনি এতোখানি ডালপালা মেলে বেড়ে উঠতে পেরেছিলেন মৃত্যুর মুখোমুখি মুমূর্ষু অবস্থাতেও তিনি মুহাম্মদকে নবী বা আল্লা প্রেরিত কেউ বলে স্বীকার করেননি। জিতে গেলে সময়ে কেউ হয়ত অবতারের, নবীর মত মহাপুরুষ হয়ে ওঠেন তাই বলে তিনিই চিরকালীন সত্য হয়ে যান না।

যাইহোক পৃথিবীর জ্ঞান বিজ্ঞানের যতই উন্নয়ন উৎকর্ষ ঘটে চলেছে ততই ধর্মের শুভঙ্করের ফাঁকিটা জাজ্বল্যমান হয়ে উঠছে। মুহাম্মদকে নিয়ে যে সব অলৌকিক গাল গল্প চালু আছে তারমধ্যে অন্যতম একটি হল মেরাজ গমন বা আকাশ ভ্রমণ। তিনি নাকি মানুষ মুখি ঘোড়া আর খচ্চরের মত এক প্রাণীর পিঠে চড়ে সাত আসমান ভ্রমণ করেছিলেন। এমন অত্যাধুনিক যুগেও এমন একটি উদ্ভট গল্প বিশ্বাস করে কি করে তা ভাবতে অবাক লাগে! আজকের দিনে এমন গাঁজাখোর টাইপের কাহিনী শিশুতোষ গল্প হওয়ারও অযোগ্য। এছাড়াও আছে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে পাহাড়ের উপর পড়া। এই উদ্ভট গল্পটা তার সাহাবীরা আজও নির্বোধেত মত প্রচার করেন। মুহাম্মদের অন্ধভক্তদের চাঁদের আকার আয়তন সম্পর্কে নুন্যতম ধারনা থাকলে এমন উদ্ভট কথা বলতে বা বিশ্বাস করতে তারা নিশ্চয় লজ্জিত হতেন। এমন উদ্ভট গল্প আরো অজস্র আছে যা এতই তুচ্ছ, বানোয়াট, শিশুসুলভ তা নিয়ে আজকের দিনের এই জ্ঞান বিজ্ঞানের পরিণত সময়ে পর্যালোচনারও দাবি রাখেনা। উন্নত বিশ্বের বাস্তব কর্মময় মানুষের অপচয় করবার মত সময় নেই।

মোটকথা অন্যান্য ধর্ম গুরু, ধর্ম প্রবর্তক যেমন মুসা, ঈশা, রাম লক্ষণ, কৃষ্ণ, গুরু নানক, এছাড়াও আরো অলৌকিকতার দাবিদার অজস্র চুনোপুঁটির মত মোহাম্মদ ও কোন নবী, রাসুল বা আল্লা প্রেরিত কেউ নয়।

মন নির্মোহ, দৃষ্টি খোলা আর অন্ধ আনুগত্য না করে পড়তে থাকুন কোন সীমা রেখা না মেনে তাদের লেখা গ্রন্থ থেকেই সত্য এসে আপনার চোখে ধরা দেবে, মনের মুক্তি ঘটবে, পরিচিত পৃথিবীর রঙ পাল্টে যাবে। জীবন আপনার হবে। আপন ভুবনে আপনার মত বেঁচে থাকার সুখই আলাদা। স্বাধীনতার সুখ সীমাহীন যার কোন তুলনায় হয়না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 − = 15