বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর কোনো প্রয়োজন আছে কি?

বাংলাদেশ এখন তিন লক্ষ সেনাবাহিনী বসিয়ে বসিয়ে বেকার ভাবে পুষছে। দেশের ১০-১১ হাজারের মতো সেনাবাহিনী বাইরে গিয়ে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে নিয়োজিত আছে। আচ্ছা এই তিন লক্ষ সেনাবাহিনী ও তাদের পরিবারের মাগনা ব্যয় ভার বহন করার কোনো মানে আছে রাষ্টের? ঠিক কোন কারণে দেশের অর্থ নষ্ট করে এসব সেনাবাহিনী পুষে রাখবে? প্রতি বছর বাজেটের পাল্লাটা দেখি সেনাবাহিনীর দিকেই বেশি ঝুঁকে। মানে সেনারা বাজেট বেশি পায়। অথচ এই দেশে শিক্ষার অবকাঠামো ব্যবস্থার বেহাল দশা। এই শিক্ষার বেহাল দশার সুযোগ নিয়ে প্রাইভেট প্রাইমারি স্কুল থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, এমন কি ৩-৪ কক্ষ নিয়ে একেকটি বিশ্ববিদ্যালয় দেদারছে শিক্ষা বানিজ্য করে যাচ্ছে! এই দেশে দেখি যত সার্টিফিকেটের কারবার। চিকিৎসা ব্যবস্থা বলতে গেলে তো আরো করুন। এদেশে মেডিকেল গুলোতে এম আর আই পরীক্ষা করার যন্ত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। অপারেশন করার মতো কোনো একটি উপযুক্ত ও.টি নেই। সাধারন মানুষের প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা আর প্রাইভেট ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করাতে করাতে দীর্ঘশ্বাস বের হয়। কি গো অর্থমন্ত্রী মাল সাহেব এগুলি আপনের নজরে আসেনা? সেনাবাহিনীর বাজেট বাড়াইয়া দেশটার কি উন্নতি করতাছেন?

সেনাবাহিনীর হলো একটা গনতান্ত্রিক দেশের জন্য বিষফোঁড়া। বাংলাদেশ দেশের জন্য তো বরাবরই বিষফোঁড়া। অতীতে আমরা দেখেছি জিয়া-এরশাদরা কিভাবে সেনাবাহিনী থেকে এসে ক্ষমতা দখল করেছিল। তাই এই ভয়ে আমাগো তথাকথিত গনতান্ত্রিক সরকাররা সেনাবাহিনীকে নমো নমো করে চলে। কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিতরে তনুকে প্রথমে ধর্ষন, পরে হত্যা করা হয়েছিল। এর হদিশ এখনো দিতে পারেনি এই রাষ্ট। তার কারণ দোষত্রুটি ধরে সেনাদের চটাতে চায় না সরকার। যদি ক্ষমতা কেড়ে নেয়? এই যদি হয় সেনাবাহিনীর প্রতি রাষ্ট্রচালকের দুর্বলতা, তাহলে সেনাবাহিনীকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার বাজেট দিয়ে, জল সার দিয়ে তাদের শেকড়ের ভিত্তি মজবুত করা কেন? আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে একটা কথা প্রায়ই শুনি, -বাংলাদেশের সেনাবাহিনী জাতিসংঘের মিশনে গিয়ে বিদেশের মাটিতে শান্তির নিদর্শন স্বরুপ কাজ করছে। তারা জাতিসংঘের শান্তি মিশনের সম্মান বয়ে আনছে। তা ঠিক। কিন্তু আমাদের সেনাবাহিনীরা যে পার্বত্য চট্টগ্রামে (বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি) পাহাড়ের চুড়ায় চুড়ায় ক্যাম্প তৈরি করে, বন্দুকের নল আদিবাসীদের বুকের উপর তাক করে টহল দিচ্ছে, আদিবাসীদের জীবন-যাপন ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলছে, অবশেষে আদিবাসীদের স্বাধীন জীবন যাত্রাকে ব্যাহত করছে। একথা আমরা রাষ্ট্র পক্ষের কারো কাছে শুনি না।

