২১শে ফ্রেব্রিয়ারী নাকি ২৫শে জমাদিউল আউয়াল ?

আসুন সবাই একসাথে আওয়াজ তুলি – ২১শে ফ্রেব্রিয়ারী নয় , ২৫ জমাদিউল আউয়ালই হোক ভাষা দিবস । বন্ধ হোক ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সকল চক্রান্ত । জব্বার, রফিক, বরকত, সালামরা কি হেন্দু ছিল যে হিন্দুয়ানীদের মত তাদের বেদী করে ফুল দিতে হবে ? তার চেয়ে আসুন বেদীতে ফুল না দিয়ে গোমড়াকারী পাকিদের ঘৃনার মিনার বানিয়ে তাতে পাথর মারার প্রথা চালু করি এবং শহীদদের জন্য মসজিদে মসজিদে বিশেষ মুনাজাত ও দোয়া মাহফিলের ব্যবস্থা করে সহি ইসলামী পদ্ধতিতে শহীদ দিবস পালন করে কাফেরদের সকল চক্রান্ত ভেংগে ফেলি । হে আল্লাহ, কাফেরদের এইসব চক্রান্ত থেকে বের হয়ে আমাদেরকে ও সকল শহীদেরকে একজন সাচ্চা মুসলমানের মর্যাদা প্রাপ্ত হওয়ার তৌফিক দান করুন, আমিন ।

২১শে ফ্রেব্রিয়ারী নাকি ২৫শে জমাদিউল আউয়াল ?

ইসলামের জন্ম লগ্ন থেকেই সবাই ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে । সহি মুসলমানদের সহি ইতিহাসকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে । তারই ধারাবাহিক জ্বলন্ত উদাহরন এই ১৯৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারী । কাফের ধীরেন্দ্রনাথ শুধু সংসদে বাংলা ভাষার জন্য রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছিলেন কিন্তু এক ফোটা রক্ত দেওয়ার কোন প্রমান নাই, জীবন তো অনেক দূর কি বাত ।

অথচ কোন কাফের নয়, ১৩৭১ হিজরী ২৫শে জমাদিউল আউয়ালে ভাষার জন্য জিহাদ করে রক্ত ও জীবন দিয়েছে আমাদেরই সহি মুসলমান ভাই জব্বার, রফিক, বরকত, সালামসহ অনেকেই । অথচ চক্রান্তকারী এই কাফেররাই মুসলমানদের সেই জিহাদকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য সেই ইতিহাসকে বিকৃত করে বিদাতী সন ও তারিখ ব্যবহার করার নীতি চালু করেছে যা ইসলাম ও একজন মুসলমানের জন্য অবমাননাকর বলেই মনে করছে দেশ প্রেমিক ধর্মিয় জ্ঞানীরা। ইসলাম প্রচারের সাথে সাথেই বাংলাদেশে হিজরী সনের প্রচলন ঘটেছে। বাংলাদেশে ১২০৪ খ্রীষ্টাব্দ হতে সর্বক্ষেত্রে হিজরী সন ব্যবহার শুরু হয় (তবাকাতে নাসিরী)। উপমহাদেশে প্রায় ৫৫০ বৎসর রাষ্ট্রীয়ভাবে এই হিজরী সন স্বীকৃত ছিল। ইংরেজ শাসনকালে আমাদের দেশে কুফরী রাষ্ট্রীয় সনের প্রচলন হয (১৭৯০ সাল হতে) যা আজও আমরা অন্ধের মতো ব্যবহার করছি। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবেবরাত সহ সকল দিবসই পালন করে হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসাবে তাইলে একটা মুসলিম প্রধান দেশে কেন ২১শে ফেব্রুয়ারী ?

