ছায়া শিক্ষার নামে কোচিং বাণিজ্য!

ছায়া শিক্ষার নামে কোচিং বাণিজ্য

আমাদের দেশে এখন চলতেছে কোচিং নামক একটি ঘূর্ণিঝড়, যা ধীরে ধীরে আরও প্রবল রূপ লাভ করছে। বর্তমান সময়ের কথা বললে, আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি অনেক ভালো। কেননা আমরা “সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি”র মাঝে আছি। যার অর্থ হলো আমরা সব কিছু করবো নিজেদের সৃজনশীলতায়। তবে বাস্তবতা অনেকটা ভিন্ন!
দায়িত্ব আসলে কার? মূলত দায়িত্ব কার, এমন একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। আমাদের পরিবারগুলো মূলত ভাবে যে, একটা শিশুর শিক্ষার এবং তাকে সুনাগরিক গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষকের!  তবে একজন শিশুকে সুশিক্ষিত এবং সুনাগরিক হিসেবে গোড়ে তোলার জন্য তাদের দায়িত্বকে এইভাবেই ধামাচাপা দিচ্ছেন। তবে আমাদের পরিবারগুলোকে এটা বুঝতে হবে যে, এ দায়িত্ব শুধু শিক্ষকদের না, পরিবারেরও। তাই আমরা অভিভাবকগণ যদি আমাদের তরফ থেকে সবচেয়ে ভালোটা দেওয়ার চেষ্টা করি তবে আমাদের সুশিক্ষিত এবং সুনাগরিক করে তোলার জন্য আমাদের অভিভাবকদের খুব একটা ভাবার প্রয়োজন হবে না। তবে এই সুশিক্ষিত এবং সুনাগরিক গড়ে তোলার জন্য কিন্তু রাষ্ট্রেরও ভূমিকা ব্যাপক।
এখন চলে আসা যাক স্কুলের বিষয়ে।
“আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি”, 
“চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস আমার প্রাণে”
এটি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত।  তবে এখানে একটা প্রশ্ন উঠে যে, কত জন এ গানটি গাওয়ার সময় অনুভব করে গায়? উত্তর যথাসম্ভ হবে, কেউ না।তবে কেন?
মূলত আমরা এখন চলে যাচ্ছি সেই মুখস্থময় পরিবেশে। ভালো করে বললে বলা যায় যে, আমােদর বিদ্যালয়গুলো আমাদের ঠেলে দিচ্ছে সে মুখস্থের দিকে। যার করণে আমরা আমাদের লক্ষ অর্থ্যাৎ “সৃজনশীলতা শিক্ষা কাঠামো” থেকে সরে যাচ্ছি এবং আশ্রয় নিচ্ছি “মুখস্থ শিক্ষা কাঠামো” তে। যা আমাদের অতীতে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কিছু না।
এখন আসা যাক কোচিং প্রসঙ্গে। ব্যাঙের ছাতা মূলত হার মেনে যাবে আমাদের কোচিংগুলোর কাছে। কেননা ব্যাঙেরর ছাতার চেয়েও দ্রুত বেগে বেড়ে চলছে কোচিং সেন্টার! এখন প্রশ্ন হলো, কেন এই কোচিং বাণিজ্য বাড়ছে?
১। আমাদের দেশে বর্তমানে চাকুরির নামে পড়েছে খরা। অর্থ্যাৎ দেশে সিংহভাগ শিক্ষিত মানুষ এখন বেকার।  আর এ বেকারত্ব হলো এই কোচিং বাণিজ্যের একটি প্রধান কারণ। কেননা এই কোচিং বাণিজ্যের মোটা অংকের টাকা খুব ভালো করেই একজন বেকারকে কর্মমুখী করে তুলতে পারে।

২। আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে কিভাবে পড়ানো হয় তা আমরা জানি। তবে ধরা যাক, একটা কক্ষের ৩০ জন আছে, স্যার কোন একটা বিষয়ের উপর আলোচনা করছেন। এখন দেখা যাচ্ছে এই ৩০ জনের মধ্যে ২৮ জন খুব ভালো বুঝল, তবে বাকি ২ দুইজন কিছুই বোঝে না। আর এই না বোঝার ক্ষোভ থেকেই শুরু হয় কোচিং মুখী হওয়ার প্রবণতা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

36 − 30 =