মুসলমানীয় নামের বিখ্যাত নাস্তিকরা আরবীয় নামের সংস্কৃতি থেকে যেন বের হতে পারেনই না!

মুসলমানীয় নামের বিখ্যাত নাস্তিকদের এই একটা দোষ। তাঁরা আরবীয় নামের সংস্কৃতি থেকে যেন বের হতে পারেনই না! আরজ আলী মাতুব্বর, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, আহম্মদ ছফা, আহম্মদ শরীফ, শামসুর রহমান, হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিন, আসিফ মহিউদ্দিন, পারভেজ আলম, আব্দুল মান্নান মামুন, ওমর ফারুক, এই নামগুলো আরব্য নামের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে।

হুমায়ুন আজাদ এতোবড় প্রথাবিরোধী ছিলেন। অথচ নিজের পিতৃত্বের পরিচয় তাঁর সন্তানদের উপর ঠিকই চাপিয়ে দিয়েছেন। তিনি যদি সত্যি পুরুষতান্ত্রিকতা মনের গভীরে পুষে না রাখতেন তাহলে “আজাদ” শব্দটা তাঁর সন্তানদের নামের পেছনে কখনো জুড়ে দিতেন না। যেমন- অনন্য আজাদ, স্মিতা আজাদ, মৌলি আজাদ। আর তিনি যদি নারীবাদকে সত্যিই সমীহ করতেন, তাহলে তাঁর সন্তানদের নামের পেছনে “কোহিনুর” (তাঁর স্ত্রীর নাম লতিফা কোহিনুর) শব্দটা জুড়ে দিতেন।

যাই হোক নারীতন্ত্র পুরুষতন্ত্র কোনোটাই আমার কাম্য নয়। আমার কাম্য মানবতন্ত্র। হ্যাঁ যা বলছিলাম, এই পর্যন্ত দেখা মুসলমানীয় নামের বিখ্যাত নাস্তিকদের নাম দেখে চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় এরা মুসলমান ঘরের! আপনারা এতো কিছু লিখেন, এতো কিছু ভাঙ্গেন, এতো কিছুর সংস্কার চান, অথচ ঐ আরব্য সংস্কৃতির নামের খোলস থেকে একটু বেড়িয়ে আসতে পারেন না?

আজ যদি তসলিমা নাসরিনের কোনো সন্তান থাকতো তিনি হয়তো নাসরিন পরিচয়ে তাঁর সন্তানের নামের শেষাংশ পদবী (তিনি পুরুষতান্ত্রিক বিরোধী তাই বললাম) রাখতেন। তারপরও তো এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, নামগুলো আরব্য নাম! আগামীতে আসিফ মহিউদ্দিনের কোন সন্তান হলে হয়তো রাখবেন- জমির উদ্দিন, কবির উদ্দিন, বদর উদ্দিন, ফাতেমা উদ্দিন, তানিশা উদ্দিন! ওমর ফারুক লুক্স বা পারভেজ আলমের কোন সন্তান হলে তাদের নামের শেষাংশে হয়তো জুড়ে দেবেন আলম আর ফারুক! সন্তানটা একি সাথে পির্তৃত্বের পরিচয় ও মুসলমানিত্ব (আরব্য-সংস্কৃতি) বহন করল। খারাপ কি?

-এখন মুসলমানদের সব কার্যক্রম আর প্রায় শাখায় “ইসলামিক” শব্দটা জুড়ে দেয়া হয়েছে। ইসলামি ব্যংক, ইসলামি সংস্কৃতি, ইসলামি জীবন, মুসলিম বৈজ্ঞানিক, মুসলিম ইতিহাসবিদ, মুসলিম পদার্থবিদ, মুসলিম কবি, মুসলিম সাহিত্যিক। এমন হয়তো একদিন আসবে “মুসলিম নাস্তিক” শব্দটা আমাদের শুনতে হবে। বা ইতিহাসে পাতায় লিপিবদ্ধ করা হবে উমুক আর তমুক মুসলিম নাস্তিক ছিলেন! তখন আসিফ মহিউদ্দিন, ওমর ফারুক লুক্স, আব্দুল মামুনরা মনে মনে এই ভেবে হয়তো সুখ পাবেন- আমি একজন মুসলিম নাস্তিক!

১৮–২–১৫

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “মুসলমানীয় নামের বিখ্যাত নাস্তিকরা আরবীয় নামের সংস্কৃতি থেকে যেন বের হতে পারেনই না!

  1. পিতার দেওয়া নাম আপনি পরিবর্তন
    পিতার দেওয়া নাম আপনি পরিবর্তন কিভাবে করবেন? আমার নাম পরিবর্তন করার জন্য প্রতিনিয়ত ধার্মিকদের গালাগাল শুনতে হয়। সকল যোগ্যতা সনদ, পাসপোর্ট থেকে শুরু করে সকল দলিল দস্তাবেজে পিতৃপ্রদত্ত নাম বাধ্য হয়েই রাখতে হয়। স্বাভাবিক কারণে আমরা যখন লেখালিখি বা এক্টিভিজম শুরু করি তখন ঐ নামেই শুরু করি। পরিবর্তন করা কি আদৌ সম্ভব?

    1. পিতার দেওয়া নাম আপনি পরিবর্তন
      পিতার দেওয়া নাম আপনি পরিবর্তন কিভাবে করবেন?/ একজন প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ এই পিতৃতন্ত্রের গন্ডী থেকে বের হতে পেরেছেন কি? নুর নবী দুলাল

  2. আসলে নাস্তিকদের নামকরণ আলাদা
    আসলে নাস্তিকদের নামকরণ আলাদা প্রকারের হতে হবে, এমন কোন রীতি জানা নেই। আরবী নামকে শুধু এই উপমহাদেশেই মুসলমানি নাম বলে মনে করা হয়। আরবী নাম ইহুদি এবং খ্রিষ্টানদের মাঝেও প্রচুর দেখা যায়। নাস্তিক হলে নাম বদলাতে হবে, পোশাক আশাক বদলাতে হবে, খাদ্যাভাস বদলাতে হবে, এধরণের চিন্তা ধর্মীয় ভাবধাররাই সমান্তরাল চিন্তা মাত্র।(অর্থাৎ লেখক ধর্মীয় নিয়ম নীতির বাইরে চিন্তা করতে অক্ষম মনে হচ্ছে)…

  3. পিতার দেওয়া নাম আপনি পরিবর্তন
    পিতার দেওয়া নাম আপনি পরিবর্তন কিভাবে করবেন?/ একজন প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ এই পিতৃতন্ত্রের গন্ডী থেকে বের হতে পেরেছেন কি? নুর নবী দুলাল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 2 =