রসুলাল্লাহর ভবিষ্যদ্বাণী “তোমরা সংখ্যায় হবে অগণিত”

উম্মাহর ভবিষ্যত সম্বন্ধে বোলতে যেয়ে রসুলাল্লাহ (দ:) একদিন বোললেন-“শীঘ্রই এমন দিন আসছে যে অন্যান্য জাতিসমূহ এই উম্মাহর বিরুদ্ধে একে অপরকে ডাকবে যেমন কোরে (খানা পরিবেশন করার পর) একে অন্য সবাইকে খেতে ডাকে।” তাকে প্রশ্ন করা হলো “আমরা কি তখন সংখ্যায় এত নগণ্য থাকবো?” তিনি বোললেন, “না, তখন তোমরা সংখ্যায় অগণিত হবে, কিন্তু হবে স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মত। আল্লাহ তোমাদের শত্রুর মন থেকে তোমাদের সম্পর্কে ভয়-ভীতি উঠিয়ে নেবেন এবং তোমাদের হৃদয়ের মধ্যে দুর্বলতা নিক্ষেপ কোরবেন।” কেউ প্রশ্ন কোরলেন, “ইয়া রসুলাল্লাহ! এই দুর্বলতার কারণ কি হবে?” তিনি জবাব দিলেন, “দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও মৃত্যুর প্রতি অনীহা (হাদীস- সাওবান (রা:) থেকে আবু দাউদ মেশকাত)। সমস্ত মানবজীবন থেকে সকল প্রকার অন্যায় অশান্তি অবিচার দূর কোরে ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মহান আল্লাহ আখেরী নবীকে প্রেরণ কোরেছেন। মহানবী সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আল্লাহর তওহীদের বালাগ আরম্ভ কোরলেন সেই বালাগের শুরুতেই প্রচণ্ড বিরোধিতা, বাধা, আঘাত, প্রতিরোধ ইত্যাদি আসতে লাগলো কিন্তু সকল প্রতিরোধ সত্ত্বেও অবিচল ও নিষ্ঠার সঙ্গে মহানবী মক্কায় আল্লাহর দেওয়া দায়িত্ব পালন কোরে যেতে লাগলেন। এই সময়ে তাঁর ডাকে যারা সাড়া দিয়ে ঈমান এনে তাঁর আন্দোলনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হোয়েছিলেন, তাঁদের উপরও একইভাবে নির্যাতন নিপীড়ন শুরু হোল। তবুও তাঁরা পিছপা হোলেন না। রসুলাল্লাহকে নেতা হিসাবে মেনে নিয়ে তাঁর হুকুম মোতাবেক তাঁরা সংগ্রাম চালিয়ে যেতে লাগলেন। আবু বকর (রা:) এসলাম গ্রহণ কোরেই রসুলাল্লাহকে জিজ্ঞেস কোরলেন, ‘ইয়া রসুলাল্লাহ! আমার কাজ কি?’ রসুলাল্লাহ জবাব দিলেন, ‘আমার যে কাজ, তোমারও সেই কাজ।’ কোন সন্দেহ নেই যে যদি প্রত্যেকটি মানুষ-যারা ঈমান এনে মহানবীর (দ:) হাতে মোসলেম হোয়েছিলেন তারা আবু বকরের (রা:) মত- যদি ঐ প্রশ্ন কোরতেন তবে তিনি (দ:) প্রত্যেককেই ঐ জবাব দিতেন। “আমার যে কাজ” বোলতে তিনি কী বুঝিয়েছিলেন? তাঁর (দ:) কী কাজ ছিলো? তাঁর কাজ তো মাত্র একটা, যে কাজ আল্লাহ তাঁর উপর অর্পণ কোরেছেন। সেটা হলো সমস্ত রকমের জীবনব্যবস্থা ‘দীন’ এর উপরে এসলামকে বিজয়ী করা (তওবা, ৩৩, ফাতাহ ২৮, সফ ৯)। ইতিহাসে পাচ্ছি, শেষ-এসলামকে গ্রহণ করার দিনটি থেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্য্যন্ত আবু বকরের (রা:) কাজ একটাই হোয়ে গিয়েছিলো। সেটা ছিলো মহানবীর (দ:) সংগ্রামে তাঁর সাথে থেকে তাঁকে সাহায্য করা। শুধু আবু বকর নয়, যে বা যারা নবীকে (দ:) বিশ্বাস কোরে মোসলেম হোয়েছেন সেই মুহূর্ত্ত থেকে মৃত্যু পর্য্যন্ত তিনি বা তারা বিশ্বনবীকে (দ:) তাঁর ঐ সংগ্রামে সাহায্য কোরে গেছেন, তাঁর সুন্নাহ পালন কোরে গেছেন। আর কেমন সে সাহায্য! স্ত্রী-পুত্র-পরিবার ত্যাগ কোরে, বাড়ী-ঘর, সম্পত্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য ত্যাগ কোরে, অর্দ্ধাহারে-অনাহারে থেকে, নির্মম অত্যাচার সহ্য কোরে, অভিযানে বের হোয়ে গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে এবং শেষ পর্য্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন বিসর্জন দিয়ে। এই হলো তার উম্মাহ, উম্মতে মোহাম্মদী, তাঁর প্রকৃত সুন্নাহ পালনকারী জাতি।

