গড়ে তুলতে হবে সুরক্ষা প্রাচীর নিজেদের প্রয়োজনেই…

ভীষণ মনে পড়ছে ৫ ফেব্রুয়ারির কথা। সারা বাংলা মুখ উঁচিয়ে বসে আছে মিরপুরের কসাইখ্যাত কাদের মোল্লার রায়ের জন্য। গেলবার বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় হয়েছে। এবারেও ঐরকমই হবে, আর হবেই না বা কেন, এতো এতো স্বাক্ষী প্রমান যেখানে সেখানে এর বিকল্প নাই। সকলেই যথারীতি পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আনন্দ মিছিলের জন্য আর অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত-শিবির হরতাল ডেকে বসে আছে তাদের নিয়মমতই। কিন্তু বাঙ্গালী এসবকে থোড়াই পাত্তা না দিয়ে রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশের জন্য বসে আছে। রায় এলো আর রায় শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়লো বাঙালি। জীবন থাকতে কসাইয়ের রায় যাবজ্জীবন মেনে নিবেনা। প্রতিবাদে নেমে পড়লো রাস্তায়।

শাহবাগ থেকে গণজাগরন মুহুর্তেই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লো। কাউকে ডেকে আনতে হয়নি, দুয়ে দুয়ে চার আর সেখান থেকেই হাজার ছাড়িয়ে লাখো জনতার আন্দোলন সারা দেশ জুড়ে সবখানে।

সারা বাংলায় উচ্চারিত হতে থাকলো শ্লোগান,

জয় বাংলা
জামাত-শিবির রাজাকার, এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়
মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, রাজাকারের ঠাঁই নাই
পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, পাকিস্তানে ফিরে যা…….

এরকম হাজারো শ্লোগানে এই বাংলার আকাশ-বাতাস কাঁপতে শুরু করলো আর অন্যদিকে শাহবাগ দিন-রাত জেগে থাকলো পালা করে। দিন গেলো, সপ্তাহ গেলো, পক্ষ গেলো এভাবে মাস পার হলো কিন্তু কোন সংবাদ মাধ্যমে দেখা গেলো না “গণজাগরন মঞ্চ” থেকে নৈরাজ্য বা ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

গণজাগরনের শুরুর কয়েকদিনের মাথাতেই কাঁপতে শুরু করলো জামাত এবং তার দোসরেরা।


শুরু হলো গণজাগরন নিয়ে নোংরামি, ধর্মের লেবাসধারণকারীরা বাদ দেয় নাই কোন প্রকারের কুরুচিপূর্ণ কথা ছড়াতে। এতেও যখন কাজ হচ্ছে না তখন তারা শুরু করলো ধর্মীয় কালিমা লেপন।

ততদিনে কোণঠাসা হয়ে পড়া বিএনপিও তাদের দোসর জামায়াতের সাথে সুর মেলাতে শুরু করে দিলো, রীতিমতো গণজাগরনকে “নষ্ট” বলে আখ্যায়িত করে দিলো বেগম জিয়া। গণজাগরনকে “নাস্তিক” দের আন্দোলন বলে প্রচারে নেমে পড়লো তারা। গুটি কয়েক নাস্তিক ব্লগারকে নিশানা করে অন্যান্য প্রভাবশালী ব্লগারদের জোর করেই নাস্তিক বানিয়ে জোরেশোরে প্রচারনা চালানো শুরু করে দিলো।

কিন্তু তেমন একটা যখন ধোপে টিকছে না তাদের প্রচারনা তখন তারা তাদের মায়াজাল ছড়ালো কওমি মাদ্রাসার দিকে। মুহুর্তেই জ্বলে উঠলো তারা “হেফাজত-ই-ইসলাম” নামধারন করে।

আলোচনার বাইরে চলে গেলেও সর্বরকমভাবে হেফাজতকে সহায়তা করা শুরু করলো জামায়াত তথা বিএনপি। ধর্মভীরু বাঙালি জাতিটা এবার টোপ গিললো কিছুটা হলেও। যেহেতু হেফাজতের উপর স্পষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধের দাগ নেই তাই হেফাজতকে জামায়াতের মতো তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দিতে পারলো না। দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করলো হেফাজত; গণজাগরনের বিরুদ্ধে। যেখানেই গণজাগরন সেখানেই হেফাজত। মারমুখী অবস্থানে চলে এলো এসকল উগ্র ধর্মান্ধ। যেই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে তাকেই “নাস্তিক”, “কাফের”, “মুরতাদ” আখ্যা দিতে ছাড়ে নাই, এমনকি সেই আখ্যা থেকে রেহাই পেলোনা

শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা মাসউদ সাহেব।

হেফাজতীরা সমাবেশ ডাকলো,

প্রথম সমাবেশের দিনেই তারা তাদের নমুনা দেখালো। একে তো তান্ডব তার উপর সমাবেশ করে মধ্যযুগীয় ১৩ দফা। তাদের সেই সমাবেশে সমর্থন জানালো বিএনপিসহ ১৮ দল। বাদ যায়নি এরশাদ কাকু,

তিনি একধাপ এগিয়ে বলে ফেললেন “এটা মুসলমানদের দেশ”

বাঙালীর আলোচনা থেকে জামায়াত-শিবির সরে গিয়ে উঠে এলো হেফাযত। রীতিমতো তারাই হয়ে উঠলো অন্যতম শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল। সরকারও তাদের প্রতি নমনীয় আচরন করতে শুরু করলো, তারা চাইলেই সমাবেশের অনুমতি দিতে লাগলো। এদিকে ঘনঘন সভা-সমাবেশের অনুমতি পেয়ে তারা আরো বেপোরোয়া হয়ে উঠলো, কথায় কথায় সরকারকে শাসাতে লাগলো। সরকারও এইসকল শাসানিতে কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে তাদের আরো একটু সাহস দিলো।

এভাবে চলতে চলতে অবশেষে এলো ৫ মে। হেফাজতীরা আবারো সমাবেশ ডাকলো ঐ শাপলা চত্বরে। সমর্থন দিলো বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলীয় ঐক্যজোট। গণজাগরন মঞ্চ তৈরী হবার ঠিক তিন মাসের মাথায় গণজাগরন বিরোধী দলের সমাবেশ। সমাবেশ চলাকালীন সময় কিছুটা আর শেষ হতেই শুরু হয়ে গেলো হেফাজতী তান্ডব।

ছবি দেখে মনে হচ্ছিল যেন মতিঝিল এলাকাতে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গিয়েছিলো।

এই যখন অবস্থা মাঠ নামলো র‍্যাব-পুলিশ-বিজিবি যৌথ বাহিনী। মাত্র বিশ মিনিটে তান্ডব সৃষ্টিকারী মৃত্যু কাফেলাকে থামিয়ে দিয়ে কান ধরিয়ে বসিয়ে রাখলো।

এদিকে তারা প্রচারণায় ব্যস্ত কয়েক হাজার কর্মী মারা গিয়েছে এবং তাদের লাশ গুম হয়েছে অথচ এখনো পর্যন্ত লাশের খোজে কেউ এলোনা মতিঝিলে যেখানে সাভারে হাজার জন এসে গিয়েছিলে মুহুর্তেই, উল্টো ঐ হেফাজতীদের বিরুদ্ধেই নরসিংদী থেকে অভিযোগ এসেছে। যদি সত্যিই এতোজন মরে আর তাদের খোজ নিতে যদি তাদের পরিবার থেকে কেউ না আসে ধরে নিতে হবে এসকল কুলাঙ্গারদের মরনে তাদের পরিবার মিলাদ দিয়েছে।

এদিকে তাদের নেতা আল্লামা আহমদ শাহ্‌ শফি সাহেব মরনপণ লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে নিরাপত্তার ছুতো দেখিয়ে সমাবেশে গেলো না। উল্টো চট্টগ্রামে নিজের আখড়াতে গিয়ে উঠলেন।