দুনিয়ায় দুই পদ্ধতিতে সাল গননা করা হয় । ১) সৌর পদ্ধতি ২) চন্দ্র পদ্ধতি । যদিও তাগুতি ম্যশরিক কাফের নাসারারা বিজ্ঞান নামক বিদাত অনুসরণ করে সৌর পদ্ধতিকে সঠিক বলে। কিন্তু মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন পাক পরোয়ারদিগারের জ্ঞানে জ্ঞানন্বিত আমাদের মহান নবী চন্দ্র বর্ষকেই সঠিক বলে মতামত দিয়েছেন । উনার মতের উপরে ভিত্তি করেই সমগ্র মুসলিম জাহান কাফেরদের সৌর পদ্ধতি নয় আলাহর চন্দ্র পদ্ধতিতেই হজ্ব, রোজা, শবেকদর সহ সকল দিবস পালন করে আসছে । কারন ইসলাম মানেই পূর্ণাঙ্গ “কোড অফ লাইফ” । অর্থাৎ জীবনের প্রতিটা মুহুর্ত ইসলামের দিক নির্দেশনাতেই চলতে হবে । আমরা তো এমন কি নামটাও রাখি ইসলামিক (নামের অর্থ যাই হোক না কেন)। তাইলে একদিকে সাচ্চা মুসলমান দাবী করা ও অন্যদিকে কাফেরদের বিদাতী সন ব্যবহার করা কি মোনাফেকী নয় ? আসুন দেখি এই বিষয়ে আল্লাহ পাক কি এরশাদ করেছেন –
‘নিশ্চয়ই আকাশমÐলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আলøাহর বিধানে আলøাহর নিকট মাস গণনার মাস বারোটি, এর মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ সম্মানিত মাসসমূহে তোমরা নিজেদের উপর যুলুম করো না।’ (সূরা তাওবা : ৯/৩৬)

‘লোকেরা তোমাকে নতুন চাঁদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে। বল,‘উহা মানুষ ও হজ্জের জন্য সময় নির্দেশক।’ (সূরা বাকারা ২/১৮৯)

আলøাই ঊর্ধ্বদেশে আকাশমÐলী কোনরূপ ¯Íম্ভ ছাড়াই স্থাপন করেছেন, তোমরা তো দেখতে পাও, অতপর তিনি আরশে সমাসিন হলেন, এবং সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মাধীন করলেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রন করেন এবং নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাÿাত সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পার।’ (সূরা রা‘দ, আয়াত ২)

‘তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত, দিন, সূর্য ও চাঁদকে; আর তারকারাজিও অধীন রয়েছে তাঁরই নির্দেশে। অবশ্যই এতে বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিশ্চিত নিদর্শন। (সূরা নাহাল-১৬/১২)

সুতরাং চাঁদ ইসলামের প্রায় সকল ইবাদতের সাথে জড়িয়ে আছে। আমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখি, চাঁদ দেখে ঈদ করি, চাঁদের দর্শনে হজ্জ ও কুরবানী বারে বারে আসে, শবেকদর, শবেবরাত, শবেমে‘রাজ বিশ্ব মুসলিম সমাজে এক আনন্দের হিলেøাল বয়ে নিয়ে আসে। তাই চাঁদ মুসলমানদের ধর্র্মীয় জীবন সাথী। চাঁদ যেহেতু প্রতি মাসে তার নিজস্ব পরিক্রমণ সমাপ্ত করে ফেলে, সেহেতু চন্দ্রকলার হ্রাস ও বৃৃদ্ধিসম্পাদনে সময় লাগে প্রায় ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা। তাই এক চান্দ্রবছর হতে সময় লাগে ৩৫৪ দিন ৮ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট। অর্থাৎ আমরা ১১ দিন আগেই একটা বছর শেষ করে ফেলতে পারি, প্রতি ২৫শে জমাদিউল আউয়াল আমরা অন্যদের আগেই উৎযাপন করতে পারবো, এবং প্রতি ৩২ বছরে আমরা একটা করে বেশি ২৫শে জমাদিউল আউয়াল পাবো।

আরবি ভাষা যেমন আলালহর প্রিয় তেমনি হিজরী সনও তো আল্লাহর প্রিয় তাই না ? হাদিস কোরানে নির্দেশ আছে – মরার পরে আল্লাহ যেমন প্রতিটা মুমিনদেরকে আরবিতেই প্রশ্ন করবে ঠিক একই ভাবে আরবির হিজরি দিন তারিখ দিয়েই তো বিচার করবেন । অথচ আমাদের মুসলমান ভাইদের মর্যাদা পূর্ন কাজকে বিদাতী দিন তারিখ দিয়ে প্রচার করলে কি আলালহর বিচারকে গোমড়া করবে না ? শহীদরা কি তাদের শহীদের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা থাকে না ? এভাবে কাফেরদের সাথে তাল মিলিয়ে একজন শহীদ ভাইকে তার শহীদের মর্যাদার হক থেকে বঞ্চিত করা কি অন্যায় নয় ? অথচ ভাষার জন্য জিহাদে অংশ নেওয়া শহীদ ভাইদের জন্য ঠিক করা হলো কাফেরদের বিদাতী সন ও তারিখ । বিদাতি মতে কেঁউ শহীত হতে পারে না। মুসলিম ভাইদেরকে শহীদী মরতবা লাভ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার নাছারা ষড়যন্ত্রের ফল এই দিবসের নাসায়ী তারিখ।
দেখুন আল্লাহর নবী (সাঃ) কি বলেছেন শহীদদের নইয়েঃ