এই উম্মাহর কয়েকটি জাতীয় বৈশিষ্ট্য ছিল। এইগুলিকে বলা হয় জাতীয় চরিত্র (National Character) তাঁদের কেউ ফর্সা, কেউ কালো, কেউ লম্বা, কেউ খাটো, কেউ শিক্ষিত, কেউ নিরক্ষর ছিলেন। কিন্তু জাতীয় চরিত্র ছিল এক এবং অভিন্ন। তাদের সর্বপ্রধান জাতীয় চরিত্র হোল: তাঁরা প্রত্যেকে ছিলেন মৃত্যুভয়হীন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা। তাদের প্রত্যেকেরই জীবনের উদ্দেশ্য ছিল এই জীবনটা কিভাবে আল্লাহর রাস্তায় দেওয়া যায়। বহু বিখ্যাত গবেষক অনেক গবেষণা কোরে দেখার চেষ্টা কোরেছেন যে, চরম অবজ্ঞাত, উপেক্ষিত, জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বংশপরম্পরায় কলহে লিপ্ত, ক্ষুধার্ত, অস্ত্রহীন এমন একটি জাতি কী কোরে আরবের ঐ মরু প্রান্তর থেকে বেরিয়ে দুটো পরাশক্তি, হাজার বছরের প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্য রোমান ও পারস্যকে একই সঙ্গে ধ্বংস কোরে দিয়ে টর্নেডোর ক্ষিপ্রতায় কয়েক বছরের মধ্যে অর্ধ পৃথিবীতে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা কোরল। পৃথিবীর যত বড় শক্তিশালী সেনাবাহিনীই তাদের সামনে দাঁড়িয়েছে, ঝড়ের মুখে শুকনো খড়কুটোর মত উড়ে গিয়েছে। এদের এই অবিশ্বাস্য সামরিক বিজয়ের পেছনে কারণ কি?

পৃথিবীখ্যাত প্রিন্সটান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মেরিটাস বিখ্যাত ইতিহাসবিদ মিঃ ফিলিপ হিট্টি তার বই ঞযব অৎধনং এ মোসলেম জাতির, উম্মতে মোহাম্মদীর অবিশ্বাস্য সামরিক বিজয়ের যে কারণগুলি উল্লেখ কোরেছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে তিনি লিখেছেন মোসলেমদের মৃতুভয়হীনতা। ইংরাজিতে তিনি শব্দ ব্যবহার কোরেছেন Utter contempt of death আক্ষরিক শব্দার্থে মৃত্যুর প্রতি চরম অবজ্ঞা (The Arabs- P.K. Hitti, Gateaway Edition, Chicago, P-35, 58.)| এবং তিনি একথাও ঐ সঙ্গে লিখেছেন যে ঐ মৃত্যুভয়হীনতা মৃত্যুর প্রতি ঐ চরম অবজ্ঞা ঐ জাতির মধ্যে সৃষ্টি কোরেছিলো তাদের বিশ্বাস অর্থাৎ এসলাম।