অধিকাংশ মিডিয়া যখন অন্ধকার মতিঝিলে নিজস্ব আলো ফেলে সরাসরি সম্প্রচার করছিলো ঠিক তখনই মাহমুদুর রহমানের “আমার দেশ” পত্রিকার হয়ে প্রক্সি দিতে নেমে পড়লো দিগন্ত আর ইসলামিক টিভি। উস্কানি দিতে লাগলো যাতে করে সারা দেশ জুড়ে ফটিকছড়ি কিনবা রামুর মত ঘটনা শুরু হয়। কিন্তু তাতে বাঁধা দিলো বিটিআরসি, বন্ধ করে দিলো তাদের সম্প্রচার।

এতো গেলো একটা হালকা খতিয়ান, এবার আসি মূল কথায়। এভাবে কি দেশ চলতে পারে? এই মুহুর্তে ভীষণ শঙ্কায় আছি, কেননা বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের কার্যবিধি দেখে এতটুকু বুঝতে পারছি এরা ক্ষমতায় যেতে যারপরনাই উদগ্রীব হয়ে বসে আছে। নাহলে কি করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা হয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে শেখ হাসিনা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলে উঠেন এই দেশ কোরান, সুন্নাহর নির্দেশিত পথে চলবে। কি করে তিনি এভাবে হেফাজতীদের একের পর এক হামলায় নির্বাক ভুমিকায় আছেন? এটি মোটেও বোধগম্য হচ্ছে না। যে প্রধানমন্ত্রী গণজাগরনের মোমবাতি প্রজ্জ্বলনে সাড়া দিয়ে ইজে অংশগ্রহন করেছিলেন সেই তিনি কি করে “গণজাগরন মঞ্চ” ভেঙ্গে দেয়া হলেও নিশ্চুপ ভুমিকায় থাকেন? যে মোল্লাদের একটিও ভোট তিনি বা তার দল পায় কিনা সন্দেহ সেই কট্টর উগ্রবাদী মোল্লাদের এই দেশে একের পর এক তান্ডব করবার জন্য সমাবেশের অনুমতি দেয় আর যাদের ভোট পেয়ে ক্ষমতার এই মসনদে চড়েছেন সেই তাদেরকেই “নাস্তিক” আখ্যা দিয়ে জেলে ভরে রেখেছেন।

আমি ছোটখাট একটি ব্যবসা পরিচালনা করি। সেই সুবাদে বলতে পারছি এই মুহুর্তে আমার মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কি পরিমান অর্থকষ্টে দিনপার করছে তা নিজেরা ছাড়া অন্যকেউই বুঝবে না। এর থেকে মাল নিয়ে ওর কাছে বিক্রি মাঝখানে একটু কমিশন কিন্তু দেশের এই অবস্থাতে কিছুতেই সম্ভবপর হচ্ছে না। শুধু এইক্ষেত্রে না ব্যাহত হচ্ছে রাস্তার ভিখারী থেকে শুরু করে শিল্পপতি পর্যন্ত সকলেই। মুখ থুবড়ে পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক মন্দাভাব ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু এতোকিছুতো পেট বুঝবে না, ঠিকই তিনবেলা নূন্যতম খাবার দিতেই হবে, মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতেই হবে আর তার জন্য মাসে মাসে ঘর ভাড়া দিতেই হবে, কিন্তু কোথা থেকে আসবে এই টাকাগুলো? চুরি করব নাকি ডাকাতি? আইএসআই কিনবা টার্কি ইন্টালিজেন্স এসে এসব দিবে না আবার ধর্ম বেচেও খেতে পারবো না তাহলে কি করব?