১৯৭১ সালে মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে সেনাবাহিনী গঠিত হয়েছিল। হ্যাঁ সেই সময় মুক্তিযুদ্ধের স্বার্থে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন ছিল। জেট ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্স, কি কি যেন গঠিত হয়েছিল। কিন্তু এখন সেনাবাহিনীর প্রয়োজন আছে কি? আমরা কার সাথে লড়াই করার আশায় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছি? আর এই আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মানুষের বন্দুক বন্দুক যুদ্ধ খেলায় মেতে উঠার প্রচলন আছে কি? ইসরাইয়েল আমেরিকা, রাশিয়া দেশগুলো এখন ঘরে বসেই সুইচ টিপে যুদ্ধ করার সামর্থ অর্জন করেছে। আমরা কি কখনো তাদের সমদক্ষ হবো? যেখানে আমাদের বদ্বীপীয় মানচিত্রকে চারিদিক থেকে ভারত রাষ্ট্রটা ঘিরে রয়েছে। সেখানে আমাদের তিন তিন লক্ষ সেনাবাহিনীকে পুষে রাখার কি দরকার? এরা রাষ্ট্রের ঠিক কোন অর্থনীতি জিডিপির প্রবৃদ্ধি হারটা বাড়ায়? এরা বসে বসে বেতন নিয়ে উল্টো অর্থনীতি লোকসান করছে না?

আমি মনে করি এদেশে কোনো সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই। যেটার বেশি প্রয়োজনবোধ করি তা হল শিক্ষা। অন্ধকার বর্জিত শিক্ষাই পারে যত রকম মানুষের বর্বর ও ধর্মান্ধতা চেতনাকে মুছে দিতে। এদেশে যে কোমলমতি শিশুটা দারিদ্র পরিবারে জম্ম নিচ্ছে, সেই শিশুর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে কোলে করে নিয়ে আসছে মাদ্রাসায়। তাকে পড়ালেখা শিখিয়ে শিক্ষিত করবে বলে। কিন্তু মাদ্রাসায় এই শিশুকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রগতি ও মানবিক শিক্ষা থেকে অনেক দুরে রাখা হয়। তাকে শিক্ষা দেয়া হয়, কিভাবে ইসলামি জীবন-যাপন করতে হবে। কিভাবে অমুসলিমদের বিরূদ্ধে জিহাদ করে আল্লার পথে থাকতে হবে। কিভাবে সারাক্ষন অমুসলিমদের ঘৃণা করতে হবে। আর জিহাদ করলে, আল্লা ও ইসলামের পথে যুদ্ধ করলে কিভাবে জান্নাত পাওয়া যায়, কিভাবে ৭২ হুরের অধিকারপ্রাপ্ত হয় তা একটা শিশুর মস্তিষ্কে মন্ত্রের মতো জব করিয়ে করিয়ে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। তো সেই শিশু বড় হয়ে ইসলামি জঙ্গি না হয়ে ভালো মানুষ হবে? মানবিক হবে? অন্য ধর্মাবলম্বীর প্রতি সহিষ্ণু হবে? না, তা হবার সুযোগ সেই শিশুটির নেই। কারন তার মানবিক সম্পর্কে জানার কোনো সুযোগই তো দেয়নি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

আজ যে সরকার শত শত কোটি টাকা সেনাবাহিনীর উন্নয়নের বাজেটে ঢালছেন, তার যদি অর্ধেক বাজেটে শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার জন্য ঢালতেন তাহলে আমাদের আগামীর জঙ্গিবাদ নিয়ে এতো আতংকিত হতে হতো না।

–যেদেশে ধর্মান্ধ মানুষ যত বেশি জম্ম নেয়, সেখানে ধর্মরাজনীতি তত বেশি প্রাধান্য পায়। সেখানে ধর্মানুভূতিতে আহত হবার সুঁড়সুড়ি দেয়া জমে ভালো। সেখানে পাঁচশ মসজিদ করার প্রতিশ্রুতি, মদিনা সনদে রাষ্ট্র পরিচালনার কথাগুলো চলে ভালো। তাই তো শেখ হাসিনা সরকার শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিয়ে একটি অর্থহীন সেনাবাহিনীকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এদেশের অধিকাংশ মানুষ শিক্ষিত ও সচেতন হলে মোটা দাগে অবৈধ ক্ষমতাসীনদেরই ক্ষতি। শিক্ষিত সচেতন মানুষকে তো আর ধর্মের বড়ি খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা যাবে না! তাই না?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 1 =