প্রসঙ্গঃ ”ডুব”, ফারুকী, শাওন ও বান্টি মীর

ইরফান খান অভিনীত, মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী পরিচালিত ”ডুব” সিনেমা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ”ডুব” সিনেমা মুক্তি নিয়েও কম জল ঘোলা হয়নি। হয়ত পহেলা বৈশাখে ”ডুব” মুক্তি পাবে বলেই আমার ধারনা।

হুমায়ুন আহমেদের জীবনী নিয়ে এই মুভিটি তৈরি কিনা তা নিয়ে অনেক সংশয় তৈরী হয়েছে। হুমায়ুন পত্নী শাওন দাবী করেছেন, ”ডুব” মুভিটি হুমায়ুন আহমেদের জীবনী নিয়েই তৈরী। এবং এর পিছনে পিছনে যথেষ্ট কারন আছে বলেও তিনি দাবী করেন। আনন্দবাজার পত্রিকার মাধ্যমে ফারুকীর ইন্টারভিউতে তিনি বলেছিলেন, এটা হুমায়ুন আহমেদের জীবনের উপর নির্মিত, এমনকি এই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পার্ণো মিত্রও ফেসবুকের মাধ্যমে জানান যে তিনি শাওনের চরিত্রে অভিনয় করছেন।

এই খবর শোনার পরপরেই শাওন দাবী করলেন, হুমায়ুন আহমেদের জীবনী নিয়ে সিনেমা তৈরী করা হলে, তার পরিবারের সাথে কথা বলার প্রয়োজন কেন সিনেমার পরিচালক মনে করলেন না? একবার অন্তত অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, ভদ্রতার খাতিরে হলেও।

তার পরপরেই ফারুকীর কথার সুর পালটে যায়। উনি বলেন, এই সিনেমার চরিত্র সব কাল্পনিক। কারো সাথে সিনেমার কাহিনী মিলে গেলে সেটা কাকতালীয় মাত্র। বেশি বয়সী নায়কের সাথে কম বয়সী মেয়ের প্রেমের গল্প এটা নতুন নয়। কিন্তু যেখানে গল্পের কাহিনীতে মেয়ের বান্ধবীর সাথে প্রেমের গল্প সেখানে হুমায়ুন আহমেদের জীবনী আমরা যারা জানি, সেটা কাকতালীয় কি?

আমি কারো পক্ষে নই, আবার বিপক্ষেও নই।

যদি আসলেই সিনেমার গল্প হুমায়ুন আহমেদের জীবনীর অনুকরনে হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তার বর্তমান পরিবারের অনুমতি অথবা তাদের সাথে কথা বলা জনাব ফারুকীর উচিৎ ছিল। হয়ত বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়া কারো জীবনীর উপর সিনেমা বানাতে অনুমতির প্রয়োজন হয়না, তবুও ভদ্রতার খাতিরে এটুকু উনি করতেই পারতেন। সত্য স্বীকার করতে এত ভয় কেন একজন স্বনামধন্য পরিচালকের? আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্টারের বক্তব্য, অভিনেত্রীর স্বীকারোক্তি, সিনেমার গল্পের কাহিনীর সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে, তাতে এটা হুমায়ুন আহমেদের জীবনী নিয়ে তৈরি এটা সন্দেহ করাই যায়। যদি সিনেমা মুক্তির পরে এই সন্দেহ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে জনাব ফারুকীর বক্তব্য কি হবে? নাকি এই সবই সিনেমা হিট করার জন্য ” নেগেটিভ মার্কেটিং” ?

