তিস্তা – সাবমেরিন – ক্রিকেট !!

[•] তিস্তার সুপেয় স্বচ্ছ জলকে ঘোলা কম করে নি এবং এখনও করে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় রাজনীতিক মমতা বন্দোপাধ্যায় (মমতা ব্যানার্জি)। বাংলাদেশের সাথে আন্তর্জাতিক নদীসমূহের জল বন্টন নিয়ে কোন একটি চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক আগেই ভারত এই মমতা ব্যানার্জিকে এমন ভাবে উপস্থাপন করে যে দেখে মনে হয় এই “মমতা ব্যানার্জি হল ভারত মাতা”। মমতার কথা ছাড়া ভারতে না হয় বৃষ্টি ,না হয় তুষারপাত,না হয় শীত কিংবা বসন্তের আগমন !! মোটকথা ভারত মাতা মমতা ব্যানার্জী ই আন্তর্জাতিক সকল চুক্তির জন্য ভারতকে সবুজ সংকেত দিলে পরেই ভারত ঐসব চুক্তিতে স্বাক্ষর করে নয়তো নয়। যদিও এই তৃনমূল মালকিনের দৌড় পশ্চিমবঙ্গের ভূ সীমানা পর্যন্তই ! এর বাইরে অবাঙালি ভারতীয় জনমানুষ কিংবা মিডিয়া এই মমতা ব্যানার্জিকে খুব একটা চেনে জানে বলে বা গুরুত্বপূর্ন রাজনৈতিক হিসেবে হাইলাইট করে বলে দেখিনি । অথচ, বাংলাদেশের সাথে চুক্তির ক্ষেত্রে ভারত অনেকটা ইচ্চাকৃতভাবেই জলবন্টন চুক্তি যেন স্বাক্ষরিত না করতে হয় ভারতকে সেজন্য মমতাকে বাহানা হিসেবে দাড়ঁ করায় ।

[•] বাংলাদেশ ভারতের সাথে আন্তর্জাতিক নীতি ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সম্পর্কে আবদ্ধ , ভারতের কোন প্রদেশের সাথে নয় । তেমনি ভারত দেশ হিসেবেই অন্য দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে , ভারতের কোন রাজ্য অবশ্যই ইন্ডিয়ান ইউনিয়নের বাইরে গিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অন্য কোন দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কে জড়াচ্ছে না । এটা সম্ভবও না । কারন, রাজ্য দেশের অঙ্গ মাত্র , দেশ কখনো রাজ্যের অঙ্গ হতে পারে না ।

[•] বাংলাদেশকে না জানিয়ে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মান চুপিসারে এগিয়ে নেয়া , অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক নদীসমূহের প্রাকৃতিক প্রবাহে বাধা দিয়ে জল ভারতের মূল ভূখন্ডের দিকে নালা কেটে নিয়ে যাওয়ার মত ধৃষ্টতা ভারত বাংলাদেশের সাথে দেখাতে পারলেও চীন ব্রহ্মপুত্রের উজানে বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য বাঁধ দিচ্ছে কেন এটা নিয়ে ভারত খুব সরব !! যদিও অনৈতিক ভারতীয় রাজনীতিকদের কোন নৈতিক বলই নেই যা থেকে চীনের বাঁধের ব্যপারে ভারতের আপত্তি খাটে !! কেননা , ভারত নিজেই তো এর চেয়ে বেশী জলচুরির দোষে দুষ্ট ।

[•] বাংলাদেশের বর্তমান যেসব রাজনীতিক/প্রশাসনের লোকজন ভারতের সাথে দরকষাকষি করছে তাদের সেইরকম কোন যোগ্যতা আছে কি না দরকষাকষি করার এবং দেশপ্রেম আছে কি না এটা নিয়ে আমার প্রশ্ন ও আপত্তি দুটোই আছে । কারন, দেশের কথা চিন্তা করলে, নিজ দেশের মানুষকে যদি রাজনীতিকরা সম্মানের চোখে দেখে তবে প্রশাসনের লোকজন অন্য দেশের সাথে আলোচনায় যে মোরাল বেনিফিট পায় তা দূর্নীতিবাজ রাজনীতিক এবং সচিব নামধারী বাটপারদের পক্ষে সম্ভব না । এদের দ্বারা বড়জোর চুরি করে ঐ চুরির টাকা দিয়ে টাই কোট কিনে গায়ে জড়িয়ে কেতাদুরস্ত হয়ে মিডিয়াতে মুখ দেখানো সম্ভব, বার্গেইন করে আলোচনার টেবিলে সফল হওয়া সম্ভব না । এদের বাস্তব অবস্থা পুরোটাই, উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট ।

[•] বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিকেরা চুক্তির মাধ্যমে জলের হিস্যা না পেলেও ভারতে ট্যুর করবেই করবে । ভারতও এইসব বাংলাদেশি মীরজাফর মুসলিম রাজনীতিকদের দুদিন দিল্লীর লাড্ডু খাইয়ে খালি হাতেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে কোন অস্বস্তি ছাড়াই । কারন ভারতের রাজনীতিকরা জানে কিভাবে, কারা কোন খাবারে তুষ্ট হয় । এই কারনেই তিস্তার জলও আসবে না আর রাধার নাচও দেখবে না বাংলাদেশের কেউ ।

[•] ২০১৬ এর নভেম্বরে চাইনীজ প্রেসিডেন্ট এর ঢাকা আগমন এবং ২৪ বিলিয়ন ডলার এর অর্থ সহায়তার পর ডিসেম্বরেই দুটো পুরানো চাইনীজ মিং ক্লাস সাবমেরিন বাংলাদেশের নৌবাহিনীর অধিকারে আসার পর ফেব্রুয়ারিতেই বাংলাদেশ গেছে গত ১৬ বছরের অপেক্ষা অসম্মান উপেক্ষা পেরিয়ে ভারতে মাত্র একটি টেষ্টের জন্য বিশাল এক সিরিজ খেলতে !! সাবমেরিনেরও জাদুটোনা করার ক্ষমতা আছে বলতে হবে !!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 3 =