বাবার হাতে Nokia ফোন, ছেলের হাতে I-Phone

আজ অর্থনীতি ক্লাসে শাওন ‘উপযোগ’ কী তা শিখেছে।এটাও শিখেছে স্থান,কাল,ব্যক্তিভেদে উপযোগের অপরিহার্যতার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
?efg=eyJpIjoidCJ9&oh=032594d1939c958bc51aa98b7b34445c&oe=597166D2″ width=”500″ />
বন্ধুদের সাথে কথা বলতে বলতে হলে যাচ্ছে শাওন।
তখন শাওনের ফোন বেজে উঠলো।
ক্রিং ক্রিং ক্রিক্রি ক্রিং ক্রিং…..
কলটা রিসিভ করলো, তবে একটু দেরী করে।
রাস্তার আড্ডা শেষ করে সবাই যার যার হলে ফিরলো।

এমনিতে শাওন প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন পড়ে নেয়।
সন্ধা হলে তার দেখা মিলে হলের রিডিং রুমে।

রিডিং রুমে দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সময় চোখ পড়ে একটা ছোট পোস্টারের দিকে।
পোস্টারটা এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে সবার দৃষ্টিগোচর হয়।

পোস্টারটিতে লাল রং দিয়ে লেখা ‘রিডিং রুমে মোবাইল ফোন বন্ধ/সাইলেন্ট মুডে রাখুন’।

কোনো কারণে শাওনের ফোন সাইলেন্ট মুডে থাকলে রিডিং রুমে ঢুকার সময় সেটা জেনারেল মুডে করে নেয় অনেকটা ইচ্ছাকরে!

নিরব-নিস্তব্ধ রুমে যখন সবাই পড়তে ব্যস্ত তখন শাওনের ফোন বেজে উঠলো।
ক্রিং ক্রিং ক্রিক্রি ক্রিং ক্রিং…..

শব্দহীন রুমে ফোনের আওয়াজ শুনে সবাই তাকালো।
আর ‘I-Phone’ এর রিংটোন হওয়ায় সবাই আরেকটু গুরুত্ব দিলো।
শাওন মনে মনে উদ্দেশ্যপূর্তির হাসি হেসে ফোন হাতে বাইরে বের হয়ে কথা বলতে থাকলো।

এই অভ্যাস বা বদঅভ্যাসটা শাওন গত দুমাস ধরে লালন করে আসছে।
গুরুত্বপূর্ণ মিটিং বা ক্লাস রুম কিংবা মসজিদে নামাজ পড়ার সময়, কোনো অবস্থাতেই যেনো তার ফোনটা সাইলেন্ট মুডে থাকে না!

তার ফোনের ব্রান্ড ভ্যালুটা সবাইকে জানানোর জন্য তার এ সফল(!) প্রচেষ্টা।

ঐ দিকে শাওনের পিতা আজগর আলী,ছেলের প্রতিটি চাহিদা মেটানোর চেষ্টায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
দুপুরের খাবারের পর যখন মনটা চায় একটুখানি বিশ্রাম নিতে তখন মনের ইচ্ছাকে মাটিচাপা দিয়ে বেরিয়ে পড়েন রিক্সা নিয়ে।
আরো সামান্য টাকা উপার্জন করতে পারলে হয়তোবা মাস শেষে ছেলের হাতে কিছু বেশি টাকা দেওয়া যাবে সেই আশায়।

একবার একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবে শাওন।
তখন তার শখ হলো Apple এর একটা Bluetooth কানে দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে হাটলে সবাই তার দিকে আরেকটু আগ্রহ নিয়ে তাকাবে।
আসলে হলো ও তাই।।

সেবার মাসের শুরুতে আজগর আলী (শাওনের বাবা) গত মাসের তুলনায় শাওনের কাছে ৫০০ টাকা বেশি পাঠান।
মনে মনে বিরাট ফূর্তিতে আছেন, এ মাসটায় ছেলেটা আরেকটু ভালোভাবে চলবে।

সে মাসেই শাওন বায়না ধরলো Apple এর Bluetooth কেনার।
২০০০ টাকার ঘাটতি রয়ে গেছে।
কিভাবে বাবাকে টাকার কথা বলবে ভেবে পাচ্ছিলো না।
শেষমেশ টাকা পাওয়ার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিলো।

বাবাকে ফোন দিয়ে বললো, “একটা পরীক্ষা দিতে আগামীকালের মধ্যে আমার দুহাজার টাকা লাগবে। সময়মতো পরীক্ষা দিতে না পারলে এবছর আমি পাশ করতে পারবোনা।”

আজগর আলী সাহেব যেনো আকাশ থেকে পড়লেন।
ছেলের পড়ালেখাতে যাতে ক্ষতি না হয় সেজন্য সম্ভাব্য সকল দেনাদারের কাছে ধার আনতে গেলেন।
কিন্ত ব্যর্থ হয়ে বাসায় ফিরলেন।

শেষমেশ শাওনের দেয়া ‘নির্দিষ্ট সময়ের’ মধ্যে অবশ্য টাকাগুলো বিকাশ করে পাঠান আজগর আলী।

টাকা পাঠিয়ে শাওনকে কয়েকবার ফোনও করেন তিনি।
কিন্ত,শাওন ফোন ধরে নি।
হয়তোবা তখন তার আশেপাশের মানুষগুলোকে আইফোনের রিংটোন শোনাচ্ছিলো।

আজগর আলী অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকলেন…।
কখন তার মোবাইলে আকাঙ্ক্ষিত সেই নোকিয়ার বিখ্যাত ক্রি ক্রি ক্রি ক্রি ক্রি ক্রি ক্রি ক্রিং… টোনটি বেজে উঠবে।

টোনটা ভেজে উঠলো, তবে ১ দিন পরে।
শাওন পরীক্ষার খবর কিংবা টাকা পেয়েছে কিনা সে খবর না জানিয়ে অন্য প্রসঙ্গে কথাটি ঘুরিয়ে নিলো।
একবারও জানতে ইচ্ছা করেনি তার বাবা টাকাগুলো কিভাবে দিয়েছেন।

বস্তত, শাওনের বাবা টাকাগুলো নিজের রক্ত বিক্রি করে তাকে দিয়েছিলেন!

এবার মার্কেটে I-Phone 7 আসছে।
শাওনের ইচ্ছা করছে তার ফোনটা Update দিতে।

পুনশ্চ : শাওন কি পারবে তার ফোনটার আপডেট ভার্সন কিনতে?
হয়তোবা পারবে!

কয়েকদিন আগে দেখলাম এক লোক I-Phone 7 কেনার জন্য নিজের কিডনি বিক্রি করেছে।

শাওনকে খুশি করার জন্য নিরবে তার বাবাও হয়তোবা নিজের কিডনি বিক্রি করে দিতে পারেন!!!
ম্যোরাল : বাবাদের ফোনগুলো আর আপডেট হয় না।Nokia-1200 ই থেকে যায়!
ব্যক্তিভেদে উপযোগের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

32 − = 25