সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে

শুধু উৎপাদন বাড়ানোই নয়, নিরবচ্ছিন্নভাবে সারা দেশে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সঞ্চালন ব্যবস্থার ওপরও জোর দিয়েছে সরকার। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ছিল তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে প্রায়ই দিনের বেলায় বিদ্যুৎ থাকত না, রাতের অবস্থা ছিল আরো খারাপ। সাড়ে সাত বছরে উৎপাদনক্ষমতা প্রায় চার গুণ বেড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। এর সুফল শুধু ঢাকা বা বড় শহরগুলোই পায়নি, দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া। ১৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা অর্জনকে সরকার ঘটা করে উদযাপন করতে চায়। বছর আটেক আগে দিনে গড়ে ১৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হতো। বিদ্যুৎ মাঝেমধ্যে আসত। মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানের নির্দেশ দেন। অতঃপর তিন ধরনের পরিকল্পনা করা হয়। স্বল্প মেয়াদে ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, মধ্যমেয়াদে মাঝারি ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও দীর্ঘ মেয়াদে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। সরকারের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা ১৩ হাজার মেগাওয়াট। ভারত থেকে আসছে ৬০০ মেগাওয়াট। দেশি শিল্প উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে ক্যাপটিভ পাওয়ার। সব মিলিয়ে উৎপাদনক্ষমতা ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। প্রতিবছর বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা অর্জন করতে চায়। আর ২০৩০ সালের মধ্যে এ ক্ষমতা ৪০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে লোড শেডিং কি জিনিস তা বাংলার মানুষ ভুলে যাবে যা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 2