আমি অপ্রিয় বলছি- শুনো হে মুর্খের দল!

আমাদের রাষ্ট আর সমাজের অধিকাংশ শিক্ষিত (মাথামোটা শিক্ষিত) অভিভাবকগন মনে করে- ছেলে হোক মেয়ে হোক ডিগ্রি পাশ করলেই সেই শিক্ষিত! ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অনার্স, মাস্টার্স, বিবিএ, এমবিএ, পাস করলে সেই অধিক শিক্ষিত! কোনো ছাত্র বাইরে গিয়ে পি এইস ডি পড়ে এসে নামের আগে “ডক্টরেট” লাগালে তাদের দৃষ্টিতে সেই তো আরো অনেক বড়ো শিক্ষিত! ডক্টর অমুক, ডক্টর তমুক! আহারে কতো বড়ো শিক্ষিত মানুষ! এসব অভিভাবকরা নির্ধারণ করে দেয় কারা শিক্ষিত, কারা অশিক্ষিত। এরা মনে করে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট ওলারা শিক্ষিত বাকি সব অশিক্ষিত! এরা ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষিতরাই মানুষ, বাকি সব অমানুষ!

আমি অপ্রিয় বলছি- শুনো হে মুর্খের দল!
-যে ডাক্তার রোগীকে সঠিক চিকিৎসা না করে, রোগীর রোগ জিঁইয়ে রেখে প্রতিদিন বেশ্যার খদ্দেরের মতো রোগী গুনতে গুনতে নিজের পকেট ভারী করে, তাকে আপনি শিক্ষিত বলছেন? যে ইঞ্জিনিয়ার ঘুষ খেয়ে মানুষের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, তাকে আপনি শিক্ষিত বলছেন? যে আইনজীবী দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, মামলাটি সচল রেখে তার মক্কেলকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে ফকির বানিয়ে দিচ্ছেন, সেই প্রতারককে আপনি শিক্ষিত বলছেন? যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাস মার্ক দেয়ার নাম করে প্রাইভেট কোচিং খুলে অগাতে শিক্ষা-বানিজ্য করছেন, আপনি তাকে শিক্ষিত বলছেন?

সবাই দেখি একটা চাকরীর জন্য, জীবনের একটা অবলম্বনের জন্য, সুন্দর একখান বৌ বা বর পাবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়। কিন্ত মানুষ আর মনুষ্যত্বের শিক্ষা অর্জনের জন্য ওখানে কেউ পড়তে গেছে বলে শোনা যায়না। ওসব শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে অহরহ ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ব্যারিস্টার বের হয়, কিন্তু মানুষ হয়ে বের হয় কয়জন?

আপনারা তো শিক্ষা অশিক্ষার মান প্রতিনিয়ত স্কেল দিয়ে মাপছেন। এক বিদ্রোহী কবি নজরুলের শিক্ষাটা কোন স্কেল দিয়ে মাপবেন? একজন আরজ আলী মাতুব্বরের সত্য দর্শনকে কোন যুক্তিতে খন্ডন করবেন? দার্শনিক ও উপন্যাসিক বানার্ড’শকে কোন দিক দিয়ে অশিক্ষিত বলবেন? রবি ঠাকুরের রচনাকে কোন মানদন্ডে ফেলবেন? পৃথিবীতে এই ধরনের আরো অনেক মানুষের নজির আছে। এঁরা তো তেমন একটা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না। তাই বলে এরা কোন দিক দিয়ে অশিক্ষিত? এঁদের সৃষ্টিতত্ব গুলো তো গবেষনা করতে করতে আমদের ডক্টরেট বাবুরা চুল দাড়ি পাকিয়ে ফেলেন, তবুও তো কোন কুল কিনারা খুঁজে পাননা!

কিছু সময়ের, কিছু কিছু মুহুর্তের অপমান গ্লানি আর তাচ্ছিল্য পেয়েছি বলেই আমার এতোক্ষন বক বক করা। জীবনে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া করার তেমন একটা সুযোগ ছিলনা। মাধ্যমিক না পেরুতেই জীবনের তাগিতে বেরিয়ে পড়তে হয়েছে কাজের সন্ধানে। তবুও বই পুস্তক থেকে দুরে সরে যায়নি। যখন যা পেয়েছি পড়েছি, গো গ্রাসে গিলেছি। নিজেকে নিজের মতো গড়েছি, তাই বলে এই ভদ্র (!) শিক্ষিত সমাজের স্রোতে গা ভাসাইনি। অন্যায়কে অন্যায় বলেছি, সাদাকে সাদা বলেছি, কালোকে কালো বলেছি, চোরকে বলেছি, লুইচ্চ্যাকে লুইচ্চ্যা বলেছি, ভন্ডকে ভন্ড বলেছি! তার পুরস্কার স্বরুপ পেয়েছি ১২ সালে জেল জুলুম অত্যাচার!

কোন আত্নমর্যদাহীন প্রতারক আইনজীবির মতো অনৈতিক পন্থায় আয় করিনি। কোন নির্লজ্জ ডাক্তারের মতো রোগীর সাথে বেইমানী করে ধান্দা করিনি। আত্নসম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে সবকিছুতে হ্যাঁ হুঁ সাই দিয়ে কোন মেরুদণ্ডহীন বুদ্ধিজীবীর (বুদ্ধিবেশ্যা) মতো ফায়দা লুটার আশায় কারো মতের দাসত্ব করিনি। এসব শিক্ষায় নিজেকে গড়িনি। আমার শিক্ষা মনুষ্যত্বের শিক্ষা। আমার শিক্ষা পুরোনো নিয়ম আর জরাজীর্ণ শৃঙ্খলকে ভেঙে চুড়ে নতুন করে গড়ার শিক্ষা। আমার শিক্ষা অন্যায় অবিচারের বিরূদ্ধে দাড়িয়ে তার প্রতিবাদ করা। আমার শিক্ষা রাষ্টের দুঃশাসনের বিরূদ্ধে দ্রোহের আওয়াজ তোলা। কাউকে তেল মেরে নমো নমো করে চলার শিক্ষা আমি নিজেকে দিইনি। তবুও যারা অশিক্ষিত বলে আমার দিকে আঙুল তুলে, মুর্খ বলে যারা পরিহাস করে, তাদেরকে বলতে চাই- হ্যাঁ আমি আমার এই শিক্ষা নিয়ে যথেষ্ট গর্ববোধ করি। এই শিক্ষা আমার অহংকার!

৫–১২–১৪ইং

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 4