যোনী তোমার, তাই দায়ভারটাও তোমারই!!

জন্মবিরতিকরন শব্দটার সাথে আমরা
পরিচিত সেই ১৮৩০ অব্দ থেকে ৷
মিশরে সর্বপ্রথম কুমিড়ের মল,মধু ও
সোডিয়াম কার্বনেট দিয়ে তৈরী ওষুধ
ভ্যাজিনায় লাগানো হতো স্পার্ম
ঠেকানোর জন্য ৷
আনুমানিক ৩০০০ অব্দে আমেরিকাতে মাছের মুত্রথলী,পশুর নাড়ি দিয়ে একপ্রকার কনডম তৈরী করা হতো ৷

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গুলোকে
প্রধানত: দুইভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
ক) সনাতন পদ্ধতি খ) আধুনিক পদ্ধতি।

ক) সনাতন পদ্ধতিঃ

যে পদ্ধতি পরিবারের সদস্য সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ঐতিহ্যগতভাবে সমাজে প্রচলিত আছে সেগুলোকে সনাতন পদ্ধতি বলে। যেমন

1) প্রত্যাহার বা আযলঃ স্বামীর
বীর্য বাইরে ফেলা
2) বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো
3) নিরাপদকাল মেনে চলা
4) নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সহবাস
থেকে বিরত থাকা বা আত্মসংযম।

খ) আধুনিক পদ্ধতিঃ

আধুনিক পদ্ধতিকে আবার দুইভাগে
ভাগ করা যায়। যেমন:
১) নন-
ক্লিনিক্যাল এবং ২) ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি।

1) নন-ক্লিনিক্যাল:
যে পদ্ধতিগুলো অন্যের সাহায্য ছাড়া
নারী-পুরুষ নিজেই ব্যবহার করতে পারে
সেগুলোকে নন-ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি
বলে। যেমনঃ
খাবার বড়ি
কনডম
‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌
২) ক্লিনিক্যাল: যে
পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের জন্য নারী-
পুরষকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
সেবাদানকারীর সাহায্য নিতে হয়
সেগুলোকে ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি বলে।
যেমন: অস্থায়ী পদ্ধতি এবং স্থায়ী পদ্ধতি।

অস্থায়ী পদ্ধতি
ইনজেকশন
আই.ইউ.ডি
নরপ্ল্যান্ট

স্থায়ী পদ্ধতি
পুরুষ বন্ধ্যাকরণ- ভ্যাসেকটমী
নারী বন্ধ্যাকরণ- টিউবেকটমি বা
লাইগেশন ৷
আমাদের পুরুষদের জন্য অনেকরকম পদ্ধতি থাকলেও তারা কোন পদ্ধতিই গ্রহন করতে ইচ্ছুক নন ৷ আমার পরিচিত যে সকল বন্ধু বড় ভাই বিয়ে করেছে তারা কোন প্রকার জন্মনিরোধক ব্যবহার করেনা,তাদের কাছে কনডম ব্যবহার করা মানে বিরক্তিকর বিষয় এবং এতে কোন ফিলিংস পায় না ৷

দায়টা চাপিয়ে দেয় বৌয়ের ওপর ৷ বৌকে খেতে হয় জন্মবিরতিকরন পিল ৷ বিষয়টা এমন যেন যোনী তোমার তাই দায়ভারটা তোমারই ৷
এর ফলে বাড়ছে গর্ভপাত ৷ বাড়ছে নারী মৃত্যুর হার ৷

এক জরিপে দেখা গেছে,দেশে নয়জন নারীর বিপরীতে মাত্র একজন পুরুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেন। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার বাড়লেও পুরুষের অংশগ্রহণ সেভাবে বাড়েনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পদ্ধতি গ্রহণে পুরুষ ও নারীর অনুপাত ১:৯। দেশের ওষুধ কোম্পানীগুলোও পিল নিয়ে বিজ্ঞাপন দেয় “যেন কাশফুলের নরম ছোঁয়া ” সহজে মানিয়ে যায়” ৷
আসলেই কী তাই??
এসব পিলে রয়েছে পার্শপ্রতিক্রিয়া ৷

#ওজন বেড়ে যেতে পারে।
#মেজাজ খিটখিটে হয়।
#পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়ার পর
গর্ভধারণে দেরী হতে পারে।
#এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ
করার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা
নাই।

এখন বাজারে এসেছে বিভিন্ন দেশী কোম্পানীর ইমার্জেন্সি পিল ৷ যেমন
#নোরিস্ক
#আই-পিল
#ইমকন
#পিউলি
#৫এক্স ইত্যাদি ৷ এসব তো আরো আরও ভয়াবহ ক্ষতিকর ৷
আসুন আমরা শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষনিকের সুখের জন্য এই দায়ভারটা নারীদের ওপর না চাপাই ৷

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “যোনী তোমার, তাই দায়ভারটাও তোমারই!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 76 = 77