বিশ্বনবী (দ:) যে এসলাম মানব জাতির জন্য রেখে গেছেন সেই এসলাম আর বর্ত্তমানে যে এসলাম চালু আছে তা দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন, বিপরীতমুখী দীন, ধর্ম। রসুলাল্লাহর (দ:) এসলাম তার উম্মতের মধ্যে সৃষ্টি কোরেছিলো মৃত্যুর প্রতি চরমতম অবজ্ঞা, শাহাদাতের জন্য উদগ্র পিপাসা। এই জেহাদের ময়দান থেকে কেউ শহীদ না হোয়ে গাজী হিসাবে ফেরত আসলেও তার আফসোসের অন্ত থাকতো না। মু’তার যুদ্ধে যখন একে একে তিনজন সেনাপতি শহীদ হোয়ে গেলেন, মোসলেম বাহিনীকে চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা কোরে খালেদ (রা:) বাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং অপূর্ব রণকৌশলের দ্বারা প্রতিপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে অবশিষ্ট মোসলেম বাহিনীকে নিয়ে মদীনায় ফিরে আসেন। তাদের এই ফিরে আসাকে জাতি কিভাবে গ্রহণ কোরেছিল তা ইতিহাস। ঐ বাহিনীর অনেকেই পরাজয়ের অপমান ও গ্লানি নিয়ে কিভাবে রসুলের সামনে গিয়ে দাঁড়াবেন এই দুঃশ্চিন্তায় আর মদীনাতেই আসলেন না, অন্যত্র চোলে গেলেন। যারা আসলেন তাদেরকে তাদের স্ত্রীরা ঘরে জায়গা দিলেন না- বোললেন, জেহাদের মাঠ থেকে পালিয়ে এসেছো, আমাদের বিছানায় তোমাদের জায়গা নেই। তাদেরকে যেই যেখানে পেল, ইয়া ফুররার- ওহে পলাতক বোলে ধিক্কার দিতে লাগলো। মহাবীর খালেদ (রা:) যে বাহিনীকে নিশ্চিহ্ন হোয়ে যাওয়ার হাত থেকে অপূর্ব রণকৌশলের মাধ্যমে উদ্ধার কোরে আনলেন তার সেই দক্ষতার কোন মূল্যায়ন তো হোলই না, তিনিও ‘পলাতক’ হিসাবে ধিকৃত হোতে লাগলেন। অবশেষে আল্লাহর রসুল যখন জাতিকে আশ্বস্ত কোরলেন এই বোলে যে, মুতা থেকে যারা ফিরেছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তীতে আল্লাহর তলোয়ারদের অন্যতম হবে- অর্থাৎ পরবর্তীতে জেহাদে তারা ভালো অবদান রাখবে। সুতরাং তাদেরকে গ্রহণ কোরে নাও। জেহাদ থেকে পলায়নকারীদের প্রতি জাতির এই মনোভাব থেকে বোঝা যায় জাতির মূল প্রেরণা কোথায়।

উম্মতে মোহাম্মদীর এই অভিন্ন জাতীয় চরিত্র কিভাবে সৃষ্টি হোল। এর প্রধান কারণ জাতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা। তা হোল এই যে, সারা দুনিয়াতে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তাদের জন্ম হোয়েছে। এই কাজ করার জন্য আল্লাহ যে পদ্ধতি ও নীতি দিলেন সেটা হোল- জীবন ও সম্পদ কোরবানী কোরে আল্লাহর রাস্তায় সর্বাত্মক সংগ্রাম, জেহাদ। এই লক্ষ্য অর্জন কোরতে এমনি একটি দুর্দ্ধর্ষ জাতি গঠন কোরতে হবে বোলেই আল্লাহ এই জাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান ও সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার স্থির কোরলেন ঐ বিরাট ও মহান উদ্দেশ্য অর্জনে যারা সংগ্রামে প্রাণ কোরবানী কোরবেন তাদের জন্য। শত সহস্র পাপ গুনাহ কোরলেও তাদের হিসাব নেয়া হবে না, কোন প্রশ্ন করা হবে না, দেহ থেকে আত্মা বের হওয়ার সাথে সাথে তাদের সর্বোত্তম জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, পার্থিব মৃত্যুর পরও তাদেরকে জীবিত রাখা ইত্যাদি তাদের সম্মান ও পুরস্কার। আল্লাহর এই একটি মাত্র কাজ থেকেই এ কথা পরিষ্কার হোয়ে যায় যে, এই দীনের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি। এজন্যই জাতিটি ছিল শাহাদাতের জন্য পিপাসার্ত।

এমন একটি দুর্ধর্ষ জাতি তৈরীর পেছনে আরও একটি কারণ আল্লাহর ঘোষিত জেহাদের নীতি। এসলাম যেহেতু পরিপূর্ণ, এসলামের কেতাল বা জেহাদ কিভাবে কোরতে হবে তারও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা আল্লাহ দিয়েছেন।

জেহাদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত সেই নীতি কি?