এরকম প্রশ্নের শেষ নেই, তবে যাদের কারণে আজ এই প্রশ্নের উদ্ভব, যাদের জন্য নিজের প্রিয় দলটির উপর আক্ষেপ সেই দলটি/গোষ্ঠীর প্রতি সরকারের আচরন কেমন? একদিকে প্রধানমন্ত্রী যখন বলছেন এইসকল জামায়াত-হেফাযতকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না, যেখানেই তাদের শক্ত ঘাঁটি সেখানেই তাদের উচ্ছেদ ঠিক সেই মুহুর্তে নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে বসে হরতালের ডাক দেয়। অন্যদিকে বিএনপি নামক কুলাঙ্গার দলটিরতো আজকাল ইস্যু লাগে না হরতাল ডাকতে, যেখানে সেই দলের নেত্রী মঞ্চ গায়িকার মত দর্শকদের জিজ্ঞেস করে করে হরতাল দেয় তাদের নিয়ে কথা বলতেও নিজের রুচিতে লাগে। এই অবস্থায় সরকারের ভুমিকা কি হবে সেটি আসলেই চরম সন্দিহান। ক্ষমতার লোভে এই সরকার কি হেফাজতকে পাশে টেনে তাদের তের দফা মেনে “ওই ছেমড়ি মাথায় কাপড় দে” বলবে, নাকি নিজেদের কথামতো কোনই ছাড় দিবে না। যদি এদের ছাড় দেয় তাহলে নিঃসন্দেহে এই দেশটা হবে তালেবানী রাষ্ট্র, এখানে কায়েম হবে ব্লাসফেমি আইন। কথায় কথায় ধর্ম অবমাননার নামে যাকে তাকে যেখানে সেখানে হয়রানি করা হবে। এমনিতেও এই দেশটিকে তালেবানী রাষ্ট্র বানানোর পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে বিদেশী মহলগুলো কেননা যেকোন মুল্যেই তাদের এখানে ঘাঁটি করা সহ এদেশের গ্যাস সম্পদটি চাইই।
এই যদি হয় অবস্থা তখন কি করতে পারি? দেখে দেখে অপেক্ষা করে করে ধুঁকে ধুঁকে মরবো? নাকি নিজেরাই বিকল্প ক্ষমতা তৈরী করব? জেনে শুনে তো আর মরতে পারি না, নিজেদের বাঁচার তাগিদে এমন ক্ষমতা তৈরী করতে হবে যার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাছে অন্য সবকিছুই তুচ্ছ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার্থে যদি প্রয়োজন পড়ে এরা হিটলার হতেও প্রস্তুত। ধর্মোন্মাদনা বন্ধে এরা প্রয়োজনে কঠোর থেকে কঠোরতর হবে, এই বাংলা বাঁচাতে তারা কাউকেই পরোয়া করবে না। এদের কাছে ক্ষমতা নয় দেশ রক্ষাই হবে মূল কাজ। ঠিক যেমনটি করেছিলেন হাজারো বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। বঙ্গবন্ধুর কাছে সেইসময় তথাকথিত পাকি ধর্ম রক্ষার চাইতে দেশরক্ষাই মূল কাজ হয়ে দাড়িয়েছিল আর তাই তিনি দ্ব্যর্থ কন্ঠে বলেছিলেন

“ আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান, একবার মরে দুইবার মরে না”

