পাথুরে শিবলিঙ্গের উপর দুধ, ঘি, মধু, দই, ডাবের জল ঢেলে মেয়েগুলো কি উপকৃতই বা হচ্ছেন?

আজ শুক্রবার বন্ধের দিন ছিল। বন্ধ থাকলেও আজাইরা বসে থাকার জো নেই। এই বন্ধের দিন শেভ করা হয় আমার। সময় পায় এই একটা দিন। এরপর পুরো সপ্তাহের ব্যবহৃত নিজের কাপড়গুলো পরিস্কার করে ছাদে শুকাতে দিলাম। ফেসবুক আর ব্লগে গিয়ে আজকের কি কি লেখা পোস্ট হল তা পড়লাম। এরপর স্নান সেরে মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে ছোট্ট একটা ঘুম দিলাম। তখন বিকেল সাড়ে চারটা। প্যান্ট-শার্ট পড়ে পরিপাটি হয়ে বের হলাম হাঁটার উদ্দেশে। এই প্রতিটি শুক্রবার একটি দিন আমি বিকেলে ৩-৪ ঘন্টা হাঁটি। বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে দেখি পানের দোকানের সামনে গোল গোল কচি ডাব! লম্বা ডাব আমি খায়না। লম্বা ডাবে পানি কম। তাছাড়া লম্বা ডাবে নরম নারকেল বাঁধানোর সম্ভবনা বেশি থাকে। তো যা বলছিলাম, পানের দোকানের সামনে কচি কচি ডাব দেখে লোভ সামলাইতে পারলাম না! পানের দোকানের মালিকের নাম রাম (ছদ্দনাম) বাবু। তো ডাবের দিকে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তাকিয়ে, রামবাবুকে জিজ্ঞাসা করলাম,-দাদা এগুলোর দাম কত?
রামবাবু বলল, -৪৫ টাকা!
আমি বললাম, -দাদা এগুলি তো অন্যদিন ৩০ টাকায় বিক্রি হয়।
রামবাবু মুচকি হাসি দিয়ে বলল, আজ শিবরাত্রি না?
-হুম। যে ডাবটি সবচেয়ে গোল, সে ডাবটি দেখিয়ে রামবাবুকে বললাম, এটা দেন।
রামবাবু আমাকে ডাবের বটুটি ছিঁড়ে আমার হাতে দিয়ে দিলেন। আমি বললাম, -এটা কেটে দেন।
রামবাবু ইষৎ আশ্চর্য হয়ে বললেন, এটা নিয়ে যাবেন না?
-না। এটা খাব।
-অপ্রিয় দা আপনি শিবরাত্রির উপবাস থাকেননি?
-না, আমি উপবাস থাকিনা। মনে মনে কইলাম, এতো সুন্দর কচি ডাবের পানি না খেয়ে পাথরের শিবলিঙ্গের উপর ডালুম! আমারে বোকা পাইছো!

রামবাবু মুচকি হাসি ঝুলিয়ে রেখে ডাবটি কেটে দিলেন। আমার মনে হয় ডাবের মধ্যে না হইলেও আড়াই গ্লাস পানি হবে। খেয়ে তৃপ্তি পেলাম। এতো ভালো ডাবের পানি কেউ পাথরের শিবলিঙ্গের উপর ঢেলে দিয়ে নষ্ট করে? যাদের প্রস্রাবে জ্বালা করে, এই ডাব খাইলে আমার মনে হয় প্রস্রাবের জ্বালা নিমেষেই মিটে যাবে। ডাবের পানি খাইলে শরীরে একটা ঠান্ডা আরাম অনুভূতি হয়। এই অনুভূতি কি রকম তা ব্যাখা করে বুঝানো সম্ভব নয়। আমি বুঝি না পাথুরে শিবের লিঙ্গ ধৌত করতে কেন এসব পুষ্টিকর তরল জাতীয় খাবারে প্রয়োজন হয়? দুধ, ঘি, মধু, দই, ডাবের জল, এগুলি মানুষের শরীরের জন্য খুবই পুষ্টিকর।

আজ থেকে দেড় যুগ আগেকার সময়ে জনশ্রুতিতে শুনেছি, হিন্দু মেয়েরা ভক্তিভরে শিবলিঙ্গ স্নান করালে নাকি শিবের মতো একটা শক্ত সামর্থ সুঠাম দেহের বর পায়। তারচেয়ে বড় কথা শিবের মতো সক্ষম একটা ইয়ে….. পায়। আমি আজ থেকে দশ পনেরো বছর আগেও মা- জেটিমাদেরকে নিয়ে সীতাকুণ্ড মেলায় গিয়েছিলাম। সেখানে পাহাড় বেয়ে চন্দ্রনাথ মন্দিরে উঠে দেখেছি, কতো ইয়াং ইয়াং অবিবাহিত সুন্দরি ভার্সিটি পড়ুয়া তরুনিরা খুব ভক্তি করে, অনেকটা শৈল্পিক কায়দা পাথরের শিবলিঙ্গের স্নান করাতে। শিবলিঙ্গ স্নান করিয়ে মানুষের ভীড় ঠেলে বেড়িয়ে আসতে আসতে তাদের মুখে দেখেছি কতো সুন্দর তৃপ্তির হাসি! যেন বিশ্বজয় করে সফল করা হাসি! আহা সেই কি গালে টোল পড়া হাসি…..

মন্তব্যঃ -এখন আমার ত্রিশ বছর বয়স। অল্প স্বল্প বুঝি। যা বুঝতে চাই, যুক্তি দিয়েই বুঝতে চাই। যা চিন্তা করতে চাই, তা যুক্তির সমীকরন দিয়েই করার চেষ্টা করি। এই যে হিন্দু মেয়েরা শিব চতুর্দশী উপলক্ষে দেড়-দুদিন উপবাস থেকে, পরে মন্দিরে গিয়ে শিবলিঙ্গের স্নান করাচ্ছেন একটা শিবের মতো সুঠাম দেহের পাত্র পাবার জন্য তাই না? তাছাড়া শিবের মতো একটা….. না থাক বলব না। লজ্জা লাগে! তারা শিবের মতো বর পাওয়ার আশায় যেসব পুষ্টিকর দুধ, ঘি, মধু, দই, ডাবের জল দিয়ে একটা নিথর নির্জীব পাথুরে লিঙ্গের উপর ঢেলে অপচয় করে, তারচেয়ে বরঞ্চ তারা তো এসব পুষ্টিকর খাবার তাদের …….সঙ্গীদের খুব ভালবেসে খাওয়াতে পারে। তাছাড়া এগুলি নর-নারী দুজন মানুষের জৈবিক ক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। এই সহজ চিন্তাটা যদি মেয়েগুলো করতে পারত, তাহলে তারা পাথরের শিবলিঙ্গ স্নান করানোর জন্য এতোটা নিমগ্ন হতো না। তারা তাদের শরীর-প্রিয়জনদের দুধ, ঘি, মধু, দই, (তার সাথে প্রতিদিন একটু ব্যায়াম করার কথা বলে) ডাবের জল খাইয়ে কাল্পনিক শিবের মতো একেকজনকে শক্ত সামর্থ সুঠাম শরীরের অধিকারী করে তুলতে পারত। এখানে তাদের খুব কাতর বিহ্বল হয়ে পাথুরে শিবলিঙ্গের কাছে মাথা ঠুকে ঠুকে পড়ে থাকার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। তাছাড়া
পাথুরে শিবলিঙ্গের উপর দুধ, ঘি, মধু, দই, ডাবের জল ঢেলে মেয়েগুলো কি উপকৃতই বা হচ্ছেন?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 4 =