সেই নীতি হোচ্ছে: আল্লাহর সৈন্যরা পলায়ন কোরতে পারবেন না, পৃষ্ঠ প্রর্দশন কোরতে পারবেন না, পৃষ্ঠ প্রর্দশন কোরলে আল্লাহর গজব এবং জাহান্নাম তাদের জন্য নির্দ্ধারিত হোয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, “হে মো’মেনগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে মুখোমুখী হবে, তখন পশ্চাদপসরণ করবে না। আর যে লোক সেদিন তাদের থেকে পশ্চাদপসরণ করবে, অবশ্য যে লড়াইয়ের কৌশল হিসাবে কিংবা যে নিজ সৈন্যদের নিকট আশ্রয় নিতে আসে সে ব্যতীত অন্যরা আল্লাহর গযব সাথে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। আর তার ঠিকানা হল জাহান্নাম। বস্তুতঃ সেটা হল নিকৃষ্ট অবস্থান (সূরা আনফাল ১৫-১৬)।

মো’মেনরা যদি এই নীতি অনুসরণ করেন, তখন তাদের প্রতি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি হচ্ছে: যদি কাফেররা তোমাদের মোকাবেলা করত, তবে অবশ্যই তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করত। তখন তারা কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পেত না। এটাই আল্লাহর রীতি, যা পূর্ব থেকে চালু আছে। তুমি আল্লাহর রীতিতে কোন পরিবর্তন পাবে না (সূরা ফাতাহ ২২-২৩)। সুতরাং তারা বিজয়ী হবে এটা আল্লাহর ওয়াদা। এর কোন ব্যতিক্রম হোলে বুঝতে হবে ঐ জাতি মোমেন নয় বোলেই আল্লাহ তাদের অভিভাবকত্ব ত্যাগ কোরেছেন। কাফেরদের মোকাবেলায় মো’মেনরা পরাজিত হবে, পলায়ন কোরবে, পৃষ্ঠ প্রদর্শন কোরবে এটা হোতেই পারে না। যদি পরাজিত হয়, পলায়ন করে তবে বুঝতে হবে তারা আর মো’মেন নেই।