সেই ১৯৭১ কিনবা তারও আগে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নানান কুৎসা রটনা করা হয়েছিল। সেইসময়টা ছিলো বর্তমান থেকেও ভয়াবহ, সেইসময়ে লুঙ্গির গিঁট খুলে শিশ্ন পরখ করা হতো অথচ সেই সময়ে বঙ্গবন্ধু যেই সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন তার ফলেই বাঙালি জাতি মুক্তি পেয়েছিল। অথচ এই সময়ে এসে আমরা সেইসময়ের মতো সাহসিকতা দেখাতে পারি না, এ ভীষণ লজ্জার। এই বাংলায় আর বঙ্গবন্ধুর মতো কেউ আসবে না আমাদের পথ দেখাতে, কেউ আসবে না আমাদের নেতৃত্ব দিতে, আর তাই আমাদের উচিৎ হবে বঙ্গবন্ধুর সেই সময়ের দিক নির্দেশনা পাথেয় করে এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। এই সরকার সামনে আসবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান কেননা কারো ক্ষমতাকালে যদ বাঙালি জাতি কষ্ট পায় তাহলে দ্বিতীয়বার তাকে সুযোগ দেয় না, হোক সেখানে তার কোন দোষ নেই কিন্তু এতোকিছু বুঝে না এই জাতটা ব্যালট পেপারের সামনে গেলে। যার উপর রাগ তার উপর শোধ তুলতেই ধপাস করে সিল মোহরটা বসিয়ে দেয় প্রতিপক্ষের মার্কাতে। আবার এইবার যেহেতু “না” ভোট এসেছে তাই অনেকে নয়া ভোট দিবে কিনবা পছন্দের যোগ্য নেতৃত্ব না থাকার ফলে ভোটকেন্দ্রেই হয়তো যাবে না। এই সুযোগে তরতর করে জয় লাভের পথে এগিয়ে আসবে বিএনপি-জামায়াত জোট, এসেই শোধ তুলবে। এই শোধের স্বীকার হব আমরা যারা আম-জনতা, এই শোধের স্বীকার হব আমরা যারা ক্ষমতার চেয়ারে না বসেও তাদের বিরুদ্ধে আপোষহীনভাবে লড়াই করি। তাই শোধের নির্মম শিকার হবার আগে নিজেদের সুরক্ষা করা দরকার।

যদি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার তাতে ব্যর্থ হয় তবে নিজেদের রক্ষার্থেই গড়ে তুলতে হবে নিজেদের সুরক্ষা প্রাচীর, নয়তো লুঙ্গির মতো মগবাজারীরা সুশীলতার আড়ালে প্রতিরাতেই আমাদের গিলে খাবে। খুবলে খাবে ধর্মান্ধরা দিনে-দুপুরে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২২ thoughts on “গড়ে তুলতে হবে সুরক্ষা প্রাচীর নিজেদের প্রয়োজনেই…

  1. যদি বর্তমান আওয়ামীলীগ
    যদি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার
    তাতে ব্যর্থ হয় তবে নিজেদের
    রক্ষার্থেই গড়ে তুলতে হবে নিজেদের
    সুরক্ষা প্রাচীর, নয়তো লুঙ্গির
    মতো মগবাজারীরা সুশীলতার
    আড়ালে প্রতিরাতেই আমাদের
    গিলে খাবে।
    খুবলে খাবে ধর্মান্ধরা দিনে-দুপুরে।

  2. কেউ ধর্ম বেঁচে খাচ্ছে, কেউ
    কেউ ধর্ম বেঁচে খাচ্ছে, কেউ তাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাচ্ছে। আর কেউ এই খাওয়াখাওয়িকে পুঁজি করে ফায়দা লুটছে। মাঝখানে চিড়ে চ্যাপ্টা অবস্থা আমাদের সাধারণ জনগণের। এখন তো অবস্থা এমন রাজাকারের ফাঁসি চেয়ে রাস্তায় নামাটাই যেন অন্যায় হয়েছিল আমাদের সেটাই প্রমাণ করতে মরিয়ে এই খাওয়াখাওয়ি পার্টি। তাই নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে। এর কোন বিকল্প নাই। কিন্তু সেটা কিভাবে হবে সেটাই মাথায় আসে না। নিজেদের মধ্যেই এতো মতভেদ যে আমি ঠিক এই মুহুর্তে আসলেই হতাশ। :ভাঙামন:

    1. সময়েই বলে দিবে, কেননা পিঠ যখন
      সময়েই বলে দিবে, কেননা পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যাবে তখন নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া সকলেই একজোট হবে।