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করার পর আর দুনিয়ায় ফিরে যেতে চাইবে না। যদি সে দুনিয়ার তামাম জিনিস পেয়ে যায়, তবুও না। অবশ্য শহীদের কথা আলাদা। সে চাইবে যে, তাকে দুনিয়ায় ফিরিয়ে আনা হোক এবং দশবার তাকে আল্লাহর পথে হত্যা করা হোক। এই কারণে যে, সে তার ইজ্জত ও সম্ভ্রম দেখতে পাবে। অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে- সে এটা চাইবে এ কারণে যে, এভাবে সে শাহাদাতের ফজিলত দেখতে পাবে (সহীহ বুখারী)
নবী করিম আরো বলেছেনঃ

আল্লাহ তাআলার দরবারে শহীদের জন্য রয়েছে ৬টি বৈশিষ্ট্য-
ক. প্রথম রক্ত বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং শহীদ ব্যক্তি জান্নাতে তার স্থান দেখে নেয়;
খ. কবরের আজাব থেকে তাকে দূরে রাখা হয়;
গ. বড় ভীতি অর্থাৎ, কিয়ামাতের কঠিন অবস্থা থেকে নিরাপদ থাকবে।
ঘ. তাঁকে ঈমানের একজোড়া অলংকার পরানো হবে।
ঙ. হুরদের সঙ্গে বিবাহ দেয়া হবে।
চ. নিকট আত্মীয়দের থেকে ৭০ জন ব্যক্তিকে সুপারিশ করতে পারবে।

শুধু এবং শুধু এই জন্যই বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ গন ঐ দিনকে ১৩৭১ হিজরী ২৫শে জমাদিউল আউয়ালকেই ভাষা শহীদ দিবস পালন করার জন্য অভিমত দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়া ক্ষমতা লোভী মোনাফেকরা কর্ন পাতই করছে না । তারা একদিকে বলে মদিনা সনদের কথা অন্যদিকে কাজ করে কাফেরদের মত । এটা কি মুসলমানদের জন্য লজ্জা নয় ? এতে করে কি সেই সব শহীদদের গুনাহ হচ্ছে না, এবং আমরা গুনাহ করছি না ?

তাই বন্ধুগন, সত্যিই যদি আপনারা সাচ্চা মুসলমান হয়ে থাকেন তাইলে আসুন সবাই একসাথে আওয়াজ তুলি – ২১শে ফ্রেব্রিয়ারী নয় , ২৫শে জমাদিউল আউয়ালই হোক ভাষা দিবস । বন্ধ হোক ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সকল চক্রান্ত । জব্বার, রফিক, বরকত, সালামরা কি হেন্দু ছিল যে হিন্দুয়ানীদের মত তাদের বেদী করে ফুল দিতে হবে ? তার চেয়ে আসুন বেদীতে ফুল না দিয়ে গোমড়াকারী পাকিদের ঘৃনার মিনার বানিয়ে তাতে পাথর মারার প্রথা চালু করি এবং শহীদদের জন্য মসজিদে মসজিদে বিশেষ মুনাজাত ও দোয়া মাহফিলের ব্যবস্থা করে সহি ইসলামী পদ্ধতিতে শহীদ দিবস পালন করে কাফেরদের সকল চক্রান্ত ভেংগে ফেলি । হে আল্লাহ, কাফেরদের এইসব চক্রান্ত থেকে বের হয়ে আমাদেরকে ও সকল শহীদেরকে একজন সাচ্চা মুসলমানের মর্যাদা প্রাপ্ত হওয়ার তৌফিক দান করুন, আমিন ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =