স্বর্ণলতা পর্ব-২

স্বর্ণলতা পর্বঃ ২
অনুর ছোট্ট মাথাটি দুষ্টুমিতে ভরপুর। তার বুদ্ধিটি হল এই, সে গাছটিকে সুন্দর করে সাজাবে আর এই সৌন্দর্যই তার কাল হবে।
পরদিন সকাল বেলা বের হল অনু। অনেক খুঁজে খুঁজে স্বর্ণলতা জোগাড় করল সে। যখন তার মনে হল এটা যথেষ্ট, তখন গেল গাছটির কাছে। ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকাল গাছটির দিকে, যেন গাছটি কতবড় অপরাধি। গাছটিও যেন তাকে বলছে, কি খুকি কুল খাওয়ার সাধ মেটে নি? আবার এসেছিস? ও, বাবা, এ তো রেগে ফুসছে যে! কিরে মারবি নাকি আমায়? ওই লতা দিয়ে? হা হা হা।
স্বর্ণলতা গুলো পাকিয়ে জটলা বেধে গাছের উপরের দিকে ছুড়ে মারলো অনু। আটকে গেল কাটার সাথে। মনে মনে বলল – মরবি তুই, মরবি।
২.
মাসখানেক কেটে গেছে। আবীর অনুকে বলছে, এই অনু জানিস পথের ধারের ওই কুল গাছটা মরে গেছে।
-আমি জানি।
-যাহ্‌, তুই কি করে জানলি?
-আমিই মেরেছি কিনা গাছটি।
-কী তুই? আহা, কুলগুলো স্বাদের ছিল, তাছাড়া তুই তো ওগুলো পছন্দ করতি।
-আর ও যখন তোকে ব্যাথা দিল?
.
এরকমই ছিল অনুর পাগলামো। ওর পাগলামো খুব উপভোগ করত আবীর। কোনো কোনো দিন ওকে না দেখলে ভালোই লাগতো না।
সময় তার মত করে চলতে লাগলো। একসময় অনুর বিয়ের কথা উঠল, বিয়ের দিন তারিখ সব ঠিক হয়ে গেল প্রায় সাথে সাথেই। অনু তখন আবীরকে বলেছিল, -তুই কি আমাকে ভালবাসিস? যদি ভালবেসে থাকিস তো এখনো সময় আছে। আবীরের সংক্ষিপ্ত উত্তরটি ছিল -না।
আবীর বুঝতে পেরেছিল না, তার এই একটা মিথ্যে তার সারাজীবনের কাল হবে।
হঠাৎ তার চিন্তায় ছেদ পরল দুটি কন্ঠের হাসাহাসিতে। তাকিয়ে দেখল একটি অচেনা পুরুষ মুখ, অপরটি অনু। বুকের মধ্যে ছ্যাৎ করে উঠল। হৃদস্পন্দন বেড়ে গেছে ওর। ধুলোয় ছাপ ফেলা দুই জোড়া পায়ের দিকে তাকিয়ে শুধু একটা কথাই আওড়াচ্ছিল আবীর, -তুই কি আমায় ভালবাসিস?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

87 − 77 =