  3. ফেব্রুয়ারি মাসে আশার উজ্জ্বল
    ফেব্রুয়ারি মাসে আশার উজ্জ্বল আলো ছিল। প্রধানমন্ত্রীর ” মন পরে আছে শাহবাগে” বক্তব্যে বিজয়ের দিক নির্দেশনা ছিল স্পষ্ট।
    কিন্তু অপরাজনীতির খেলায় আজ স্বাধীনতাকে দুমড়ে মুচড়ে দিতে আওয়ামীলীগ এক মুহূর্তও ভাবছে না।

  4. যদি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার

    যদি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার তাতে ব্যর্থ হয় তবে নিজেদের রক্ষার্থেই গড়ে তুলতে হবে নিজেদের সুরক্ষা প্রাচীর, নয়তো লুঙ্গির মতো মগবাজারীরা সুশীলতার আড়ালে প্রতিরাতেই আমাদের গিলে খাবে। খুবলে খাবে ধর্মান্ধরা দিনে-দুপুরে।

  5. পোস্টের প্রতিটি শবদ্, প্রতিটি
    পোস্টের প্রতিটি শবদ্, প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি প্যারা মনোযোগসহ পড়ে মুগ্ধ হলাম। অসাধারণ এ পোস্টের জন্য ধন্যবাদ নয় সাবাস দিলাশ, সাবাস বাঙ্গালী সাবাস।

    আমি বলতে চাই, এই মুহুর্তে আমার কাছে মনে হচ্ছে বর্তমান সরকার তথা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বপ্নে বিভোর!তাদের চাই ক্ষমতা! সেটা হেফাজতির হেফাজত করে হোক, জামাতিদের সাথে আঁতাত করে হোক! তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। রইলাম বাঁকি আমরা আম পাবলিক! যারা মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কোন কিছু না পাওয়ার আশায়, দেশ মাতৃকার টানে, নিজের উপার্জিত জ্ঞান, অর্থ খরচায় বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার সহযোগিতা দিয়ে গেলাম! এইসব আম পাবলিকের কথা একবার ভাবার সময় তাদের নাই! তাই যদি থাকবে, তা হলে কেন মুক্ত চিন্তার এ প্রজন্মকে বিনা বিচারে জেলে আটক রাখা হচ্ছে? কাকে খুশি করে বর্তমান সরকার ক্ষমতা টিকে রাখতে চায়? আর যদি ক্ষমতায় টিকে থাকতে না পারে, তাহলে তাদের কোন সমস্যা নাই! কারণ তারা তো পলিটিক্যালি ভাই ভাই! সমস্যা যত আমাদের মত মুক্ত চিন্তার প্রজন্ম! যারা নিজের খেয়ে নিজের পয়সা খরচায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার জন্য, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায়ের দাবীতে গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে গেছি তাদের !

    সুতরাং আমাদের নিজেদেরকে রক্ষার জন্য ঐক্যের কোন বিকল্প নাই। আমাদের রক্ষার জন্য পথ আমাদেরই বের করতে হবে। অতএব এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হোক। আমাদের যে কোন ঐক্য, যে কোনে মোর্চা তৈরী হলে আমি আছি, থাকবো… জয় বাংলা..

  6. আমার ধারণা লীগের স্ট্রাটেজিটা
    আমার ধারণা লীগের স্ট্রাটেজিটা এমন:

    আমরা যারা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করি, তারা সবাই খুব ভাল করেই জানি, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আমাদেরকে একটা একটা করে খুঁজে বের করে জবাই করে ফেলে রাখা হবে। তাই য খুশি করুক, আমাদের ভোটটা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকেই দিতে হবে।

    এর মাঝে ধর্মান্ধদের খুশি করে যদি কিছু এক্সট্রা ভোট আনা যায়, তবে ক্ষতি কী???

  7. আত্মপরিচয়ের স্থান অটুট রাখতেই
    আত্মপরিচয়ের স্থান অটুট রাখতেই আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে…
    সুন্দর একটি বিশ্লেষণ আর সময়োপযুগি লিখা!!
    ধন্যবাদ…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =