ধর্ষণের পরে করণীয়সমূহ: একটি সহি বিধান

এই দেশে কিছু লোকের একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে হুদাই চিল্লানো। এই যেমন এখন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য সরকার বাহাদুর যে যুগান্তকারী আইনটা করলো সে নিয়ে হুদাই চিল্লাফাল্লা করে যা তা করতেসে। এই ক’দিন ছিল সুন্দরবন। সুন্দরবনরে রামপালরে দিয়া রেইপ করানোর আয়োজনটা যখন সুন্দরমত গুছিয়ে আনা হল, তখন শুরু হইলো চিল্লানি। তো সেই চিল্লানি থামেই না। আরে বাবা, সুন্দরবন তো সুন্দর বন! আর রামপালের কি অনুভূতি টনুভূতি নাই নাকি, সে কি জাগ্রত হবে না নাকি? কী পাইছো? সুন্দরীকে ধর্ষণ করলে পাপ হয়, কে কইসে তোমাদের? তোমরা বুঝো না?



এই দেশে কিছু লোকের একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে হুদাই চিল্লানো। এই যেমন এখন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য সরকার বাহাদুর যে যুগান্তকারী আইনটা করলো সে নিয়ে হুদাই চিল্লাফাল্লা করে যা তা করতেসে। এই ক’দিন ছিল সুন্দরবন। সুন্দরবনরে রামপালরে দিয়া রেইপ করানোর আয়োজনটা যখন সুন্দরমত গুছিয়ে আনা হল, তখন শুরু হইলো চিল্লানি। তো সেই চিল্লানি থামেই না। আরে বাবা, সুন্দরবন তো সুন্দর বন! আর রামপালের কি অনুভূতি টনুভূতি নাই নাকি, সে কি জাগ্রত হবে না নাকি? কী পাইছো? সুন্দরীকে ধর্ষণ করলে পাপ হয়, কে কইসে তোমাদের? তোমরা বুঝো না?

তো যাই হোক, হাইপোথকিক্যাল কথা বাদই দিলুম না হয়। মানবী ধর্ষণের কথাই কই। দেশ জুড়ে যে হারে নারী বেড়ে গেছে, মানে ওই আর কি, পুত্র সন্তান চেয়ে চেয়ে ঘর ভরে গেছে কন্যায়। আর সেইসব কইন্যারা বড় হয়ে উঠলেই আশেপাশের পুরুষের চোখে পড়ছে। এহেন পরিস্থিতিতে ধর্ষণ টর্ষণ টুকটাক ঘটবে। আরে বাবা, ও তে ওড়না, হ তে হিজাব, ব তে বুরখা, ঘ তে ঘোমটা, ই তে ইজ্জত- কত পড়া শেখালুম, তবু হুশ হয় না মেয়েগুলার। বেপর্দা চলছে। যদিও গার্মেন্টস থেকে আয় হচ্ছে। তা হোক। সে আলাদা হিসাব। গার্মেন্টস খাতে পর্দা বাধ্যতামূলক নয়। আবার যৌনপল্লী খাতেও নয়। দুই খাতেই চাহিদা বেশুমার। তো দুইটাই থাকবে। এখানে ধর্ম, বিধান, পর্দা, আব্রু- কিসসু লাগে না। আয় হয়, কাম হয়, তৃপ্তি হয়। তো চলুক।

আমরা কইতে চাইছি কি, মেয়েরা ধর্ষিত হবেই। আরে বাবা, শরীর দিসে আল্লায়, সেই শরীর দেখে পুরুষের শরীর গরম হবে, তখন কি সে গিট্টু মেরে ঘরে বসে থাকবে না কি? ধর্ষণ করবে না? আরে বাবা বুঝতে হবে। এই যে আমারদের মন্ত্রী মিনিস্টার, এমপি, নেতারা। এরাও তো। ধরেন গিয়া ইন্টারভিউ নিতে যে কচি মেয়ে সাংবাদিকটা যায়, তারও পিঠে এট্টুখানি হাত বুলায়ে দেয়, কয়, ‘কী…কই থাকো? সংসার নাই, বেবি নাই, কাজটাই করবা এখন, আসবা, যোগাযোগ রাখবা, কী বলো?’ বলে আর হাত বুলায়। তো মন্ত্রী মিনিস্টারের ব্যাপার। যাই হোক, আমরা এইসব না কই, আমরা বরং কই সেইসব পুরুষের কথা, যারা বহু কষ্টে থাকেন। বাড়িতে বউ বুড়ি হইসে। তো বউ দিয়াই বা আর কত। তাই যুবতী অথবা বাচ্চা মেয়ে লাগে। ধর্ষণের ইচ্ছা জাগে। আবার ধরেন, যেই মেয়েটা ইশকুলে যায়, সে তো যায়, কিন্তু ইশকুলের সামনে যে বখাটে দাঁড়ায়ে শিস মারে, সে আর কতদিন শিসটাই শুধু মারবে, কনতো? তার কি শরীর বলে কিছু নাই? তারও শরীর গরম হয়। এখন ধরেন অপহরণ কইরা নিয়া গেল মাইয়াডারে, তারপর রাতভর ধর্ষণের পর ছাইড়া দিল। কাহিনী কি সেখানেই শেষ? না গো। মেয়ে তো গর্ভবতী হয়ে যাবে। তখন কী করবা? গর্ভপাত? ছি ছি ছি! এ তো পাপ! ধর্ষণ তো হয়েই গেছে, যা হবার তাই হইসে! এখন ভাবো ক্যামনে সমাধান করা যায়। ওই বখাটের বাপ বিরাট শক্তিধর, ইলেকশানে দাঁড়াবে সামনে, ট্যাকা পয়সার পাহাড়। তার সাথে পারবা? আরে বাবা এত শক্তিক্ষয় করারই বা কি? মেয়েই তো, নাকি? তো মেয়েটারে একটু খেয়ে দিয়েছে। মেয়েমানুষ চোখের সামনে ড্যাং ড্যাং করে ইশকুলে গেলে এমনুই হয। বুঝতে হবে। অপরাধ তোমারই, তুমি মেয়েরে পর্দার মধ্যে রাখো নাই।

তো এমনে বুঝায়া সুঝায়া মেয়েটার বিয়ের বন্দোবস্ত করে ফেলা যাবে ওই বখাটের সাথে, কিংবা ওই মধ্যবয়সী লোকটার সাথে, কিংবা ওই ঘাটের মরা লিকলিকে বুড়োটার সাথেও। কিন্তু আইন কড়া থাকলে হপে? আরে বাবা মেয়ের বয়স সবে চৌদ্দ। এই মেয়েরে আইনের ফাঁক গলায়া বিয়ে দেবা, সে তো আরেক হ্যাপা। এদিকে পেটে বাচ্চা, সমাজে কলংক। মেয়ের তো ইজ্জতই নাই। ইজ্জত না থাকলে মেয়ের থাকে কি? থাকে দুইটা জিনিস। হয় বিয়ে, নয় গলায় দিয়ে ঝুলে পড়ার জন্য দড়ি। এখন তুমি কি চাও? কও? বিয়েটাই ভালো না? আরে বাবা, আগের যুগে তো সেই তেরো চৌদ্দ কি এগারো বারোতেই বিয়ে হইতো, নাকি? সেইসব সুন্দর ঐতিহ্য ধুয়ে মুছে দিলা তো আইন কইরা। এখন ঠ্যালা বুঝো। মেয়ে যত বাইরে যায়, তত ধর্ষণ বাড়ে। ডাঙ্গর মেয়ে ঘরে পালার শাস্তি। এখন বুঝো। তো পুরুষ মানুষ, একটু তো এদিক ওদিক করবেই। দোষ তো মাইরার। এখন যা করা হইসে, সবই মেয়ের ভালোর জন্য। ‘বিশেষ বিধান’- এই বিধান মেয়ের পবিত্রতা রক্ষা করবে। এই বিধানের অপর নাম সহি বিধান। একদম শতভাগ হালাল বস্তু। তো তরিকা মোতাবেক আপনি মেয়ের ভ্যাজাইনার পবিত্রতা শতভাগ নিশ্চিত করতে পারবেন। মানে আর কি, যে ধর্ষণ করে গেছে, ভ্যাজাইনা তারেই দিয়া দিলেন, পূর্ণ মালিকানা। মেয়ে আর হাত বদল হইলো না। কী সুন্দর সমাধান। বুঝলেন এতক্ষনে? যাক। বুঝাইতে পারছি। আরে বাবা, ক্ষমতার দাপটে টিকতে পারবেন? টাকা, রাজনীতি, পুরুষতন্ত্র, ধর্ষণতন্ত্র, ধর্মতন্ত্র, শফীতন্ত্র, শরীরতত্ত্ব, ভ্যাজাইনাতত্ত্ব, পবিত্রতাতত্ত্ব, ইজ্জত কি সাওয়াল- সব সমন্বয় করেই না চলতে হয় আমাদের। নাহলে পরের বার ইলেকশানটা… উফফ, আর কত ভেঙ্গে বলতে হবে বাবা? বুঝে নেন বুঝে নেন। মেয়েরে ও তে ওড়না পরান, আর ব তে বিবাহ দিয়ে ঘ তে ঘরে পাঠাইয়া প তে পুত্রসন্তান জন্মদানের জন্য প্রস্তুত করেন। সব কিছু নিয়া চিল্লাফাল্লা একটা বাজে অভ্যাস। চুপ থাকেন!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 8 = 11