বিশ্ব জয় করেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক

জিন্স নামে পরিচিত ডেনিম পোশাক তৈরিতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন বাংলাদেশ। কেবল তৈরিই নয়; ইউরোপের বাজারে রফতানির ক্ষেত্রেও টানা তিন বছর ধরে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দিন দিন শক্ত হচ্ছে বিদেশি মুদ্রা আয়ের অবস্থান। বিশ শতকের মাঝামাঝি মার্কিন মুলুকে এর ব্যবহার শুরু হলেও বাংলাদেশ এখন এর অন্যতম উৎপাদনকারী দেশ। মাত্র তিন দশকের মধ্যে গড়ে উঠেছে ২৭টি বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। আরও কিছু কারখানা প্রক্রিয়াধীন। ডেনিম খাতে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে বিদেশী ক্রেতারা আগ্রহী হচ্ছেন বাংলাদেশের ডেনিমের প্রতি। বিশেষজ্ঞরাও ‘ডেনিম বা জিন্স পণ্যকে’ তৈরি পোশাক খাতের নতুন এক সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। । ডেনিম উৎপাদনে বাংলাদেশে সম্ভাবনা আছে। গত তিন বছর ধরে ইউরোপের বাজারে ডেনিম পোশাক রফতানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের প্রথম ছয় মাসে যার পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ইউরো। যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। গত বছর প্রথমার্ধে যেখানে রফতানির পরিমাণ ১৮ কোটি ৬৩ লাখ। সাশ্রয়ী দাম আর গুণগতমানে সেরা বলে বাংলাদেশের ডেনিম বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়। ১৯৮৯ সালে প্রথম হংকং ও ফিলিপিন্সের দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে ডেনিম পোশাক তৈরির দুটি কারখানা স্থাপন করে। ১৯৯২ সালের নভেম্বরে বিশ্বের ১১তম ডেনিম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি মেলে বাংলাদেশের। এর আগের বছরের তুলনায় সরবরাহ ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়াই মেলে এ স্বীকৃতি। পরে ১৯৯৬ সাল থেকে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় ডেনিম কাপড়ের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে ১৭ কোটি পিসের বেশি ডেনিম পোশাক বিক্রি করে আয় করেছে প্রায় ৯৪ কোটি ডলার। অথচ একই সময়ে চীন একই বাজারে বিক্রি করে মাত্র সাড়ে ১১ কোটি পিস। ডেনিমের বিশাল বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ডেনিমই বিশ্বসেরা।দেশের ডেনিম পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় ৬০ শতাংশ কাপড়ই আমদানি করতে হয় বিভিন্ন দেশ থেকে। আশাবাদের খবর হচ্ছে উচ্চমান ও মূল্যের পাশাপাশি ফ্যাশনেবল ডেনিমের উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে এ শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা। নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ডেনিম কারখানাগুলো তাদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। জিন্সের এমন জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতার মূল কারণ, এতে ব্যবহৃত ডেনিম কাপড়। ডেনিম খাতে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে বিদেশী ক্রেতারাও আগ্রহী হচ্ছেন বাংলাদেশের ডেনিমের প্রতি। ইউরোপের বাজারে টানা তিন বছর ধরে রফতানিতে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ডেনিম পোশাক। ইউরোপ আমেরিকার কিশোর, তরুণ-তরুণী এমন বয়স্কদের পরিহিত জিন্সটির গায়ে ছোট লেবেলে ‘মেড-ইন-বাংলাদেশ’ লেখা দেখতে পাওয়া এখন খুবই সাধারণ ব্যাপার। বিশ্ববাজারে প্রতিদিনই বাংলাদেশের ডেনিম পোশাকের কদর বাড়ছে। উন্নতমানের ডেনিম রফতানি, বিশ্বমানের কারখানা এবং শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের ফলে এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বিশ্ব জয় করেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 45 = 50