উপরোক্ত হাদীসের আরেকটি জিনিস লক্ষণীয়, তাহোল আল্লাহর রসুল (দ:) যখন বোললেন- এমন সময় আসবে যে, এই জাতি পৃথিবীর সব জাতিদের দ্বারা অপমানিত, লান্ছিত, পরাজিত হবে, তখন উপস্থিত সাহাবাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রশ্ন কোরলেন- হে আল্লাহর রসুল! তখন কি পৃথিবীতে তারা এত অল্প সংখ্যাক হবে যে, অন্য জাতিগুলি তাদের পরাজিত ও লান্ছিত কোরবে? মহানবী (দ:) তার জবাব দিলেন- না, সংখ্যায় তারা অসংখ্য হবে। জবাব শুনে আসহাব নিশ্চয়ই অত্যন্ত বিস্মিত হোয়েছিলেন। বিস্মিত হবার কথাই। কারণ তখন ঐ ছোট্ট উম্মাটার ঈমান ইস্পাতের মত, আকীদা সম্পূর্ণ ও সঠিক, উদ্দেশ্য পরিষ্কার, উদ্দেশ্য অর্জন করার প্রক্রিয়ায় দৃঢ়, ঐক্য লোহার মত, দুর্বলতা শুধু এই জায়গায়- সংখ্যাল্পতায়। তাই এর জবাবে তারা যখন শুনলেন যে, সেই একমাত্র দুর্বলতাই থাকবে না, সংখ্যায় ঐ উম্মাহ হবে অগণিত, তখন পরাজয় কি কোরে সম্ভব? বিশেষ কোরে যখন ঐ ছোট্ট উম্মাহ তাদের চেয়ে সংখ্যায় বহু বেশী, সুসজ্জিত, সুশিক্ষিত শত্রুদের বারবার পরাজিত কোরেছেন। তারা আবার মহানবীকে (দ:) প্রশ্ন কোরলেন- আমরা সংখ্যায় অসংখ্য হোলে পরাজিত কি কোরে সম্ভব? রসুল (দ:) জবাব দিলেন, একটা উপমা দিয়ে, বোললেন- মনে করো লক্ষ লক্ষ উট, কিন্তু উটগুলো এমন যে যেটার উপরই চড়ে বোসতে যাও ওটাই বসে পড়ে বা পড়ে যায়। ঐ অসংখ্যের মধ্যে এখানে ওখানে কিছু উট পাওয়া যাবে যেগুলোর পিঠে চড়া যাবে। বিশ্বনবীর (দ:) উপমাটা লক্ষ্য কোরুন- উট। উটের উদ্দেশ্য কি? উট দিয়ে কি কাজ হয়? উট হোচ্ছে বাহন, মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেইটাই যদি উট দিয়ে না তবে ঐ উট অর্থহীন- দেখতে অতি সুন্দর উট হোলেও এবং সংখ্যায় অসংখ্য হোলেও। শেষনবীর (দ:) সেই ভবিষ্যতবাণী বহু আগেই পূর্ণ হোয়েছে, সংখ্যায় অসংখ্য হওয়া সত্ত্বেও শত্রুর পদানত দাস হোয়েছে, অপমাণিত ও লান্ছিত হোয়েছে এবং হোচ্ছে। মহানবীর (দ:) বর্ণনা অনুযায়ী এরা দেখতে অতি সুন্দর উট, লম্বা কোর্ত্তা, পাগড়ী, লম্বা দাড়ী, ছেটে ফেলা মোচ, টাখনুর ওপরে ওঠা পাজামা, কাঁধে চেক রুমাল, দিনে পাঁচবার মসজিদে দৌড়াচ্ছেন, গোল হোয়ে বোসে চারিদিক প্রকম্পিত কোরে আল্লাহর যিকর কোরছেন, খানকায় বোসে মোরাকাবা, কাশফ কোরছেন- দেখতে একেবারে নিখুঁত উট। কিন্ত আসলে উট নয়, ওদের পিঠে চড়া যায় না, চড়লেই বসে পড়ে।

এরা লক্ষ লক্ষ লোক অত্যন্ত বিশৃঙ্খলভাবে, লক্ষহীনভাবে যদি কোন কারণে কোন দাবি আদায়ের জন্য এক জায়গায় জড় হয়ও এবং কিছুক্ষণ পর যদি কোন কারণে একটা গুজব বা হুজুগের সৃষ্টি হয় তখন দেখা যায় কেবল পালাতে গিয়েই তারা হাজারে হাজারে নিজেদের পায়ের নিচে পিষ্ঠ হোয়েই মারা যায়। একবার ইরাকের এক বিখ্যাত মাজারে এই মোসলেম জনসংখ্যার লক্ষ লক্ষ লোকে সমাগম হয়। হঠাৎ গুজব উঠলো যে, মাজারের ভেতরে বোমা আছে, যে কোন মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘোটবে। ব্যাস, আর যায় কোথায়! পাশের সংকীর্ণ ব্রীজের উপর দিয়ে পালাতে গিয়ে নদীতে পড়ে মরল কয়েক হাজার। এই দৃশ্য ওখানে নয়, বিশ্বের সর্বত্র একই দৃশ্য। তারা তাদের নিজস্ব মাদ্রাসা, মসজিদ, খানকা, মক্তবের ঘেরাটোপ থেকে জাতির চরম বিপর্যয়ের মুহূর্ত্তেও বের হন না। তবু কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হোলে কিংবা মানুষের চাপে বা কোন প্রলোভন বা হুজুগে পড়ে যদিও তারা কখনও তাদের গুহা বের হয়, তবে এই ঘটনার পরিণতি আপনি আগে থেকেই বোলে দিতে পারবেন। সেটা হোল- তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে। কারণ অমন বিশৃঙ্খল, নিজেরা নিজেরা শতদলে বিচ্ছিন্ন, ঐক্যহীন, ভীতু, কাপুরুষদের সঙ্গে অন্তত আল্লাহ থাকেন না। কাজেই তাদের উপরে আল্লাহর কোন সাহায্যও আসবে না। তাই কোন প্রতিরোধের মুখেই তারা দাঁড়াতে পারবে না, সামান্য বিপদের আঁচ পেলেই তাার পাগড়ির লেজ হাওয়ায় উড়িয়ে ইঁদুরের মত গর্তে লুকাবে, রসুলের ভাষায় বানের ঢলে আবর্জনার মত ভেসে চোলে যাবে। বাস্তবেও আমরা তাই দেখি, তারা তাদের ভাষায় জেহাদের মাঠে বোসে আসমানের দিকে দু’হাত তুলে অঝোর নয়নে হাউ মাউ কোরে কাঁদতে কাঁদতে তসবীহ, জায়নামাজ ভিজিয়ে ফেলেন। কী পরিহাস!

আজ জাতির কোন দুর্যোগ মুহূর্তে এরা যখন জাতিকে কোন উদ্দেশ্যের দিকে আহ্বান করেন, তাদের আহ্বানে আর কেউ সাড়া দেয় না। এই সাড়া না দেওয়ার মূলে যে কারণ তা এদেরই সৃষ্টি, তা হোল- সাধারণ মানুষকে তারা শত শত বছর ধোরে শিখিয়ে আসছেন যে, ‘আত্মার বিরুদ্ধে জেহাদই বড় জেহাদ, আর কাফেরের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া ছোট জেহাদ’ এবং ‘কে কাফের কে মোমেন এটা বলা যায় না’ এইরকম আরও অসংখ্য মতবাদের আফিম খাইয়ে জনগণকে বুঁদ কোরে রেখেছেন এবং অর্থের বিনিময়ে ক্ষমতাবানের যাবতীয় অপকর্মকে জায়েজ কোরে দিয়েছেন। সুতরাং যদি কোন বিশেষ মুহূর্তে এই আলেম ওলামারা যদি জাতিকে আহ্বান করেন ঐক্যবদ্ধ হোতে, জাতির সাধারণ মানুষ আর ছোট জেহাদে সাড়া দেয় না, ঘরের কোন থেকে বের হয় না। এই অন্তর্মুখীতার আফিম ধর্মজীবি আলেম সাহেবদের জন্য বুমেরাং হোয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা যে এসলাম মানুষকে শেখান তা জাতির মধ্যে সৃষ্টি কোরে মৃত্যুভয়, জঘন্য কাপুরুষতা, সমস্ত সংগ্রাম-সমস্ত সংঘর্ষ থেকে পলায়ন চরিত্র। আমাদের আলোচ্য হাদীসটিতে রসুলাল্লাহ তাঁর উম্মাহর ভবিষ্যত সম্বন্ধে বোলতে যেয়ে যখন বোললেন তার উম্মাহ শত্রুদের দ্বারা পরাজিত, লান্ছিত-অপমানিত হবে, তাদের গোলামে পরিণত হবে, তখন সাহাবারা প্রশ্ন কোরলেন, কি কারণে? বিশ্বনবী (দ:) জবাব দিয়েছিলেন তারা তখন মৃত্যুভয়ে ভীত হবে। অর্থাৎ রসুলাল্লাহর এসলাম শাহাদাতের জন্য পাগল-ভযংকর যোদ্ধা সৃষ্টি কোরত আর বর্ত্তমানের এসলাম মৃত্যুর ভয়ে ভীত কাপুরুষ সৃষ্টি করে। সুতরাং এ আল্লাহ-রসুলের এসলাম আর আলেম ওলামারা এসলাম বোলে যেটা আজ শেখাচ্ছেন এ দু’টি বিপরীতধর্মী দীন। (আগামী পর্বে সমাপ্য)Link

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৬ thoughts on “রসুলাল্লাহর ভবিষ্যদ্বাণী “তোমরা সংখ্যায় হবে অগণিত”

    1. কথিত শিক্ষিতদের এই এক দোষ!
      কথিত শিক্ষিতদের এই এক দোষ! বিষয়বস্তু সম্বন্ধে কথা না বোলে বানান নিয়ে কথা বোলেন। এই বানানই সঠিক। এ ব্যাপারে জানতে পারেন …….“এখানে” অন্য সময় বাঙলা বানানের সঠিক ব্যাখার লিং্ক দেওয়ার ইচ্ছা আছে।

      1. তাইলে বাংলা ভাষার তাবত
        তাইলে বাংলা ভাষার তাবত জ্ঞ্যানি গুণী লেখক সাহিত্যিক ভুল বানানে লেখে? ভালো তো… নতুন তথ্য পাইলাম। :মুগ্ধৈছি:

        1. বাংলা বানান কি আপনার মত
          বাংলা বানান কি আপনার মত ইসলামিস্ট থেকে শিখতে হবে? সকল প্রকার ধর্মীয় পোস্ট ইস্টিশন থেকে নিষিদ্ধ করার দাবী জানাচ্ছি। হেফাজত-জামায়াতের গত কিছুদিনের কাজকারবারে এসব ধর্মের উপর উপর থেকে মন বিষিয়ে গেছে। যে চ্যাটের বাল আমাদের প্রমিত বাংলা বানানরীতিকে ছুড়ে ফেলে দেয়, তাকে ইস্টিশনে দরকার নাই। ইস্টিশন মাস্টারের দৃষ্টি আকর্ষন করলাম।

          1. তাহলে এক কাজ করেন। ইষ্টিশন
            তাহলে এক কাজ করেন। ইষ্টিশন ব্লগটাকে পর্ণসাইট বানান। এখানে ইসলাম প্রবেশ নিষেধ। নিজেদের নামগুলো পাল্টিয়ে ফেলেন। ধ্বংস করে দিন মসজিদগুলো!

          2. ধর্ম নিয়ে কথা না বলা গেলে
            ধর্ম নিয়ে কথা না বলা গেলে সেটাকে পর্ণসাইট বানাতে হবে?
            পুরাই ধর্মান্ধ!

          3. ধর্মের দোষের কথা আমি
            ধর্মের দোষের কথা আমি বলিনি।
            আমি বলেছি ধর্ম না থাকলে সেটা একটা পর্ণসাইট ছাড়া আর কিছু হতে পারবে না?

      2. আপনার কমেন্ট এরও তো একগাদা
        আপনার কমেন্ট এরও তো একগাদা বানান ভুল ,। লল। মাইন্ড খাইলে চরি কইতে পারুম না, আমি নিতান্ত অভদ্র পোলা । আর হ্যাঁ ধর্মান্ধদের সাথে আমরা তর্ক করি না। কারন ধর্মান্ধ মানুষ গুলা নিজের ধর্মকেই বেশি অপমানিত করে অসাধারন সব খোঁড়া যুক্তির চাদরের তলে :ধইন্যাপাতা: 😛 @আতাহার হোসাইন

      3. ভাই আপনার স্কুলে ভর্তি হব।
        :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

        ভাই আপনার স্কুলে ভর্তি হব। আমাকে বানান শেখাবেন???

  1. অহেতুক কথা বলছেন আপনারা। আমার
    অহেতুক কথা বলছেন আপনারা। আমার পোষ্টের লেখার উপর মন্তব্য করুন। কোন অযুক্তিক কথা লেখা থাকলে বলুন। মূল সত্য এড়িয়ে বিতর্ক তৈরীর চেষ্টা করবেন না।

    1. আপনার লেখার উপরেই সবাই কথা
      আপনার লেখার উপরেই সবাই কথা বলতেছে। আপনার লেখায় মাদ্রাসার পাস করা মৌলভীদের মত অসংখ্য বানান ভুল। আপনি সেই বিষয়ে আগে কথা বলেন।

  2. দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতকালে
    দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতকালে কিছু পেইড মৌলভী গ্রামে গঞ্জে ওয়াজ মাহফিল করে টাকা পয়সা আদায় করে। আপনার লেখাটা তারা পড়লে উপকার হবে তাদের। এখানে কারও উপকার হবে বলে মনে হচ্ছে না… সুতরাং এখন নতুন করে ভাবুন লেখাটা কোথায় দিবেন….

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

79 − 70 =