এবার আসি শাওনের ব্যাপারে। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে শাওনকে পছন্দ করিনা। যিনি নিজের বান্ধবীর বাবার সাথে প্রেম করে বিয়ে করতে পারেন, একটি সাজানো সংসারে ভাঙ্গন ধরাতে পারেন আমি তাকে আর যাই হোক একজন সৎ মানুষ বলতে পারিনা। হুমায়ুন সাহেবের সমস্ত সাহিত্যকর্মের পরেও এই দ্বিতীয় বিয়ে তার জন্য একটি কালিমা হয়েই আছে। শাওন যে শুধুমাত্র হুমায়ুন আহমেদের খ্যাতি অথবা তার অর্থের জন্যেই যে তাকে বিয়ে করেনি তার গ্যারান্টি কি? হুমায়ুন আহমেদ মারা যাওয়ার পরে শাওন হুমায়ুন আহমেদকে নিজের সম্পত্তি মনে করে নিয়েছেন। হুমায়ুন আহমেদ এবং তার সাহিত্যকর্ম সারা বাংলাদেশের, উনি কারো সম্পত্তি নন যে তাকে নিয়ে কিছু করতে হলেই শাওনের অনুমতি নিতেই হবে। তার মেয়ে আছেন এছাড়াও তার অনেক আত্মীয়স্বজনও আছেন। শাওন অবশ্যই হুমায়ুন আহমেদের একমাত্র আত্মীয় নন। হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যুর পর তার লাশ নিয়ে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসার সময় উনি ফার্স্ট ক্লাস ছাড়া যাবেন না বলেও গোঁয়ার্তুমি করেছেন এমন কথাও শোনা গিয়েছে। সে যাই হোক, হাজার হোক শাওন হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী কিন্তু তাই বলে একজন মৃত ব্যাক্তিকে নিয়ে ব্যাবসা করাটাও কোন স্ত্রীর পক্ষে শোভা পায়না। এগুলো একজন হুমায়ুন ভক্ত হিসেবে আমার ব্যাক্তিগত মতামত।

এই সেই বিখ্যাত ভিডিও
এখন আসি বান্টি মীরের কথায়, তিনি কালকে একটি লাইভ ভিডিও করলেন যেখানে শাওন ও তার মাকে নিয়ে যাচ্ছেতাই গালাগালি, তাদেরকে মারার হুমকি এবং অনেক কুরুচিপূর্ণ কথা বললেন। এই ব্যাক্তি বাংলাদেশে ট্রাফিক ব্যাবস্থা নিয়ে কিছু ভিডিও করার পর তার অনেক ভক্ত হয় এবং উনি কিছুদিনেই খুব জনপ্রিয় হয়ে যান। উনি সারাদিন ”আল্লাহু আকবর”, এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথা বললেও ওনার কাজ কর্মে ইসলামের কিছুই প্রকাশ পায়না। উনি বাংলাদেশে থাকতে আঁখি আলমগীরের সাথে উদ্দাম নৃত্য করেন, মেয়েদের সাথে সেলফি তোলেন, হিন্দি উর্দু প্রেমের গান করেন, ডিস্কোতে নিয়ে নাচ গান করেন আবার একই সাথে সবাইকে ইসলাম ফলো করার অনুরোধ করে থাকেন। যেটা আমার দৃষ্টিতে হিপোক্রিসি। ওনাকে কেউ এই নিয়ে প্রশ্ন করলেই, উনি খেপে যান। আমেরিকার নির্বাচনে হিলারীর জন্য ক্যাম্পেইন করার পরে যখন ট্রাম্প জিতে গেল, উনি সাথে সাথে পল্টি মেরে ট্রাম্পকে ভালবেসে ফেললেন। মুখে ইসলামের কথা বললেও কমেন্ট সেকশনে ওনার গালাগালি চোখে পরার মত। ওনার বিরুদ্ধে কমেন্ট করলেই উনি মুখের ভাষা খারাপ করে ফেলেন। এছাড়াও অনেক অপ্রয়োজনীয় লাইভ ভিডিও যেমন কাপড় ধোয়া, রাস্তায় হাটতে হাটতে চিৎকার চেঁচামেচি করা এই সব করে ওনার ফ্যান ফলোয়িং দিন দিন কমতে থাকে। সবাই ভাবতো এই লোক মানসিক প্রতিবন্ধী তাই তেমন একটা গুরুত্ব দিত না। কিন্তু যখন অতিরিক্ত খ্যাতির আশায় উত্তেজনার বশে শাওন এবং তার মাকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য গালাগালি এবং মারার হুমকি দেন, তখন এটা বোঝাই যায় যে ওনার এই ভিডিও উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং কারো ইন্ধনে উনি এই কাজ করেছেন। শাওন ইতিমধ্যে বান্টি মীরের নামে থানায় জিডি করেছেন নিরাপত্তার হুমকির কারনে। এখন বান্টি মীর কিভাবে এই খ্যাতির বিড়ম্বনা সামাল দেন, সেটাই দেখার বিষয়।

আমিও চাই, ”ডুব” মুক্তি পাক। কিন্তু এই মুভিকে কেন্দ্র করে যেই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে তাতে ফারুকী সাহেবের ক্ষতি নয় বরং লাভই হয়েছে। পজিটিভ মার্কেটিং না হোক নেগেটিভ মার্কেটিং বা খারাপ কিসে।

আশা করি এই মুভি আর যাই হোক, আরেকটা ”পিপড়াবিদ্যা” যেন না হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 2 =